বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুই সপ্তাহের জন্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এই নৌপথটি পুনরায় সচল করার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হলেও এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি থামছে না।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যার মূল শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করা। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি এই বৈশ্বিক নৌপথের অবরোধ তুলে না নেয়, তবে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে।
তবে চুক্তির পরদিনই বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরান এক চরম হুঁশিয়ারি জারি করেছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করছেন যে প্রণালীটি ‘অবিলম্বে’ খুলে দেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, নৌপথটি সচল করার বিষয়টি ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে জানানো হয়েছে এবং এর বিপরীত কোনো খবর সত্য নয়।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সমুদ্রতলে পেতে রাখা মাইন থেকে সুরক্ষা পেতে জাহাজগুলোকে নির্ধারিত রুট মেনে চলতে হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নতুন মানচিত্র অনুযায়ী, ওমান সাগর থেকে আসা জাহাজগুলোকে লারাক দ্বীপের উত্তর দিক দিয়ে পারস্য উপসাগরের দিকে যেতে হবে। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজগুলোকে লারাক দ্বীপের দক্ষিণ দিক দিয়ে ওমান সাগরের পথে চলতে হবে।
বিশ্বের তেলের বাজার ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ভয়েস/আআ