রবিবার, ২৬ Jul ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
নেপাল ৪০ দেশের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমন্ত্রিত হলেন ইরফান উদ্দিন ইরো প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এখনো আওয়ামী লীগ আমলের আধিপাত্য ধরে রেখেছে দোসর ফারুক! জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়: ডা. শফিকুর রহমান সম্ভাব্য আলোচনায় রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা স্পিকার হাফিজ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি ইসির আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত:স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মামদানি জানালেন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা আইনশৃঙ্খলা সভায় আওয়ামী দোসর ফারুক, রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভ

গোনাহ মাফের মাধ্যম

ধর্ম ডেস্ক:
তওবা আরবি শব্দ। অর্থ অনুশোচনা করা, আল্লাহর কাছে ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা। পাপ থেকে তওবা করা (চিরতরে প্রত্যাবর্তন) ওয়াজিব (অবশ্য-কর্তব্য)। যদি গোনাহের সম্পর্ক আল্লাহর (অবাধ্যতার) সঙ্গে থাকে এবং কোনো মানুষের অধিকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকে, তাহলে এ ধরনের তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে।

সেগুলো হলো ক. পাপ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা, খ. পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া এবং গ. ওই পাপ আগামীতে দ্বিতীয়বার না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করা। তওবার ক্ষেত্র যদি উল্লিখিত শর্তের একটিও না পাওয়া যায়, তাহলে ওই তওবা শুদ্ধ হবে না।

পক্ষান্তরে পাপ যদি মানুষের অধিকার সম্পর্কিত হয়, তাহলে তা কবুল হওয়ার জন্য চারটি শর্ত রয়েছে। উল্লিখিত তিন শর্তের সঙ্গে চতুর্থ শর্ত হলো হকদারদের হক ফিরিয়ে দেওয়া। যদি অবৈধপন্থায় কারও সম্পদ বা অন্যকিছু নিয়ে থাকে, তাহলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। আর যদি কারও ওপর মিথ্যা অপবাদ দেয় কিংবা অনুরূপ কোনো দোষ করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে শাস্তি নিতে নিজেকে পেশ করতে হবে অথবা তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

সব ধরনের পাপ থেকে তওবা করা ওয়াজিব। আংশিক পাপ থেকে তওবা করলে ওই তওবা হকপন্থী আলেমদের কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে এবং অবশিষ্ট পাপ রয়ে যাবে। তওবা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোরআন-হাদিসে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে এবং এ ব্যাপারে উম্মতের ঐকমত্যও বিদ্যমান।

ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’সুরা নুর : ৩১

‘তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের কাছে (পাপের জন্য) ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তার কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) করো।’সুরা হুদ : ৩

‘হে ইমানদাররা! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো, বিশুদ্ধ তওবা।’ সুরা তাহরিম : ৮

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহর কসম! আমি প্রত্যেহ ৭০ বারের অধিক আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও তওবা করি।’ সহিহ বোখারি : ৬৩০৭

ইবনে ইয়াসার মুযানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সমীপে তওবা কর ও তার কাছে ক্ষমা চাও! কেননা, আমি প্রতিদিন ১০০ বার করে তওবা করে থাকি। সহিহ মুসলিম : ২৭০২

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় হওয়ার পূর্বে তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা গ্রহণ করবেন।’ সহিহ মুসলিম : ২৭০৩

যাদের তওবা কবুল নিশ্চিত

এমন কিছু সময় ও পর্যায় রয়েছে, যখন নিশ্চিতভাবে তওবা কবুল হয়। ওই সময়ে কেউ ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে ফিরিয়ে দেন না। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আল্লাহ তওবা কবুল করেন কেবল সে সব লোকের, যারা অপরাধ করে অজ্ঞতাবশত; অতঃপর তাড়াতাড়ি তওবা করে।’ সুরা আন নিসা : ১৭

না জেনে কেউ ভুল করে তৎক্ষণাৎ তওবা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন বান্দা গোনাহ স্বীকার করে এবং অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে ক্ষমা চায় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন।’ সহিহ বোখারি : ৪১৪১

তওবা ও ইস্তেগফারের দোয়া

উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লাহ। অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।

আমল : প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজে সালাম ফেরানোর পর হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া তিনবার পড়তেন। মিশকাত : ৯৬১

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION