মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক, চকরিয়া:
চকরিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে রাতের আঁধারে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সদ্য বিবাহিত সোহেল রানাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার ইতোমধ্যে ১৯দিন পেরিয়ে গেলে কোন আসামী গ্রেপ্তার হয়নি। এনিয়ে হতাশা ভর করেছে
সোহেলের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে।
অভিযোগ উঠেছে, হত্যা মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে-ফিরছে। এই অবস্থায় সোহেলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার
দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় কয়েকশত নারী-পুরুষ।উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স চত্বরে এই কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নামে তারা।
কর্মসূচীতে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেন মিঠু, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শফিউল আজম, জেলা ছাত্রলীগ নেতা তারেকুল
ইসলাম রাহিত, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সৌরভ মাহাবী, নাঈম বাবু প্রমূখ।
উপস্থিত ছিলেন সোহেলের বাবা রফিক উদ্দিন রকি, শ্বশুর মেহের আলী, মিজানুর রহমানসহ অনেকে।
তারা বলেন, ‘সদ্যবিবাহিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে রাতের আঁধারে পিটিয়ে হত্যা করলো সন্ত্রাসীরা। কিন্তু আজ ১৯দিন পেরিয়ে গেলেও একজন আসামীও গ্রেপ্তার করা হয়নি। আসামী গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশের তৎপরতা না থাকায়
খুনিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে এবং মামলার বাদীসহ স্বজনদের প্রকাশ্যে হুমকিও দিচ্ছে। এই অবস্থায় পুলিশের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, আপনারা সোহেল হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার করুন।’
হত্যাকাণ্ডের দুইদিনের মাথায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ক্ষুদ্ধ হাজারো লোকজন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। ওইসময় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু
হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি থানাসেন্টার হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা রাস্তার মাথার সিস্টেম কমপ্লেক্সের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশও করে তারা। ওইসময় থেকে খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মাঠে ছিল তারা।
প্রসঙ্গত গত ২৮ নভেম্বর দিবাগত রাতের আঁধারে চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী হাজিপাড়ায় জমির বিরোধের জের ধরে একা পেয়ে সদ্য বিবাহিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানাকে (২৮) নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। বিয়ের মাত্র ২৪ দিনের মাথায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন চকরিয়া পৌরসভা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক সোহেল রানা।
এ ঘটনায় সোহেলের বাবা রফিক উদ্দিন রকি বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ ১৫ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারনামীয় আসামীরা হলেন
পৌরসভার ভরামুহুরী গ্রামের মৃত আহমদ শফির ছেলে নুরুল হোছাইন, মৃত আবুল কাশেমের ছেলে নুরুল আলম, মৃত আবদুল মজিদের ছেলে কফিল উদ্দিন, ওয়ার্ডের
পালাকাটা কাসেম মাষ্টার পাড়ার মাষ্টার আবুল কাসেমের ছেলে সাইফুল ইসলাম, ভরামুহুরী হাজিপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে নুরুল ইসলাম, নুরুল ইসলামের ছেলে
মো. আইয়ুব, নুরুল আলমের ছেলে মো. হাসান, আলী হোছেনের ছেলে আবুল বশর, আবুল কাশেমের ছেলে আবু ছিদ্দিক।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, ‘পুলিশ এই হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে খুবই আন্তরিক। কিন্তু সকল আসামী আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সক্ষম হবে।’
ভয়েস/আআ