মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের দৃশ্য জিকির উল্লাহ জিকু:
এই শহরে যারা ছোটবেলায় পড়েছিল, ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলেছে, রাত দুপুরে অই। ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে, ট্রেনের বাড়ি কই ? সেই ট্রেনের বাড়ি হতে চলেছে এখন কক্সবাজারে। সূত্র মতে ২০২২ সালের মধ্যেই শুনবে ট্রেনের আওয়াজ এই শহরের মানুষ। হবে না হবে বন্দর এমন আশংকা উড়িয়ে দিয়ে গেল ২৯ ডিসেম্বর অধরা স্বপ্ন বাস্তবে দেখেছে মাতারবাড়িতে প্রথম আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’এর অবতরণ। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে “বিশেষদৃষ্টিতে” উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়নে পিছিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
সুত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দৃষ্টিতে কক্সবাজারকে ঘিরে নেয়া হয়েছে ২৫টি মেগা প্রকল্প সহ ৭৭টি উন্নয়ন প্রকল্প। এসব প্রল্পের মধ্যদিয়ে কক্সবাজারকে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। যা জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশ কক্সবাজারের আয় থেকে যোগান হবে।দ্রুত এগিয়ে চলা এসব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার হবে একটি উন্নত ও পরিপূর্ণ পর্যটন নগরী। উন্নয়ন কাজ তরান্বিত করতে উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপুরনের চেক হস্তান্তরে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
বর্তমানে কক্সবাজারকেই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে বর্তমান সরকার। সূত্র জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দৃষ্টিতে কক্সবাজারকে উন্নয়ন ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই কক্সবাজারে ধারাবাহিক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। এসব প্রকল্পের মধ্যদিয়ে কক্সবাজারকে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কক্সবাজারে নেয়া হয়েছে ২৫টি মেগা প্রকল্প সহ ৭৭টি উন্নয়ন প্রকল্প। এসব প্রকল্পে ৩ লক্ষ কোটি টাকার অধিক বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ৭৭টি প্রকল্পে প্রায় ১৪ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপুরণ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৬৯৪ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৩ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৩ টাকার চেক ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে প্রদান করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপুরনের চেক হস্তান্তরে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। জমি মালিকদের অত্যন্ত সচ্ছতার মাধ্যদিয়ে ক্ষতিপুরনের টাকার চেক প্রদান করা হয়। এমনকি জমি মালিকদের এলাকায় সরেজমিনে গিয়েও চেক প্রদান করা হয়। কোন হয়রানি ছাড়া ক্ষতিপুরণের টাকার চেক পেয়ে খুশি জমি মালিকরা।
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প সহ জেলায় ৭৭ টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত জমি মালিকদের অত্যন্ত সচ্ছতার মাধ্যদিয়ে ক্ষতিপুরনের টাকার চেক প্রদান করা হয়। এমনকি জমি মালিকদের এলাকায় সরেজমিনে গিয়েও চেক প্রদান করে আসছি। মামলা ও অভিযোগের কারনে কিছু টাকার চেক দেয়া বাকি রয়েছে। এসব বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের আবেদনপত্র শুনানি গ্রহণ শেষে, প্রকৃত জমি মালিকদের কাছে ক্ষতিপুরণের টাকার চেক দেয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন, আমরা সবসময় বিস্বাস করিযে, জনগনকে প্রকৃত সেবা দেয়ার প্রক্রিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময় করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় জেলায় যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের অধিগ্রহণ কাজ চলছে, সেটাকে আরো জনমুখি করা, স্বচ্চতার সহিত, দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত ক্ষতিপুরণ প্রদানে কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। কোন মধ্যস্বত্বভোগি ছাড়াই জমি মালিকরা নিজে আবেদন করে ক্ষতিপুরণের চেক প্রহণ করেন।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন কক্সবাজার ভয়েস.কম বলেন, কক্সবাজারে চলমান ৭৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যদিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে।দ্রুত এগিয়ে চলা এসব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার হবে একটি উন্নত ও পরিপূর্ণ পর্যটন নগরী। এমনটাই স্বপ্ন দেখছে পর্যটন শহরের মানুষ।
ভয়েস/জেইউ।