সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

কক্সবাজার জেলায় অর্ধশতাধিক ইটভাটায় ছাড়পত্র নেই

আবদুল আজিজ:
পরিবেশ আইন অমান্য করে কক্সবাজার জেলায় গড়ে উঠে অবৈধ ইটভাটা। জেলার শতাধিক ইটভাটার মধ্যে ৬২টিরও বেশী ইটভাটায় কোন ধরনের পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। ছাড়পত্র নেই কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, বিএসটিআইসহ বিভিন্ন দপ্তরের। কিছু অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের অসৎ কারবারে এতদিন কোন ধরণের ছাড়পত্র নেয়ার দরকার মনে করেনি ইটভাটার মালিকরা। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করে আসলেও অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কক্সবাজারের রামুতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইটভাটায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ৩টি ইটভাটা উচ্ছেদ এবং ১টি ইটভাটাকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। উচ্ছেদ হওয়া অবৈধ ইটভাটা গুলো হচ্ছে, রামুর নুরুল আলমের মালিকানাধীন এন.আর ব্রিকস, জালাল হোসেনের মালিকানাধীন বি.ডি.এম ব্রিকস ও পিএমখালী এলাকার বজল সওদাগরের মালিকাধীন বজল এন্ড কোং ব্রিকস ফিল্ডে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও সদর উপজেলার খরুলিয়ার হামিদুল হকের মালিকানাধীন কক্স ব্রিকস ফিল্ডকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মো: নাজমুল হুদা ছাড়াও সহকারি পরিচালক সংযুক্তা দাশ গুপ্তা, সহকারি পরিচালক মঈনুল হক, পরিদর্শক মাহবুবুল আলম সহ কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ সদস্য, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মো: নাজমুল হুদা কক্সবাজার ভয়েসকে জানান, ‘কক্সবাজার জেলায় প্রায় ১০৫টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৬২টিরও বেশী ইটভাটায় কোন ধরণের পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। এসব ইটভাটা মালিকদের একাধিকবার অবহিত করা হলেও তারা পরিবেশের ছাড়পত্র নেয়নি। তাই সোমবার সকালে অবৈধ ইটভাটায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। প্রথমদিনে ৩টি অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ এবং ১টি ইটভাটাকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অবৈধ অন্যান্য ইটভাটা গুলোতেও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে’।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট সাদিকুর রহমান সবুজ কক্সবাজার ভয়েসকে জানান, ‘পরিবেশ ছাড়পত্র ও ইট পুড়ানোর ছাড়পত্র না থাকায় অবৈধ ইটভাটা ধ্বংসে দেশব্যাপী অভিযান চলছে। এরঅংশ হিসেবে কক্সবাজারেও অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

কক্সবাজারের পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল’র প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘কক্সবাজারে তিনভাগের দুইভাগ ইটভাটা অবৈধ। পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এসব ইটভাটা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এসব ইটভাটা মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। কিন্তু, স্থানীয় প্রশাসন এসব ইটভাটা বন্ধে আন্তরিক ছিলেন না। তাই, এসব অবৈধ মালিকরা দিন দিন তাদের অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। চলমান উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তিনি।’

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু কক্সবাজার ভয়েসকে জানান, ‘ইটভাটার কারণে মারাত্মক বায়ু দূষণ হয়। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু, পরিবেশ বান্ধব ইটভাটা তৈরী করার আইন থাকলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আইন না মেনে দীর্ঘদিন এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু, প্রকাশে এসব ইটভাটার মালিকরা ব্যবসা করে আসলেও রহস্যজনক কারণে উচ্ছেদ অভিযান করেননি।’

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটা পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, বিএসটিআইসহ বিভিন্ন দপ্তরের ছাড়পত্র দরকার হয়। কিন্তু, কক্সবাজার জেলায় যেসব ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে তার অধিকাংশরই কোন ধরণের ছাড়পত্র নেই। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে ম্যানেজ করে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় ইটভাটা গড়ে তুলেছে। কক্সবাজার সদর, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফ ছাড়াও জেলার পার্শ্ববর্তী বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠছে ইটভাটা। এসব ইটভাটা গুলোতে বোল্ড ড্রোজার দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি আহরণ করে বনের অবৈধ কাঠ দিয়ে ইট পুড়ানো হচ্ছে। শতশত শ্রমিক বনসম্পদ কেটে জ্বালানি তৈরি করছে। শ্রমিকদের থাকার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসস্থল। বর্তমানে রোহিঙ্গা বসতি স্থাপনের সুযোগে এনজিওরা নতুন করে আবাসন তৈরি করার কারণে ইটের কদর বেড়েছে আগের চেয়ে দ্বিগুণ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইটভাটার মালিকরা রাতদিন অবৈধভাবে পুড়ানো হচ্ছে ইট। এভাবে গত ২০ বছর ধরে এসব ইটভাটা গুলোতে কোন ধরণের ছাড়পত্র ছাড়া আশেপাশে নির্বিচারে বন জঙ্গল লুটপাট, পাহাড় কর্তণসহ নানাবিদ তান্ডবে বনভূমি লন্ডভন্ড হয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই। ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় আক্রান্ত এলাকাবাসী প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ইট তৈরির কার্যক্রম।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION