সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক:
পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই আজমগীরের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারামতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল পুর্বক স্থাপনা নির্মানের অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীয় ৪০ শতক জমি নিয়ে এম আর মামলা নং- ১৪০/২০২১ইং মুলে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারা জারি করে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত। বাদী নজরুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত এ আদেশ দেন। আদেশের কপি পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিরোধীয় জায়গায় কোন স্থাপনা নির্মান না করা ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিবাদী পক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই আজমগীর ১৪৪ ধারামতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল পুর্বক স্থাপনা নির্মান অব্যাহত রেখেছে।
উক্ত জমি উদ্ধারে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মৃত বশরত আলীর পুত্র হাফেজ নজরুল ইসলাম প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর পুর্বে জমি দখল পুর্বক স্থাপনা নির্মান চেষ্টার বিষয়ে পেকুয়া থানা ও কক্সবাজার যুগ্ন জেলা জজ ২য় আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হাফেজ নজরুল ইসলাম। উক্ত জমির বিষয়ে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ক্রিমিনাল ল এম্যান্ডমেন্ট এর ৪ ধারা অনুযায়ী নালিশী দরখাস্ত, কক্সবাজার যুগ্ন জেলা জজ আদালতে মামলা রয়েছে।
আদালতে দায়ের করা এজাহার ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লা ঘোনার মৃত বশরত আলীর পুত্র হাফেজ নজরুল ইসলামকে ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই অপহরণ করে। পেকুয়া সদর ইউনিয়নের আন্নর আলী মাতাব্বর পাড়ার রমিজ আহাম্মদের পুত্র বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও আজমগীরের নেতৃত্বে অপহরণকারীরা হাফেজ নজরুল ইসলামের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। তাকে জিম্মি করে ৪০ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। যোগসাজসে সাবরেজিস্ট্রারকে আজমগীরের বাসায় এনে উক্ত জমি রেজিস্ট্রি করেন। এসময় মুক্তিপণ হিসাবে নগদ ও চেকের মাধ্যমে সাড়ে ৬ লাখ টাকা আদায় করেন। অপহরণকারীদের হাত থেকে তিনদিন পর ছাড়া পেয়ে চিকিৎসা শেষে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ও এডিএম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। দলিল বাতিল ও জমির উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন নির্যাতিত হাফেজ নজরুল ইসলাম। বিরোধীয় ৪০ শতক জমি নিয়ে এম আর মামলা নং- ১৪০/২০২১ইং মুলে গত ১৩ জানুয়ারি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারা জারি করে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরেও উক্ত ৪০ শতক জমি দখল করে স্থাপনা নির্মান শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই আজমগীর।
হাফেজ নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই আজমগীরের নেতৃত্বে তাকে অপহরণপুর্বক জিম্মি করে জমি রেজিস্ট্রি নেয়া ও সাড়ে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপন নেয়ার পরেও নানাভাবে নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। প্রতিনিয়ত হত্যা সহ নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে জবরদখলকারীরা। অস্ত্রধারী বাহিনীর পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ব্যবহার করে জবরদখল সহ নানা অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে। জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই আজমগীর অস্ত্র সহ গ্রেফতারও হয়েছিল। বর্তমানে ১৪৪ ধারা মতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা আদালতকেউ অমান্য করছে। এমতাবস্থায় তার জমি উদ্ধার ও পরিবার সহ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এ কোরআনে হাফেজ।
ভয়েস/জেইউ।