সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন
এসএম রুবেল, মহেশখালী:
কোন ধরণের নিয়ম কানুন তোয়াক্কা না করেই মহেশখালীতে বাসা বাড়িতে ব্যবহৃত হওয়া এলপিজি গ্যাসে চালানো হচ্ছে সিএনজি গাড়ি। এতে করে যে কোন সময় বিষ্ফোরণের মত বিপদজনক ঘটনা ঘটে যাত্রীদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়েই চালানো হচ্ছে এসব সিএনজি। কিন্তু এই ব্যাপারে প্রশাসনের কোন মাথাব্যাথা নেই।
স্থানীয়রা মনে করছেন বড় কোন দুর্ঘটনার ঘটনার পরেই প্রশাসনের টনক নড়বে। মুলত সিএনজি চালকরা সহজে ও কম খরচে গাড়ি চালানোর জন্যই রান্নায় ব্যবহৃত হওয়া এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে থাকেন বলে জানা যায়। ২৪ জানুয়ারী উপজেলার গোরকঘাটা বাজার, নতুন বাজার, টাইমবাজার সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রত্যেকটি সিএনজিতেই এলপিজি গ্যাস লাগানো আছে। কেউ চালকের সীটের নীচে আবার কেউ যাত্রীদের পিছনে সম্পূর্ণ অরক্ষিত ভাবে এসব গ্যাস সিলিন্ডার রেখেছেন। জানা যায়, এলপিজি গ্যাসে মূলত প্রোপেন বা বুটেন থাকে। এই গ্যাস সহজে বাতাসে মিশতে চায়না। কিন্তু সামান্য বাতাসের সংস্পর্শ পেলেই জ্বলতে শুরু করে এই গ্যাস। মহেশখালীর বিভিন্ন সড়কে উঁচু নিচু গর্ত রয়েছে। গ্রামের ভিতরের রাস্তা গুলোর অবস্থাও খুব খারাপ। অপরদিকে শাপলাপুর হয়ে বদরখালী যাওয়ার প্রধান সড়কটির বিভিন্ন স্থানে রয়েছে উঁচু নিচু গর্ত। এতে করে গাড়ি ঝাঁকুনি দিতে থাকে। এই ঝাঁকির কারণে অরক্ষিত থাকা গ্যাস সিলিন্ডার রেগুলেটর খুলে গিয়ে গ্যাস লিকেজ হয়ে বিষ্ফোরণের মত ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিক দিয়ে মহেশখালী খুব ঝুঁকিতে আছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। এই ব্যাপারে মেহেদী, আবুল কাশেম, জমির সহ কয়েকজন যাত্রী বলেন, “সিএনজিতে উঠতে ভয় লাগে। পিছনে গ্যাসের বোতল রাখা থাকে। আতঙ্কের মধ্যে নিরুপায় হয়ে আমরা সিএনজিতে উঠি।” এই ব্যাপারে রহিম, শফিক ও আবদুল গফুর সহ কয়েকজন চালক বলেন, “এই গ্যাসের বোতল ক্ষতিকর কিনা জানিনা, তবে তেলের চেয়ে সাশ্রয়ী বলে আমরা ব্যবহার করি। আমরাতো লাভের বিষয়টিই আগে দেখবো। কই, এখনো মহেশখালীতে কোন সিএনজিতে বিস্ফোরণ ঘটেনি।”
বিষয়টি নিয়ে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল হাই জানান, গ্যাসের সিলিন্ডার অরক্ষিত থাকার বিষয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু গ্যাসের বিষয় তাই এই বিষয়ে যাছাই করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, “গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণ খুবই ভয়াবহ। যা ইতিমধ্যে মাতারবাড়িতে ঘটেছে। প্রশাসন এই ব্যাপারে খুবই তৎপর রয়েছে। মাইকে করে পুরো উপজেলায় গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন করতে মাইকিং করা হয়েছে। সিএনজিতে রান্নার গ্যাস ব্যবহারের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
ভয়েস/ জেইউ।