রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন
তথ্য সূত্রে জানা যায়, জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী টেটং ইউপির পন্ডিত বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম চৌধুরী (নাবালক মিয়া) ও মাতা সাফিয়া বেগম।
তিনি টেটং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পার হয়ে টেটং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রামের আনোয়ারা কলেজ থেকে এইচএসসি ও চট্টগ্রাম এমইএস কলেজ থেকে বিএ সম্পন্ন করেন। একই সাথে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে ২০০২ সালে গ্রেজুয়েশন শেষ করেন।
তার রাজনৈতিক জীবনেও রয়েছে বর্ণাঢ্য ইতিহাস। ১৯৮৯-৯০ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ টেটং উচ্চ বিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি, ১৯৯২-৯৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ টেটং ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি, ১৯৯৪-৯৫ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম সরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার সাবেক যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক, ২০০৫ সালের সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে টইটং ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিগত ১বছর আগে অনুষ্ঠিত সম্মেলনেও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য হিসাবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও তার ভাইয়েরা সরাসরি আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। শফিউল আহসান চৌধুরী টেটং ইউনিয়ন আ’লীগের সহসভাপতি, মনিরুল ইসলাম চৌধুরী যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক টেটং ইউনিয়ন আ’লীগ ও জাবেদুল ইসলাম চৌধুরূ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও প্রবাসী যুবনেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন সায়মা উপজেলা মহিলা আ’লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বিবাহিত জীবনে ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তানের জনক।
সামাজিক অবস্থান ও শিক্ষাক্ষেত্রে তার ভুমিকা রয়েছে অনেক। বর্তমানে টেটং উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও টেটং বটতলি শফিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও সদ্য সময় শেষ হওয়া ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। জয়লাভের পর শুরু করেন এলাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ড। ৬টা কালভার্ট, ২০টি এইচবিবি সড়ক, দীর্ঘদিনের অবহেলিত মিত্যান্তঘোনা সড়ক, বালিকা মাদ্রাসা সড়ক, টইটং উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, ধনিয়াকাটা সড়ক ও বেলুয়ার পাড়া সড়কের কাজ শেষ করা হয়েছে। মাটি দিয়ে সংস্কার করার মত সড়ক না থাকলেও বেশিরভাগ সড়ক ইট বসানো হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। যথাযতভাবে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালিনভাতা বিতরণ করা হয়েছে। তবে সরকারি বরাদ্ধ ও ত্রাণ সামগ্রী যথাযতভাবে বণ্ঠন করলেও একটি বিষয়ে তিনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। সেই সময় চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামের সাক্ষরে ১৫টন চাল উত্তোলন করে সাবেক ইউএনও সাঈকা শাহাদাত। এ ঘটনায় ইউএনও নিজেই বাঁচার জন্য তড়িগড়ি করে একটি মামলা রেকর্ড করলে তিনি পলাতক হয়ে পড়েন। বহিস্কার হন চেয়ারম্যানের পদ থেকে। বিষয়টি তিনি আইনিভাবে মোকাবেলা করার পর জামিন নিয়ে এলাকায় এসে সংবাদ সম্মেলন করে চাল চুরির বিষয়টি খোলাসা করতে গিয়ে বলেন, সেই সময়ের ইউএনও ওনাকে অফিসে ডেকে নিয়ে একটি কাগজে সাক্ষর করতে বলেন। সেই কাগজটি যে ১৫টন চাল উত্তোলনের বিষয়টি তিনি জানতেন না। সব চাল উত্তোলন করার পর বিক্রি করে ইউএনও আত্মসাত করেন বলে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী সেই সময় বলেন। এ বিষয়ে তিনি কিছু বিভ্রান্তভাবে দিন কাটালেও এলাকায় এসে আবারো তৃণমূল আ’লীগের হাত ধরেন। দলীয় সব সভা সমাবেশে যোগদান করার পাশাপাশি তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে প্যালেন চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সিকদারকে সহযোগিতা করেন। এছাড়াও সাধারণ জনগণ যখনি কোন সমস্যায় পড়েছেন তখনি ছুটে গেছেন জনগণের দরজায়। যার কারণে সাময়িক পিছিয়ে পড়া এ নেতা আবারো জনপ্রিয় হয়ে ওঠনে আ’লীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের কাছে। যার ধারাবাহিকতায় এবারের নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য তৃণমূল আ’লীগ থেকে তার নামটি প্রথম স্থানে জেলা কমিটি বরাবর যায়। জেলা কমিটি যাচাই বাচাই করে তার নামসহ আরো কয়েকজনের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
টেটং ইউনিয়নের অনেকেই জানান, গতবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সবসময় বিপদে আপদে সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন জাহেদ চেয়ারম্যান। মহামারী করোনাকালে যখন মানুষ কর্মহীন ছিল তখনও তিনি মানুষের পাশে থেকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছেন।
টইটং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জানান, জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ দায়িত্ববান নেতা। তিনি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি স্বচ্ছ ও ক্লীন ইমেজের মানুষ। তাকে যদি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে তিনি গতবারের ন্যায় আবারো বিজয়ী হবেন ইনশাআল্লাহ।
নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী। তিনি গতবারের নির্বাচনেও নৌকা প্রতিক নিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছি। আমার বিশ্বাস আছে ইনশাল্লাহ এবারেও আমাকে মনোনয়ন দিলে নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবে ইউনিয়নের আপামর জনগণ।