শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
ঘূর্ণিঝড় ও পূর্ণিমার জোয়ারে মেরিন ড্রাইভ ছুয়েছে সাগরের পানি-ছবি: কক্সবাজার ভয়েস ডট কম বিশেষ প্রতিবেদক:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরে অস্বাভাবিক পানি বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রেইভ সড়কের পাশে দেয়া জিও ব্যাগ ধ্বসে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভে ভাঙ্গণ শুরু হবে। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের রামুর হিমছড়ি ও উখিয়ার পাঠুয়ারটেক এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, বুধবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও বৃহস্পতিবার পুর্নিমা জোয়ারের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে সাগরের পানি চার ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ শুক্রবার একইভাবে পানি বৃদ্ধি পাবে। পরে পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাব কমতে শুরু করবে।
গত ১৯৯৩ সালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোড নির্মাণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রথমে সড়ক ও জনপদ বিভাগ সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ শুরু করে। সড়কটির নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালে সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের এক বছর আগে ২০১৭ সালের মে মাসে কাজ শেষ হয়। পরে ওই বছরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়কটি উদ্বোনের মাধ্যমে কক্সবাজার-মেরিন ড্রাইভ সড়কটি চালু করা হয়। তবে প্রতি বছর উক্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে সাগরের জোয়ারের তীব্র ঢেউতে বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গণ দেখা দিলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দ্রুত সময়ের মধ্যে জিও ব্যাগ বসিয়ে ভাঙ্গণ ঠেকিয়ে দেয়। কিন্তু, গত বুধবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হওয়া হওয়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পরবর্তীতে পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারে পুনরায় দুটি অংশে ভাঙ্গণের মুখে পড়ে। এ অবস্থায় তাৎক্ষনিক সেনাবাহিনীর সদস্যরা জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙ্গণ ঠেকাতে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়া উপজেলার পাঠুয়ারটেক পয়েন্টে ভাঙ্গণের মুখে পড়ার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় নির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে পর্যটন শিল্পের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এতে হুমকির মুখে পড়বে উপকুলীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, কক্সবাজারের উপজেলা গুলো থেকে ক্ষয়ক্ষতির পুর্নাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়নি। তবে দুই দিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পুর্নাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে আমরা আড়াই হাজার জেনেছি।
তিনি আরও জানান, ঘূর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পুর্নিমা জোয়ারে সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কুতুবদিয়া উপজেলা, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়ন সদর উপজেলার গোমাতলী ইসলামপুর ইউনিয়ন এবং সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে। বৃহস্পতিবার সকালেও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
ভয়েস/আআ