শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

মহেশখালীর ঘটিভাঙ্গায় তৈরি হচ্ছে আধুনিক মানের বরফ কল

আবুল বশর পারভেজ,মহেশখালী:
কক্সবাজারের দ্বীপ মহেশখালীর ঘটিভাঙ্গার শত শত বছরের পেশাজীবি জেলের কাংক্ষিত স্বপন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে আধুনিক মানের একটি বরফ কল।
সাগরে মাছ আহরণকারী জেলে ও কুলে মাছ ব্যবসায়ীদের শত শত বছরের কাঙ্কিত স্বপনের কথা চিন্তা করে ঘটিভাঙ্গার বুকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্মাণ করা হচ্ছে একটি বরফ কল।যে বরফ কল টি পুরাপুরি চালু করা হলে শুধু মাত্র কুতুবজোমের জেলেরা নয় সমগ্র মহেশখালীর সকল ইউনিয়নের জেলেরা সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এ বরফ কল কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বা পল্টন। বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ আহরন করার সাথে সাথে দ্রুত গতিতে কুলে বিক্রয় করে ফের সাগরে মাছ আহরন করতে সহজ হবে।
ঘটিভাঙ্গার বুকে যে বরফ কলটি চালু করতে যাচ্ছে তার নাম করণ করা হয়েছে (সী-শোর আইস প্লান্ট)সাগর তীরের বরফ কল টি আধুনিক মানের ও প্রাথমিকভাবে ২হাজার বরফ উৎপাদনের কেন্দ্রস্থল।
কুতুবজুমের ঘটিভাঙ্গা সোনাদিয়া সংযোগ ব্রীজের পাশে এই বরফ কলটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আইটি এল এর একটি সহযোগি প্রতিষ্টান বলে জানা গেছে।
মহেশখালী দ্বীপে ঘটিভাঙ্গা গ্রামটি পূর্ব পুরুষ থেকে মাছ আহরণ ও মাছ ব্যবসায়িদের উর্বর ভূমি। ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ও সরকারী ও বেসরকারী ভাবে বরফ কল গড়ে উঠেনি।

উপজেলা সদরের বড় রাখাইনপাড়ায় ২টি বরফ কল থাকলে ও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে মহেশখালী উপকূলের ২০ হাজার জেলেকে জ্বালানী খরচ কক্সবাজারে গিয়ে বরফ ক্রয় করতে বিভিন্ন সমস্যা পড়তে হয়। মহেশখালীতে যদি বরফ কলের পাশাপাশি একটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র করা হয় তা হলে সরকারি ভাবে যেমন প্রচুর রাজস্ব আয় হবে তেমনি ভাবে মহেশখালী উপকূলের জেলেদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। আইটি এল সংস্থাটির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বরফ কলের জন্য একটি ২তলা বিশিষ্ট্য পাকা ভবন নির্মাণ এবং একসাথে ২হাজার বরফ উৎপাদনের আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে।

বরফ কলটির নির্মাণ কাজের প্রায় ৯০% সম্পন্ন হয়েছে। চলিত বছরের জুলাই মাসে এটি আনুষ্টানিক ভাবে শুভ উদ্ধোধন করা হবে বলে জানা গেছে।
ঘটিভাঙ্গার জেলে সুলতান বলেন, সাগরে মাছ আহরণ করে বরফের অভাবে অনেক সময় মাছ নষ্ট হয়ে যায়।
আহরণকৃত মাছ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়। সে আরো জানায় আমাদের বাপ দাদার আমল থেকে বরফের সংকটে মধ্য দিয়ে মাছ কম মূল্য বিক্রয় করে আসছি। এবার এখানে নতুন বরফকল নির্মাণ হওয়াটি হাত টেনে চাঁদ ধরার মত।

কুতুবজুম ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন খোকন বলেন,মহেশখালীর অধিকাংশ মৎস্য ব্যবসায়ি কুতুবজুমের বাসিন্দা বিকল্প আর কোনো বরফ কল স্থাপিত না হওয়ায় দীর্ঘদিন চরম ভোগান্তিতে পোহাতে হয়েছে মৎস্য ব্যবসায়ীদের।  তাদের দূর-দূরান্ত থেকে বরফ সংগ্রহ করে মৎস্য প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করতে হচ্ছে। দ্রত এই নতুন কলটি চালু হলে মহেশখালীর মৎস্যব্যবসায়িদের জন্য অনেক উপকার হবে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় জেলেদের সংখ্যা যেমন বেশি, তেমনি জেলেদের আহরিত মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্যও পর্যাপ্ত বরফ প্রয়োজন। এছাড়া এ এলাকায় একটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ সকল বিষয় বিবেচনা করে বরফকল স্থাপন করা এই এলাকায় জরুরি হয়ে পড়েছে।

মহেশখালী কুতুবদিয়ার সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক জানান, মহেশখালী দ্বীপের অধিকাংশ মানুষের পেশা হচ্ছে মৎস্যপেশা , এই পেশাকে ঠিকিয়ে রাখতে এই এলাকার মৎস্যজীবিদের দাবী ছিলো মহেশখালী দ্বীপে একটি বরফকল স্থাপনের। ইতিমধ্যে বেসরকারী একটি সংস্থা শী-শোর আইস প্লান্ট নামে একটি বরফকল হতে যাচ্ছে যা এই এলাকার মৎস্য জীবি বা ব্যবসায়িদের জন্য অনেক সফল বয়ে আনবে এবং এর পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসায়িদের কথা চিন্তা করে একটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যেগ গ্রহন করা হয়েছে আমরা সেটিও দ্রুত ব্যস্তবায়ন করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করবো।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION