শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ন
এম এ সাত্তার:
কক্সবাজার শহরে করোনা সংক্রমণ রোধে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন মানাতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের কঠোর তদারকি।
সারাদেশের মত কক্সবাজারেও বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে এই লকডাউন। লকডাউনের প্রথম দিনে কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে এর প্রভাব। সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ যথাযথভাবে পালন করতে শহরের প্রবেশমুখ কলাতলী মোড়, বাস টার্মিনাল ও লিংকরোডসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে রাস্তায় দেখা গেলে আটকানো হচ্ছে চেকপোস্টে।
ঝাউতলার আবদুল করিম নামের রিক্সা চালক বলেন, লকডাউনের কারণে পরিবার নিয়ে বেশ কষ্টে পড়েগেছি। কিছু হয়েছে কিস্তি নিয়ে গাড়ি মেরামত করছি রিক্সা একটু চালাতে পারলেও ভাড়া নাই, তাই জীবনেরও গতি নাই।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এমন চিত্র দেখা গেছে। এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ ও পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামানসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছে।
অন্যদদিকে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশে আবার এই বিধি-নিষেধ লকডাউনে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের চিত্রও দেখা যায়।
লকডাউনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকা, বাজারঘাটা, ভোলা বাবুর পেট্টল পাম্প এলাকা, লালদিঘীর পাড়, হলিডে মোড়, গুনগাছ তলা, কলাতলী মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কে কিছু মালবাহী গাড়ী চলাচল করলেও গণপরিবহন কোথাও চোখে পড়েনি। তবে কিছু ব্যাটারী চালিত রিকশা, টমটম ও কিছু সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। মুদির দোকান ও খাবারের দোকান খোলা থাকলেও হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। মানুষের চলাচলও অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেকটা কম লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে টহল অভিযানে ছিলেন জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী।
বিকাল ৪ টা সময় শহীদ সরনী মোড়ে গণমাধ্যমে জেলা প্রশাসক মো. মামুসুর রশিদ লকডাউন পালন বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, করোনা ভাইরাস রোধে মানুষের চলাচলে ‘বিধি-নিষেধ’ আরোপ করে ২১ দফা নিদের্শনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন সরকার। সরকারের ঘোষিত লকডাউন জেলার মানুষ মোটা মেনে চলার চেষ্টা করেছে, বলা যায় সন্তোষজনক। তারপরেও
প্রশাসন সবধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে।
ভয়েস / জেইউ।