বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন
মোঃ ফারুক, পেকুয়া
পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউপির সিকদার পাড়াস্থ আজগর আলী সিকদার বাড়ির সন্তান মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের ভাই এনায়েত উল্লাহ চৌধুরী।
এক কন্যা সন্তানের জনক এ ব্যক্তিটি চকরিয়া সরকারি হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট হিসাবে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। আর্থিকভাবে যতেষ্ট স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান হয়েও চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করার পাশাপাশি লোভ হিংসা, অহংকার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উর্ধ্বে থেকে এলাকায় সর্বজন ভালমনের অধিকারী হিসাবে অধিক পরিচিতি লাভ করেন। যার কারণে অতিহ্যবাহী সিকদার বাড়ির এ সন্তান নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে কোন ধরণের বিতর্ক নাই।
গত মঙ্গলবার সকালে একদল সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চকরিয়া হাসপাতালে তার কর্মস্থলে যাওয়ার মধ্যে মগনামার বাজার পাড়াস্থ সড়কে তার পথ গতিরোধ করে হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। এ ঘটনায় মোঃ আরফাত নামে তার এক মামাতো ভাইও গুরুতর আহত হয়।
সেই সময় তাদেরকে তাৎক্ষনিকভাবে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে অবস্থার মারাত্বক অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গল ও বুৃধবার চমেক হাসপাতালে তাকে দুইদিন চিকিৎসা দেয়ার পর চোখ ও মাথার জখমের কারণে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাস্থ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার (আজ) নিয়ে যাওয়া হয়।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর যন্ত্রনায় কাতর হয়ে হাসপাতালের সিটে শুয়ে আছেন।
এদিকে গত মঙ্গলবার তার উপর হামলার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দলমত নির্বিশেষে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন সর্বস্থরের জনগণ।
আরিফুল ইসলাম ও নুরুল আলম নামে দুই ব্যক্তি বলেন, মগনামায় আজগর আলী সিকদার বাড়ি সর্বজন পরিচিত। তাদের বাড়িতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও সরকারি আমলা রয়েছে। এই বাড়ির সন্তান কলিম উল্লাহ চৌধুরীর সন্তান শরাফত উল্লাহ চৌধুরীর ওয়াসিম এলাকায় জনপ্রতিনিধিত্ব ও জনগণের সেবা করতে গিয়ে একটি মহলের কারণে কিছুটা বিতর্কের মধ্যে পড়লেও তার অপর দুই ভাই এনায়েত উল্লাহ চৌধুরী ও জুনায়েত ইশরাক চৌধুরী বাবু সব সময় বিতর্ক এড়িয়ে জীবনযাপন করছেন। তার মধ্যে গত মঙ্গলবার মিথ্যা অজুহাতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা এনায়েত উল্লাহকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। তার অবস্থার জন্য কিছু মানুষের নোংরা রাজনীতি জড়িত। তাদের প্রতি আমরা ঘৃণা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। আমাদের দাবী নিরহ এ ব্যক্তির উপর যারাই অত্যাচার আর নির্যাতন করেছে তাদের যেন কঠিন বিচার হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে আহত এনায়েত উল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বড় ভাই শরাফত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, মৎস্য প্রজেক্টে যদি মাছ লুঠের কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তারা আইনের আশ্রয় নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতো। সেখানে বিষয়টি তারা অজুহাত দেখিয়ে আমার নিরহ ভাইকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। চিকিৎসক বলেছে তার চোখ ৭০ ভাগ আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। মাথায় রক্তক্ষরণ হচ্ছে। হাড় ভেঙে গেছে। রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে সব সময় জনগণের সেবা করেছে। অসহায় মানুষের পাশে থেকেছি। শুধু মাত্র জয়নাল হত্যায় জড়িত একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে যাচ্ছে। সেই চক্রান্তের অংশ আমার নিরহ ভাইয়ের উপর পড়বে কেন।
তারপরও ধৈর্য ধরেছি কারণ এই সমস্ত জনগণতো আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এছাড়াও প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। আমি এই বলে সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমার ভাইয়ের উপর যারাই হামলা করেছে তারাই মামলার আসামী হয়েছে।
ভয়েস/ জেইউ।