বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি যুক্ত হবেন। কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রান্তে থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী, সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ কামরুল হাসান, বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান, কক্সবাজারের সংসদ সদস্যবৃন্দ, কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।
বিমানবন্দরটির প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে নতুন ১০ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে হবে- যার ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের বোইং ৭৭৭ ও ৭৪ এর মতো বড় আকারের বিমানগুলো এই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে এবং এর ফলে এখানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করার পথ সুগম হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির সফল বাস্তবায়ন এ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে দেশের ৪র্থ আন্তর্জাতিক এই বিমান বন্দর যাত্রা শুরু করবে। যেখানে ঢাকা বিনানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৫০০ ফিট। আর কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়ে হবে ১০ হাজার ৭০০ ফিট।
বিশ্ব পর্যটকদের কাছে নতুন ভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কক্সবাজার বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করণের ওপর হাত দিয়েছে সরকার। কক্সবাজারকে পর্যটন রাজধানী কাগজে-কলমে না রেখে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কক্সবাজার বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। বিমান বন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণের সম্প্রসারণ ও শক্তি বৃদ্ধি, এয়ার ফিল্ড গ্রাউন্ড, লাইটিং সিস্টেম স্থাপন সহ বেশকিছু কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এখনো চলমান রয়েছে অনেক গুলো কাজ। দেশে প্রথমবারের মতো কক্সাজার সমুদ্র বক্ষে নির্মাণ করা রানওয়ের খরচ হিসেব ধরা হয়েছে ১৫শ ৬৯ কোটি টাকা। আর বিমানবন্দর রানওয়ের এ প্রকল্প পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এর তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়। ইতোমধ্যে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফিট এবং প্রস্থ ১২০ ফিট থেকে ২০০ ফিটে উন্নীতকরণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে সম্প্রসারিত রানওয়েতে বিমানের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময়ই এই বিমান বন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফিট থেকে উন্নীতকরণের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। সেই নির্দেশনা মোতাবেক ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় বিমান বন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফিট থেকে ১০ হাজার ৭০০ ফিটে উন্নীত হবে। বর্মানে ৯ হাজার ৩শ ফিট ব্যবহার হচ্ছে। প্রধান মন্ত্রীর উদ্ধোধনের পর ১৭ শ ফিট এর কাজ শেষ হলে রানওয়ে দাড়াবে ১০ হাজার ৭০০ ফিটে গিয়ে। এ কাজ শেষ হলে রানওয়ের আয়তন বাড়বে, অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন হবে কক্সবাজার বিমান বন্দর। এতে মহেশখালী চ্যানেলের দিকে সম্প্রসারিত হচ্ছে এই রানওয়ে। এতে বিমান বন্দরে যাত্রী পরিবহণ ক্ষমতাও বাড়বে। বৃদ্ধি পাবে ফ্লাইট অপারেশনের সংখ্যা। ভবিষ্যতে কক্সবাজার সংলগ্ন মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার মতো দেশের বড় বড় এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফটও অবতরণ করতে পারবে কক্সবাজারে। আগামী ৫০ বছরের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে এই প্রকল্প।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন এর মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা বিশ্ববাসীর কাছে নতুন মাত্রায় পরিচিতি লাভ করবে এবং পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিশ্বের উপকূলীয় শহরে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দর গুলোর কাতারে নাম লিখিয়ে দেশকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন এবং এভিয়েশন সেক্টরে রিজিওনাল হাব হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের চেষ্টা।