বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
কক্সবাজারে মৃত্যুদন্ডের আসামী নিয়ে ‘আয়নাবাজি’ সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর অবরোধের মুখে ইরানের পথ ধরা জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী, পরিদর্শন করবেন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত আন্তর্জাতিক এ্যামোনেষ্টির হিউম্যান রাইটস একাডেমি থেকে বিরল সম্মাননা অর্জন করলেন ফারুক ইকবাল  টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী গ্রুপের হাতে খুন হলেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ

নেছার আহমদ:

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী রোহিঙ্গাদের বিপদগামী একটি গ্রুপ নেতৃত্ব সহ্য করতে না পেরে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন তাঁর ভাই হাবিব উল্লাহ। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ অফিসের উপস্থিত অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সামনেই চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহকে হত্যা করে। রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ নিহত হওয়ার পর থেকে উখিয়া টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ক্যাম্প গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিহত রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহর মৃতদেহ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। বিকালে নামাজে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্নকরা হয়। তবে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন মামলা বা কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিচ এন্ড হিউম্যান রাইট নামক ক্যাম্প ভিত্তিক সংগঠনটির চেয়ারম্যান এবং রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা ছিলেন মুহিব উল্লাহ। তাঁকে হত্যার পর সংগঠনটির অন্য সদস্যদের মধ্যেও বিরাজ করছে আতংক। নিহত রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে নানাভাবে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন।

নিহত মুহিব উল্লাহ’র ছোট ভাই হাবিব উল্লাহ জানান, “রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী একটি গ্রুপ দীর্ঘ দিন ধরে আমার ভাই মহিব উল্লাহকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিরোধীরাই আমার ভাইকে হত্যা করেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ২০/২১ জন লোক আমার ভাইয়ের অফিসে আসে। তারা আমেরিকা বাংলাদেশ-মিয়ানমার এই তিন দেশ এর বিষয় ও প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করে। এসময় মহিব উল্লাহ বলছিলেন তাদেরকে, আমেরিকাসহ বিশ্বসম্প্রদায় এখন একমত হয়েছে সকল রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরাও প্রস্তুত রয়েছি স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য। এ কথা বলার পর বন্দুকধারীরা আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করে। হাবিব উল্লাহ আরো জানান, ঘাতকদের মুখে কোন মাস্ক ছিলনা। আমার ভাইকে পরপর ৫টি গুলি করে। গুলির শব্দ শুনে আমরা সবাই দৌড়ে যাই। এসময় মাস্টার আব্দুর রহিম, মোরশেদ, নাগো সহ ২০/২১ জনকে অস্ত্র হাতে পালিয়ে যেতে দেখেছি।”

নিহত মুহিবুল্লাহর চাচাত ভাই নুরুল আমিন জানান, ঘটনার সময় ক্যাম্প ভিত্তিক সংগঠন রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিচ এন্ড হিউম্যান রাইটস অফিসে উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা। কেউ সংবাদ শুনছিলেন, কেউ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করছিলেন। এইসময় বন্দুকধারীরা অফিসে ঢুকে কিছু আলাপ শেষে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি করে মুহিব উল্লাহকে। উপস্থিত অন্য রোহিঙ্গাদেরও মারধর করা হয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মনিরুল গিয়াস জানান, ময়নাতদন্তের পর আইনী প্রক্রিয়া শেষে নিহত মহিব উল্লাহর মৃতদেহ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর পুলিশী প্রহরায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে নামাজে জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুহিবুল্লাহকে দাফন করা হয়।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, মহিব উল্লাহ নিহত হওয়ার পর ক্যাম্প গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হবে। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নামাজে জানাজা শেষে মুহিব উল্লাহর মৃতদেহ দাফন করা হয়।

এদিকে বন্দুকধারীদের গুলিতে মুহিব উল্লাহ নিহত হওয়ার পর উখিয়া ও টেকনাফের সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ঘটনার পর সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিজ দেশ মিয়ানমারের আরাকানে ফিরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের দাবি-দাওয়া নিয়েই লড়ে আসছিলেন মুহিবুল্লাহ। ২০১৯ সালের ২৫ আগষ্ট কুতুপালং শিবিরে রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশ করে তিনি আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট সফর করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্ফের সাথেও দেখা করেন। সেই থেকে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচনায় আসেন।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-১ ইস্ট-ওয়েস্ট (ডি ব্লকে) এশার নামাজ শেষে নিজ অফিসে অবস্থানকালে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গারা ৫ রাউন্ড গুলি করে রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহকে। ৩ রাউন্ড গুলি বুকে লাগলে তার মৃত্যু হয়।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION