বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
আবদুল আজিজ:
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডের মোটিভ উদঘাটন করতে পেরেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সহ নানা তদন্তকারি সংস্থা হত্যাকান্ডের পেছনের খবর জেনে গেছে। এ কারণে যেকোন সময় হত্যাকান্ডের মুল আসামীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
বুধবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান।
হাসানুজ্জামান বলেন, ‘রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডের পর ক্যাম্পে জেলা পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, সিআইডি থেকে শুরু করে অনেক তদন্তকারি সংস্থা সবাই মিলে একযোগে কাজ করছি। যদিও জেলা পুলিশ মামলার তদন্তের কাজটি করছে। তবে ঘটনার মোটিভ এবং ঘটনার পেছনে সরাসরি কারা যুক্ত, এসব বিষয়ে আমরা একটি সম্মুখ ধারনা পেয়েগেছি। সেদিক দিয়ে আমরা বলতে পারি যে তদন্তের কাজ অনেত এগিয়েছি। একারণে ঘটনার মুল অভিযুক্তদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।’
ক্যাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান আরও বলেন-‘উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, আমরা তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে আসা নানা তথ্য নোট নিচ্ছি। যেহেতু তদন্তাধিন বিষয় সবকিছু উম্মুক্ত করা যায়না। আমরা আমাদের মত করে মামলার তদন্ত কাযক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এতে আমরা আশান্বিত।’
এদিকে, উক্ত মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আরও ৩ জনকে আদালতের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রত্যেককে ৩দিন করে রিমান্ড নিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১১টারদিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালত ৩জনের ৩দিন রিমান্ড মন্জুর করেন। এর আগে সকালে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া ১ ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৫ ব্লকের বাসিন্দা জকির আহমদের ছেলে জিয়াউর রহমান, লম্বাশিয়া ৮ ডাব্লিউ ক্যাম্পের এইচ ৫৪ নং ব্লকের মৃত মকবুল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ সালাম ও ৫নং ক্যাম্পের রজক আলীর ছেলে মো: ইলিয়াছকে আদালতে আনেন পুলিশ। এ নিয়ে উক্ত মামলার ৫জন রোহিঙ্গা যুবককে তিন করে রিমান্ড মন্জুর করেছে আদালত।
গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হাতে নিহত হন রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ। এসময় নিজ অফিসে অস্ত্রধারীরা তার বুকে পরপর ৫ রাউন্ড গুলি করে। এসময় ৩ রাউন্ড গুলি তার বুকে লাগে। এতে সে ঘটনাস্থলে পড়ে যায়। খবর পেয়ে এপিবিএন সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ‘এমএসএফ’ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। এঘটনায় নিহত মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিব উল্লাহ বাদি হয়ে উখিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ক্যাম্পে দায়িত্বরত এপিবিএন সদস্য ও উখিয়া থানা পুলিশ পৃথকভাবে ৫জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভয়েস/আআ