মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজারে হোটেলে দুইদিন ধরে স্কুল ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের পর মামলা করলে পুনরায় ধর্ষণ করে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছিল অভিযুক্ত মোহাম্মদ আশিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আশিক র্্যাবকে এ তথ্য দেন।
মঙ্গলবার (২৮ডিসেম্বর) দুপুরে র্্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক লে.কর্ণেল খায়রুল ইসলাম সরকার।
খায়রুল ইসলাম সরকার আরও জানান, হোটেলে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের সংবাদ গণমাধ্যমে জানাজানি হওয়ার পর র্্যাবের একটিদল সোমবার রাত সাড়ে ১১ টায় চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এসময় ধর্ষণে অভিযুক্ত কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আশিক (২৭) গ্রেপ্তার করে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পৃথক স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে মামলার এজাহারভূক্ত ৪ নম্বর আসামি কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মো. কামরুল এবং ছাত্রীটিকে জিম্মি রেখে ধর্ষণের ঘটনাস্থল মমস্ গেস্ট হাউজের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহীন।
গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী বাড়ীতে ফেরার সময় মো. আশিক সহ ৩/৪ জন যুবক জোর করে গাড়ীতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে (ভূক্তভোগী ছাত্রী) শহরের হোটেল-মোটেল জোনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে অবস্থিত মমস্ গেস্ট হাউজ নামের নিয়ে যায়। পরে ওই স্কুলছাত্রীকে হোটেলটিতে দুইদিন জিন্মি রেখে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় গত ১৮ ডিসেম্বর ভূক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪ জনসহ নয়জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলা দায়ের পর কোন আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ার পাশাপাশি আসামিরা বাদীর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছিল। এ নিয়ে রোববার সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়।
লে. কর্নেল খাইরুল বলেন, কক্সবাজার শহরে স্কুলছাত্রীকে আবাসিক হোটেলে জিন্মি রেখে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত ছিল। সোমবার রাতে মামলার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামি চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারায় আত্মগোপন করে অবস্থান করছে খবরে র্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। এতে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান র্যাবের এ করা হয়।
ভয়েস/আআ