সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
আমিনুল হক মহেশখালী
মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনুছখালীতে স্কুলের লোহার বেঞ্চ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পথে রাতে ৯ পিচ বেঞ্চ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ২ টার দিকে কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনুছখালী বাজারের পূর্ব পাশে কয়েকজন লোকের সন্দেহ মূলক চলাফেরা দেখতে পান উক্ত বাজারে টমটম গাড়ির গেরেজ পাহারাদার রবিউল হাসান।
এসময় তিনি বাজারের চায়ের দোকানে পানি সরবরাহকারী কায়সার হামিদকে ডেকে নিয়ে উক্ত স্থানে গিয়ে দেখতে পান যে, ৯ পিচ স্কুলের লোহার বেঞ্চ সহ নুরুল ইসলামের পুত্র জুয়েল ও আবদু ছালামের পুত্র ভূট্টুকে। এসময় জুয়েলকে স্কুলের এই লোহার বেঞ্চ কোথায় থেকে আনা হয়েছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে ইউনুছখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এনেছে বলে স্বীকার করেন। এমনটি জানান রবিউল হাসান। তিনি আরো জানান, বেঞ্চ গুলো উদ্ধার করে ইউনুছখালী বাজারে নিয়ে আসেন। সকালে উক্ত ইউনুছখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে অবগত করেন। পাশাপাশি কালারমারছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম কুদ্দুছ চৌধুরীকেও অবগত করেন।
সকালে উক্ত ইউনুছখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে অবগত করেন। পাশাপাশি কালারমারছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম কুদ্দুছ চৌধুরীকেও অবগত করেন। সাথে সাথে গোলাম কুদ্দুছ চৌধুরী স্থানীয় সচেতন লোকজন নিয়ে ইউনুছখালী বাজারে উদ্ধারকৃত বেঞ্চের পাশে আসেন। এসময় প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামও আসেন। প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম লোহার বেঞ্চ গুলো দেখে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মোঃ আবদুল্লাহকে বিষয়টি জানান। স্থানীয় লোকজন জানান, জুয়েল একজন পেশাদার চোর। সে প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের চাচাতো ভাই। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন চোর জুয়েলের সাথে প্রধান শিক্ষক সাইফুলের যোগসাজশ থাকতে পারে এবং এর আগেও আরো বেঞ্চ গায়েব হতে পারে। ইতোমধ্যে ৬ দিন পার হয়ে গেলেও বেঞ্চ গুলোর ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। এদিকে সরকারি সম্পদ শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপকরণ লোহার বেঞ্চ গুলো উদ্ধার করায় উদ্ধারকারী রবিউল হাসানকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে পেশাদার চোর জুয়েল। এমনটি অভিযোগ করেন বেঞ্চ উদ্ধারকারী রবিউল হাসান। লোহার বেঞ্চ গুলোর পাটাতন খুলে ফেলে স্ক্রেপারে বিক্রি করে দেয় চোরেরা।
এই বেঞ্চের ব্যাপারে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঐদিনই সাথে সাথে বেঞ্চের বিষয়টি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নোমান স্যারকে জানিয়েছি। তখন নোমান স্যার বলেন, এই বেঞ্চ গুলো যদি ইউনুছখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয় তাহলে স্কুলের দপ্তরি সৈকত পার পাবে না।
প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম আরো জানান, এই বেঞ্চ গুলো তার স্কুলের নয়। এখানে স্থানীয় লোকজন জানান, বেঞ্চ গুলো ঐ স্কুলের না হলে চোর জুয়েল স্বীকার করল কেন? আর প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ঐ দিন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মোঃ আবদুল্লাহকে ফোন করে জানালো কেন?
হয়তো চাচাতো ভাই চোর জুয়েলকে বাঁচাতে এবং নিজেই এই সমস্যা থেকে বাঁচতে বেঞ্চ গুলো তার স্কুলের নয় বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। এমনটি জানান, স্থানীয় সচেতন মহল। এব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন এলাকাবাসী।
ভয়েস/ জেইউ।