EDITOR
- ২৪ জুন, ২০২২ /

আমিনুল হক, মহেশখালী:
মহেশখালীর ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দিরকে বিশ্বে আরো বেশি সমাদৃত করে তুলতে মন্দির এলাকা ও মন্দির পাদদেশে সৌন্দর্য বর্ধন এবং আদিনাথ মন্দিরের মৈনাক পর্বতের উপর আদিনাথ পর্যবেক্ষণ টাউয়ার বা ওয়াচ টাওয়ার নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন সরকার। যা টিআর বরাদ্দ ও আর্থিক সহায়তায় তৎকালীন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বিগত ৯ ডিসেম্বর ২০২০ সালে এ টাওয়ার নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ শরীফ বাদশা ও তৎকালীন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান, সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধি ও আদিনাথ মন্দির সংস্কার কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ সনাতনি সম্প্রদায়ের ব্যক্তিবর্গ। মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে এ আদিনাথ পর্যবেক্ষন টাওয়ার বা ওয়াচ টাওয়ারটি নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল। মাঝখানে অর্থের অভাবে টাওয়ার নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে ২০২২ ইং তারিখে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন টাওয়ার নির্মাণ কাজটি পূণরায় শুরু করেন। এ টাওয়ার নির্মাণ কাজ দ্বিতীয় ধাপে চলমান থাকা অবস্থায় গত ১৭ জুন সনাতনি সম্প্রদায়ের সনাতনি সমাজ নামে স্বার্থান্বেষী একটি কুচক্রী মহল এসে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে। তারা আদিনাথ মন্দিরের মৈনাক পর্বতের উপর আদিনাথ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বা ওয়াচ টাওয়ার না করে ওখানে রাম-সীতা মন্দির স্থাপনে ব্যানার টাঙিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে যে, যারা আদিনাথ মন্দিরের সৌন্দর্য বর্ধনে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে তারা এতো সাহস পেল কোত্থেকে? তাদের পিছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে? সনাতনি সম্প্রদায়ের সচেতন মহল মনে করেন যে, যারা আদিনাথ মন্দিরের সৌন্দর্য বর্ধনে এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেছে তারা কখনও মন্দিরের উন্নয়ন বা ভালো চায় না। তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়ে এক প্রকার গর্হিত কাজ করেছে। সনাতনি সম্প্রদায়ের স্বার্থান্বেষী ঐ কুচক্রী মহল আদিনাথ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বা ওয়াচ টাওয়ারের বিরোধিতা করে ওখানে রাম-সীতা মন্দির স্থাপনের ষড়যন্ত্রে নেমেছে। এদিকে সনাতনি সম্প্রদায়ের সচেতন বিজ্ঞ মহল জানান, যেখানে আদিনাথ মন্দির বা শ্রী শ্রী আদিনাথ রয়েছেন সেখানে অন্য কোন মন্দির স্থাপন হতে পারে না।
তারা আরো জানান, আসল কথা হচ্ছে যে, মৈনাক পর্বতের উপরে আদিনাথ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বা ওয়াচ টাওয়ার স্থাপিত হলে ওখানে কেউ অন্যায় বা অবৈধ কাজ করতে পারবে না। কারণ, ওখানে থাকবে সিসি ক্যামেরা। তা দেখভাল করার জন্য প্রতিনিধিও থাকবে। তখন ঐ স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল আদিনাথ দর্শণার্থী বা পর্যটকদের ধাপ্পাবাজি করতে পারবে না, হয়রানি করতে পারবে না, অন্যায় করতে পারবে না, অবৈধ কোন কিছু করতে পারবে না । তারা এই রকম কিছু করতে পারবে না বলেই আদিনাথ পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের বিরোধিতা করছে। এমনটা মনে করেন সচেতন মহল। মৈনাক পর্বতে এ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বা ওয়াচ টাওয়ার স্থাপিত হলে মহেশখালী আদিনাথ মন্দির বিশ্বে আরো বেশি সমাদৃত হবে এবং দর্শনার্থী ও পর্যটকরা আরো বেশি আনন্দ উপভোগ করতে পারবে বলে মনে করেন বিজ্ঞজনেরা। সূত্রে আরো জানা যায়, মহেশখালী আদিনাথ মন্দির ও মন্দির পাদদেশে সৌন্দর্য বর্ধন এবং পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বা ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের জন্যে সরকারি ভাবে ৫০ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এদিকে সনাতনি সম্প্রদায়ের সচেতন মহল পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বা ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান। সেই সাথে তারা উক্ত টাওয়ার নির্মাণের বিরোধিতাকারী এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান।
আরো উল্লেখ্য যে, আজকে যারা টাওয়ার নির্মাণে বিরোধিতা করছে তারা তো ঐদিন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন’র ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। ঐ দিন কেন তারা বিরোধিতা করেনি? এমনটা প্রশ্ন জনমনে৷ আরো উল্লেখ্য যে, সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি ও আদিনাথ মন্দির সংস্কার কমিটির তত্বাবধানে বর্তমানে প্রচুর উন্নয়ন মূলক কাজ হয়েছে আদিনাথ মন্দিরের। যা গত কয়েক শত বছরে হয়নি বলে জানা গেছে। সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির নিয়ন্ত্রণে মহেশখালী আদিনাথ মন্দির সংস্কার কমিটির সভাপতি শান্তি লাল নন্দী ও সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর প্রনব কুমার দে সহ সকলের আন্তরিকতায় আদিনাথ মন্দিরের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে পরিচালিত হয়ে আসায় এবং বর্তমানে মন্দিরে সুশৃঙ্খল পরিবেশ আসায় তা নষ্ট করতে স্বার্থান্বেষী একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্রে নেমেছে বলে জানিয়েছেন সনাতনি সম্প্রদায়ের সচেতন মহল।
ভয়েস/আআ