বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
লবণের ট্রাকে মিলল ১লাখ পিস ইয়াবা: ইয়াবাকারবারি ও ডাকাতসহ ৪জন গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধের সময় ‘গোপনে’ আমিরাত সফরের কথা জানালেন নেতানিয়াহু, ‘আগেই জানতো’ তেহরান টেকনাফ পৌর বিএনপির নেতা আবদুর জব্বার বহিষ্কার ‘মানুষ আপনার বয়স নিয়ে আপনার চেয়েও অধিক চিন্তিত’ মেসির জোড়ায় ৮ গোলের ম্যাচে জিতেছে ইন্টার মায়ামি বিধবা বিয়ের বিষয়ে যা বলে ইসলাম বিশ্বকাপের অলটাইম র‍্যাঙ্কিং: সবার ওপরে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কোথায় অক্ষত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র: ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার? কক্সবাজার সায়মনের মালিক ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই বেন্তোর ভুলে রোনালদোর শিরোপা জয়ের অপেক্ষা বাড়লো!

ঘরের কাজে নবীজির সহযোগিতা

সাকী মাহবুব:
মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহ যে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ পাঠিয়েছেন, তিনি হলেন আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার জীবন শুধু ইবাদতের ক্ষেত্রেই নয়, বরং পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। অনেকেই মনে করেন, ঘরের কাজ শুধু নারীর দায়িত্ব, অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই ঘরের কাজে অংশ নিতেন। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ স্বামী, পিতা ও গৃহকর্তা। রাসুল (সা.)-এর পরিবার ছিল স্নেহ, শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার বন্ধনে আবদ্ধ। স্ত্রীদের সঙ্গে তিনি সদাচরণ করতেন, তাদের সম্মান দিতেন, সুখ-দুঃখে পাশে থাকতেন এবং সংসারের সব কাজে সাহায্য করতেন।

নবীজি (সা.) নিজের জুতা ছিঁড়ে গেলে তা নিজেই সেলাই করতেন। কাপড় ছিঁড়ে গেলে সেলাই করতেন, যাতে পরিবারকে কষ্ট করতে না হয়। তিনি দুধ দোহানো, পানি বহন, ঘর ঝাড়– দেওয়া, এমনকি রান্নার কাজেও স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন। নবীজি (সা.) ঘর গোছানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিতেন। তিনি নিজেও তাতে অংশ নিতেন।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবীজি (সা.) নিজের কাজ নিজে করতেন। তিনি নিজের জুতা নিজেই সেলাই করতেন, কাপড় সেলাই করতেন এবং ঘরের অন্যান্য কাজ করতেন।’ (সহিহ বুখারি)

আয়েশা (রা.) আরও বলেন, ‘নবীজি (সা.) ঘরের কাজকর্মে আমাদের সাহায্য করতেন। যখন নামাজের সময় হতো, তখন তিনি নামাজের জন্য বের হয়ে যেতেন।’ (সহিহ বুখারি)

আজ অনেক পুরুষ মনে করে, ঘরের কাজ করা তার মর্যাদার পরিপন্থি। অথচ নবীজি (সা.) ছিলেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব, তিনিও ঘরের কাজে অংশ নিতেন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শুধু দায়িত্বের নয়, বরং ভালোবাসা ও সহযোগিতার বন্ধন। নবীজি (সা.) সেটার আদর্শ স্থাপন করেন। তিনি কখনো স্ত্রীদের অধীন মনে করেননি, বরং তাদের সহযোগী হিসেবে দেখেছেন। সংসার গড়ার জন্য এই মনোভাব অপরিহার্য। আজকের যুগে অনেক পরিবার ভেঙে যাচ্ছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির অভাবে। যদি স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে সাহায্য করে, একজন আরেকজনের দায়িত্ব বুঝে নেয়, তাহলে পরিবারে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। নবীজি (সা.) আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি শুধু মসজিদে নয়, ঘরের মধ্যেও একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার জীবনের এই দিকটি আজকের সমাজে বেশি করে আলোচনার দাবি রাখে। ঘরের কাজে নবীজি (সা.)-এর অংশগ্রহণ আমাদের শেখায়, গৃহস্থালি কাজ কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং তা নবীজি (সা.)-এর সুন্নত ও সম্মানের কাজ।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক ও শিক্ষক

ভয়েস/আআ/সূত্র: দেশ রুপান্তর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION