সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
বিনোদন ডেস্ক :
ভারতীয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জি বাংলা। এ টিভির নতুন সিরিয়াল ‘ভোলে বাবা পার করেগা’। সিরিয়ালটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাচ্ছিল রাহুল ব্যানার্জিকে। রাহুল ও শ্বেতা চরিত্রের বিয়ে দিয়ে শুরু হয়েছিল সিরিয়ালটির গল্প। তারা দুজনে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন। আর তারই আউটডোর শুটিং ছিল দীঘার নিকটবর্তী ওড়িশার তালসারিতে। শুটিংয়ে জলে ডুবে মারা যান রাহুল। তার মৃত্যু নিয়ে নানা কথা ছড়িয়েছে। এবার জানা গেল, বাস্তব জীবনে সমুদ্রের জলে ডুবে যাচ্ছিলেন শ্বেতা আর তাকে বাঁচাতে গিয়ে মারা যান রাহুল।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে এবিপি আনন্দ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলছিল, তাই সেখানে ক্যামেরা অন ছিল। তালসারির বিচে যখন দুর্ঘটনাটি ঘটে, তখন শুটিং চলছিল। ফলে সমুদ্রমুখী অনেকগুলো ক্যামেরা অন ছিল। সেই ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে দুর্ঘটনার দৃশ্য।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাহুল আর শ্বেতা হাত ধরে অনেকটা দূর পর্যন্ত এগিয়ে যাচ্ছেন। এই দৃশ্য শুটিংয়ের অংশ হিসেবেই রেকর্ড করা হয়। কিন্তু এরপর দেখা যায়, হঠাৎ পড়ে যান নায়িকা। তার পরের মুহূর্তেই সমুদ্রের জলে পড়ে যান রাহুলও।
এরপরে রাহুল আর শ্বেতাকে বাঁচাতে অনেকে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ক্যামেরার ডানদিক থেকে একজন ছুটে গিয়ে, প্রথমে উদ্ধার করেন শ্বেতাকে। তাকে উদ্ধার করেই একটি বোটে তোলা হয়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই রাহুলের খোঁজ পাওয়া যায়নি। বেশ কিছুটা সময় খোঁজার পরে, উদ্ধার করা যায় রাহুলকে। অনুমান করা হয়, এই সময়ের মধ্যে রাহুল অনেকটা জল খেয়ে ফেলেছিলেন। তাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের সূত্রটি জানিয়েছে, শ্বেতাকে উদ্ধার করা পর্যন্ত ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটা ধরা রয়েছে। কিন্তু রাহুলকে উদ্ধার করার সময়ে, ক্যামেরা চালু ছিল না। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ক্যামেরা।
সাঁতার জানতেন না রাহুল বা শ্বেতা কেউই। তবে জানা গেছে, শুটিংয়েন নিরাপত্তার জন্য নুলিয়া রাখা হয়েছিল। তিনিই জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের উদ্ধার করেন। তার কথায়, “রাহুল আর শ্বেতাকে বারে বারে গভীর জলে যেতে বারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সৈকতে বাতাস বেশি থাকায়, তারা কোনো কথাই শুনতে পাননি।”
ভয়েস/আআ