বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়িতে মালিকবিহীন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ার মগনামায় ওযু করতে গিয়ে মসজিদের ইমামের মৃত্যু তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ফারুকের ডিলার ব্যবসা, উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তনু হত্যা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ মহেশখালীতে ভাসমান বিকল এলএনজি টার্মিনাল আংশিক চালু ‘বিপুল’ অস্ত্রভান্ডারের দাবি ট্রাম্পের, তথ্য ফাঁসকারীদের হুঁশিয়ারি ‘আমি আমার শারীরিক গঠন পছন্দ করি’ বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল ‘ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত নির্যাতনের ঝুঁকি থাকলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া

তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ফারুকের ডিলার ব্যবসা, উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ

জিকির উল্লাহ জিকু

সরকারি চাকরিবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ডিলার খুলে দেদারসে ব্যবসা করে যাচ্ছেন আলমগীর ফরিদ টেকনিক্যাল কলেজের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ফারুক ইকবাল ওরফে ডিলার ফারুক। সেই সাথে ধরা পড়েছে সততা স্টোরের মালিক আবদুল গফুরের পুত্র ফারুক ইকবাল ওরফে ডিলার ফারুকের প্রতারণা, অসততা ও দুনীর্তির থলের বিড়াল। কিন্তু মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন ও মহেশখালী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টি অবগত হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব আছেন।

অভিযোগ আছে, মহেশখালী উপজেলা ও উপজেলা খাদ্য অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই নিয়মবিহর্ভূত এই ডিলারশীপ পান। অথচ এরকম ব্যবসা করা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ও ডিলার নিয়োগ শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

যেভাবে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও ফারুক ডিলারশীপ পান:
মহেশখালী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর তারিখের পরিপত্র এবং খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) নীতিমালা—২০২৪ অনুযায়ী মহেশখালী পৌরসভার জন্য ওএমএস ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন কক্সবাজারের স্থানীয় পত্রিকায় ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর।

স্থানীয় পত্রিকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিলার নিয়োগের আহবানের পর ২০২৫ সালের ২৪ জুন যাচাই—বাছাইয়ের পর একই মাসের ২৬ জুন চূড়ান্তভাবে ৬ জনকে ডিলার নিয়োগ প্রদান করা হয়।এই ৬ জন ডিলারের মধ্যে একজন হলেন, আলমগীর ফরিদ টেকনিক্যাল কলেজের (বিএম) তৃতীয় শ্রেণির ল্যাবসহকারী পদের কর্মচারী ফারুক ইকবাল ওরফে ডিলার ফারুক। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (গোরকঘাটা এলএসডি) দীব্যেন্দু বড়ুয়া।

মহেশখালী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের একটি সূত্র নাম গোপন করার শর্তে জানান, ডিলার নিয়োগ কমিটির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেদায়েত উল্যাহ এবং সদস্য সচিব ছিলেন বর্তমান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আওয়াই মং চাক। চূড়ান্ত ডিলার নিয়োগের আগে সব যাচাই—বাছাই হয়। কিন্তু ফারুক ইকবাল ওই সময় বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার আত্মীয় পরিচয় ও সাংবাদিক পরিচয়ে প্রভাবিত করে বিজ্ঞপ্তির ১৪ শতার্বলীর (ঝ) শর্তে উল্লেখ আছে প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী/জনপ্রতিনিধি ডিলার হতে পারবেন না শর্ত ভঙ্গ করে ডিলার নিয়োগ পান। যা এখন প্রকাশ্য দুনীর্তি।

আইনবহিভূর্ত ও অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে :
মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানান, উপজেলা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা—কর্মচারীর যোগসাজশে তিনি এ সুবিধা পেয়েছেন। সূত্রটি আরো জানান, নিজের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করে কখনো চাকরিজীবী, কখনো সাংবাদিক, আবার রাজনৈতিক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে সে বিভিন্ন অফিসে ধান্ধা করেন নিয়মিত। আর এসব বিষয়ে তাকে সহযোগিতা করেন অফিসের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ফারুক স্থানীয় পুটিবিলার দাসি মাঝি পাড়ার বাসিন্দা বলে স্থানীয় প্রভাব দেখান। তাছাড়া তিনি আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী পরিচয়, বিএনপি আসছে এখন বিএনপি পরিচয়ে প্রত্যেক অফিসে তদবীর করেন। ধুরন্ধর ফারুক সুকৌশলে বর্তমান এমপি আলমগীর ফরিদ মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ’র নাতি ও পিএস পরিচয় দেয়।

এলাকায় আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত:
স্থানীয় একাধিক রাজনৈতিক সচেতন মানুষের সাথে কথা বলে জানাযায়, ফারুক ইকবাল ওরফে ডিলার ফারুক এলাকায় একটি বিতর্কিত নাম। তার এমন বিতর্ক এই প্রথম নয়। সম্প্রতি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তাঁর উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি কোনো কমিটির সদস্য না হয়েও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সভায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মহেশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বহিরাগত হয়েও নিয়মিত টেবিল—চেয়ার ও ল্যাপটপ ব্যবহার এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সামনে এসেছে।সে এলাকায় আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত। দাসি মাঝি পাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় এক মুরুব্বী জানতে চাইলে বলেন, ফারুক ওরফে ডিলার ফারুক “গাছের টাও খায়, তলারটাও কুড়ায়”।

“এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। তথ্যগোপন করে কেউ যদি এরকম ডিলার নিয়োগ পায়। বিধিমোতাবেক ডিলার বাদ হবে।”আবু কাউছার, কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক

তার আছে ফেসবুক গ্যাং:
ফারুক ইকবাল ওরফে ডিলার ফারুকের একটি সংঘবদ্ধ ফেসবুক গ্যাং রয়েছে। কোনো মানুষকে টার্গেট করলে তার অনুসারী কয়েকজন মিলে একসাথে তাকে হ্যারেজমেন্ট করতে একই স্ট্যাটাস বা লেখা শেয়ার করে লিখতে থাকে। এরকম করতে গিয়ে ২০১৮ সালে মহেশখালী কলেজের প্রভাষক আবু সরওয়ার রানার বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা লিখতে গিয়ে তৎসময়ে আইসিটি আইনে চাঁদবাজি ও মানহানি মামলার আসামী হন। যা পরে ২৪ অভ্যুত্থানের পর আইন বাতিল হলে রেহাই পান।

বাদী সূত্র জানান, তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে ফেসবুকে লিখলেও কোনো পত্রিকায় রিপোর্ট করেনি। শুধু ফেসবুকে লিখে তাকে টার্গেট করা হয়েছিল। এ বিষয়ে জানাতে চাইলে মহেশখালীর একজন সাংবাদিক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাকেও ফেসবুকে হুমকি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। যা তার অতীতের আওয়ামী চরিত্র।
মহেশখালী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আওয়াই মং চাক বলেন, “আমি নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ছিলাম, আমার জানামতে বেসরকারি চাকরীজীবী ডিলার নিয়োগ পেতে পারেন না এটা আমার জানা নেই। এটাও জানা নেই তিনি (ফারুক) একটি এমপিওভুক্ত কলেজের ল্যাব সহকারী। তবে আমি জানি তিনি রিপোর্টার। এবিষয়ে ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বললে ভালো হয়।”

“ওই সময় ডিলার নিয়োগ করা হচ্ছে ওই সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। যেকোন সরকারি চাকরীজীবীর তথ্য গোপন করে ডিলার নেওয়া শর্তভঙ্গের সাথে আইনত অপরাধ। আমি অফিসারকে বলে দিয়েছি, বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে”

ইমরান মাহমুদ ডালিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মহেশখালী

একজন এমপিওভুক্ত কর্মচারী ওএমএস ডিলার নিয়োগ পেতে পারেন কিনা জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু কাউছার বলেন, এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। তথ্যগোপন করে কেউ যদি এরকম ডিলার নিয়োগ পায়। বিধিমোতাবেক ডিলার বাদ হবে।

জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, যে সময় ডিলার নিয়োগ করা হচ্ছে ওই সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। যেকোন সরকারি চাকরীজীবীর তথ্য গোপন করে ডিলার নেওয়া শর্তভঙ্গের সাথে আইনত অপরাধ। আমি অফিসারকে বলে দিয়েছি, বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা বারের সিনিয়র সদস্য এডভোকেট ফারুক ইকবাল (বর্তমানে সলিসিটর, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস) বলেন, এমপিওভুক্ত (MPO-listed) কোনো শিক্ষক ওএমএস (OMS) ডিলার হতে পারবেন না। সরকারি নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে এর মূল কারণগুলো হলো:১. লাভজনক পদে নিয়োগের বিধিনিষেধ: এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি খাতের (MPO থেকে বেতন—ভাতা পেয়ে থাকেন। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক অন্য কোনো লাভজনক পদে (Profit-making business or trade) নিয়োজিত হতে পারেন না বা সমান্তরাল অন্য কোনো ব্যবসা/ডিলারশিপের সাথে যুক্ত হতে পারেন না।
২. স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest): ওএমএস ডিলারশিপ একটি লাভজনক বাণিজ্যিক কার্যক্রম, যা পরিচালনা করতে পূর্ণকালীন সময় ও মনোযোগের প্রয়োজন হয়। শিক্ষকতার পাশাপাশি এই ধরনের খাদ্যপণ্য বিক্রির বাণিজ্যিক কাজে যুক্ত হওয়া বিধিসম্মত নয়। যদি কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে ওএমএস ডিলারশিপ গ্রহণ করেন, তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর এমপিও বাতিল হতে পারে এবং ডিলারশিপও বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ভয়েস/জেইউ।

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION