বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেই কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রবলভাবে আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়।
এতদিন লড়াই হচ্ছিল মূলত চিঠি ও বিবৃতির মাধ্যমে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সামনে পেয়ে ভিডিও কনফারেন্সেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র জানাচ্ছে, কোনও রকম রাখঢাক না করে একেবারে চাঁচাছোলা ভাষায় মমতা বলেন, ”করোনা নিয়ে রাজনীতি করবেন না। এটা রাজনীতি করার সময় নয়। কেন্দ্র যেন একটা চিত্রনাট্য অনুসরণ করে চলছে। রাজ্যের মতামত নেওয়া হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীদের মতামত নেওয়া হচ্ছে না। দয়া করে, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর বুলডোজার চালাবেন না।” এখানেই শেষ নয়। মমতা বলেছেন, ”আমরা সকলে আপনাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছি। আর আপনারা আমাদের আক্রমণ করছেন। আর শুধু পশ্চিমবঙ্গের নাম নিয়ে সমানে কেন সমালোচনা করা হচ্ছে?”
মুখ্যমন্ত্রীকে যাঁরা চেনেন, তাঁরা জানেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ক্রদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হন, তা হলে যে কোনও বৈঠকে তিনি সরাসরি ‘উচিত কথা’ বলতে ছাড়েন না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীদের ভিডিও কনফারেন্সেও সেটাই হয়েছে। আসলে করোনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মোদী-শাহের বিরোধ প্রথম শুরু হয় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের পশ্চিমবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছবার আধঘন্টা পরে কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্যকে জানানো হয়, প্রতিনিধিদল গিয়েছে। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে পত্রযুদ্ধের পর প্রতিনিধিদলকে পরিস্থিতি ঘুরে দেখার অনুমতি দেওয়া হয়।
এরপর বিরোধ বাড়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে আনার জন্য ট্রেন দেওয়াকে কেন্দ্র করে। রাজ্য সরকার প্রথমে মাত্র দুইটি ট্রেন নিয়েছিলো। এ নিয়ে হইচই শুরু হওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ চিঠি পাঠান মুখ্যমন্ত্রীকে। কেন রাজ্য সরকার ট্রেন নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন। রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের আনার জন্য আরও দশটি ট্রেন বুক করে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অমিত শাহ রাজনীতি করছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে এ দিনের বৈঠকে প্রথমেই তাঁর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।তবে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে মূলত ১৭ মে-র পর লকডাউন জারি রাখা হবে কি না, তা নিয়ে। বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, লকডাউনের মেয়াদ যেন আরও বাড়ানো হয়। এই রাজ্যগুলির মধ্যে আছে, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশ, পাঞ্জাব, বিহার ও তামিলনাড়ু। অনেক রাজ্য তো মঙ্গলবার থেকে ট্রেন চালু করারও বিপক্ষে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাট বলেছে, লকডাউন তুলে নিলে তাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আরেকটি বিজেপি শাসিত রাজ্য আসাম চায় লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হোক।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বলেছেন, মে মাসে ভারতে করোনার প্রকোপ তুঙ্গেউঠতে পারে। জুন বা জুলাইতেও তা হতে পারে। তাই লকডাউন নিয়ে সিদ্ধান্ত খুব ভেবেচিন্তে নিতে হবে। আরও দুই সপ্তাহ অন্তত লকডাউন থাকুক। সবুজ এলাকায় সব ধরনের আর্থিক কাজকারবার চলুক। নিত্যপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যাঁরা আছেন, তাঁদের জন্য শহরতলির ট্রেনও চালু করা হোক। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রস্তাব হলো, লাল এলাকা বাদে বাকি দিল্লিতে আর্থিক কাজকারবার শুরু করতে দিক কেন্দ্র।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রাথমিক মন্তব্যে বলেছেন, সরকার প্রথমে চেয়েছিলো, যে যেখানে আছে, সেখানেই থাকুক। কিন্তু লোকের বাড়ি ফেরার চাহিদা স্বাভাবিক। তাই সিদ্ধান্ত বদল করা হয়েছে। সারা বিশ্ব মেনে নিয়েছে, ভারত করোনার বিরুদ্ধে ঠিকভাবে ও সাফল্যের সঙ্গে লড়েছে। মোদীর মতে, এখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাটা সব চেয়ে জরুরি।
জিএইচ/এসজি(পিটিআই, এএনআই)/ডয়েচে ভেলে।
ভয়েস/জেইউ।