রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন
আবুল বশর পারভেজ ভয়েস প্রতিবেদক, মহেশখালী
মহেশখালী পৌরসভা নির্বাচনে ৩ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হচ্ছেন কৃষক পরিবারের সন্তান সাংবাদিক আবুল বশর পারভেজ।তিনি দ্বিতীয়বার কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হচ্ছেন এমন তথ্য পারিবারিকভাবে জানাগেছে।এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমাকে যদি এলাকা মানুষ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে জয়যুক্ত করান তাহলে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠির মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধি করাই প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য।
মহেশখালী পৌরসভা নির্বাচন ২০২১ অনুষ্ঠিত হবে ১১ এপ্রিল। এ নির্বাচনে ৩ নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি, কৃষক পরিবারের সন্তান সাংবাদিক আবুল বশর পারভেজ।
জানাযায়, পারভেজ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পেশার অভিজ্ঞতার পর এখন সাংবাদিকতার পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ১৯৮১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মহেশখালী পৌরসভাধীন দক্ষিণ পুটিবিলা দাসিমাঝি পাড়া গ্রামের এক কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। শিক্ষা জীবনে পারভেজ মক্তব থেকে প্রথম শিশু শিক্ষা শুরু করে স্থানীয় খালেদ বিন ওয়ালিদ মাদ্রাসাায় পড়া লেখা করেন। পরে মহেশখালী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরিবারে ২ ভাই ২ বোন। এর মধ্যে তিনি বাবা-মা’র ২য় সন্তান।
কৃষক পরিবারের সন্তান পারভেজ’র উচ্চ শিক্ষা অর্জনের শত আগ্রহ থাকা সত্বেও পারিবারিক কারণে তা হয়ে ওঠেনি। সে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করতে না পারলেও কলেজ জীবন পর্যন্ত নূন্যতম পড়ালেখা করেন। পরে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে পদার্পন করেন। কর্ম জীবনে পারভেজ অন্তত ৫ টি এনজিও সংস্থায় বিভিন্ন পদে চাকুরী করেন।
২০০৩ সালে কিছু সময়ের জন্য মহেশখালী পৌরসভাধীন দক্ষিণ পুটিবিলা খালেদ বিন ওয়ালিদ মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ হাসপাতালের একটি প্রজেক্টে দীর্ঘ ৫ বছর চাকুরী করেন। এসময় তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের পূণর্বাসনের বিষয়ে কাজ করেন। এই মানবিক কাজ করতে গিয়ে তাকে গ্রামীণ মানুষের দূঃখ-দুর্দশা ও শিক্ষার অভাবে অসচেনতার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। তখন থেকেই পারভেজ’র হৃদয়ে নাড়া দিতে থাকে অভাবগ্রস্থ মানুষের দারিদ্রতা ও প্রতিকূলতা। স্বপ্নের বীজ বুনতে থাকে এসব মানুষদের পরিত্রাণে। স্বপ্ন দেখতে থাকেন কিভাবে তার জন্ম স্থান দক্ষিণ পুটিবিলা দাসিমাঝি পাড়ার মানুষের মাঝে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তন করা যায়। এরই মধ্যে চাকুরীর ফাঁকে বিভিন্ন সংস্থা, ব্যক্তি ও পারিবারিক লোকের মাধ্যমে গ্রামের জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরেন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা। গ্রামের প্রতিটি গোষ্ঠির নেতৃত্বে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, বিশেষ করে বৃহত্তর গোরকঘাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুল আলমকে সাথে নিয়ে এলাকার সকল শ্রেণি পেশার লোকজনদের আর্থিক সহায়তায় ২০০৬ সালে দক্ষিণ পুটিবিলা বিদ্যা নিকেতন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু করেন। যেটি বর্তমানে দক্ষিণ পুটিবিলা প্রিজম বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে প্রতিষ্ঠিত।
সাংবাদিক আবুল বশর পারভেজ’র একান্ত প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালে প্রিজম বাংলাদেশ সংস্থা তাদের ৩ তলা বিশিষ্ট আধুনিক মানের টেকশই মজবুত ভবনটি সহ ৩৯ শতক জমি ও সকল মালিকানা এ স্কুলের নামে রেজিষ্ট্রি কবলা সম্পাদন করে মালিকানা পর্যন্ত তৈরি করে দেন। তার প্রাতিষ্ঠানিক কোন ক্ষমতা না থাকা সত্বেও সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছেন এলাকার মানুষের পক্ষে কিছু একটা কাজ করতে। যখনই কোন সময়ে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয় তখনই পারভেজ সরকারী দপ্তরে চেষ্টা করে এলাকার মসজিদ মাদ্রাসা, স্কুল ও এতিমখানার শিক্ষার্থী সহ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সরকারী বা ব্যক্তি অনুদান থেকে শীতবস্ত্র পেয়ে দিতে। এছাড়াও এলাকার মানুষের বিভিন্ন সহায়তার জন্য স্থানীয় এমপি, ডিসি, ইউএনও সহ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদেরকে কাছে সব সময় আবেদন নিবেদন করে আসছেন পারভেজ। এছাড়াও তিনি প্রতিবন্ধী জনসাধারণের জন্য পোষাক ও কিশোরী মেয়েদের দক্ষতামূলক সেলাই প্রশিক্ষনে অংশগ্রহন করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য এনজিও ও সরকারী দপ্তরে নিয়মিত তদবির করেন। বর্ষা মৌসুমে মহেশখালী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে বসবাসরত জনসাধারণের চলাচলের পথে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে তা সরকারী বা ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সমাধানের উদ্দ্যোগ গ্রহন করেন। কেউ যদি পারভেজ’র বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন তাহলে ঐ সমালোচনাকারী ব্যক্তির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যান তিনি। মানুষের কল্যানে নিবেদিত একজন প্রাণ পুরুষ সাংবাদিক পারভেজ। ২০১৭ সালে প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘূর্ণিঝড় মোরায় পুটিবিলা এলাকার ৫৩ জন মাঝি মাল্লা ফিশিং ট্রলার সহ সাগরে নিখোঁজ হলে সর্ব প্রথম এগিয়ে আসেন পারভেজ। তিনি নিখোঁজ মাঝি মাল্লাদের পরিবারকে পূণর্বাসন সহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ বিভিন্ন স্তরে আবেদন করেন। সেই আবেদনের আলোকে সরকারী প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন এনজিও সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসেন৷
এলাকার কোন ঘটনা সংঘটিত হলে সাথে সাথে থানায় মামলা না করে উভয় পক্ষকে সমঝোতা করে নিষ্পত্তির আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান তৈরী করে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত জন প্রতিনিধি না হয়েও যখন যিনি যে সময় তার পাশে গিয়ে পরামর্শ চেয়ে ও সহযোগিতার জন্য এগিয়েছেন সে তার সাধ্য সামর্থ্য সময় দিয়ে সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
পক্ষ বিপক্ষ গোষ্টিগত সকল বেদাবেধ ভূলে গিয়ে এলাকাকে শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন।
আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য মহেশখালী পৌরসভা নির্বাচনে ৩ নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিক আবুল বশর পারভেজ বলেন, কারো প্রতি হিংসা বিদ্বেষ বা প্রতিশোধ মূলক নয়, সামাজিক সহাবস্থানের মাধ্যমে ৩ নং ওয়ার্ডের শিক্ষা অনগ্রসর জনগোষ্ঠিকে শিক্ষার প্রসারতা ও যোগাযোগ সহ সামগ্রীক উন্নয়নের প্রত্যয়ে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করে সাংবাদিক আবুল বশর পারভেজ সকল নারী পুরুষ যুব সমাজদের প্রতি আহ্বান জানান।
ভয়েস/আআ।