EDITOR
- ২৮ মার্চ, ২০২১ /

এস.এম. রুবেল, মহেশখালী:
মহেশখালীতে হেফাজত ইসলামের ডাকা হরতাল পালিত হয়েছে। তবে কোথাও কোন মারামারির ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকে হেফাজতের কর্মীরা মহেশখালী পৌরসভা, বড়মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া ও শাপলাপুরের প্রধান সড়ক অবরোদ্ধ করে রাখে। সারাদিন ব্যাপী এ হরতালে পুরো মহেশখালী হেফাজতের কর্মীদের দখলে ছিল। এছাড়াও লাঠি হাতে মহেশখালীর প্রধান সড়ক সহ বিভিন্ন জায়গায় মোদি বিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করে।
সরজমিনে দেখা যায়, বড়মহেশখালী নতুন বাজার, গোরকঘাটা বাজার সহ প্রত্যেকটি বাজারে দোকানপাট বন্ধ ছিলো। জরুরী পরিবহন ছাড়া সকল প্রকারের পরিবহণও চলেনি এসময়। সকাল ১০ টার দিকে বড়মহেশখালী মধুয়ার ডেইল, জাগিরাঘোনা, পুটিবিলা প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে হরতাল পালণ করে পিকেটাররা। এছাড়াও গাছ পেলে প্রধান সড়ক বন্ধ করে রাখে।
এদিকে হেফাজতের হরতাল প্রতিহত করতে আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কোন ভূমিকা দেখা যায়নি। মহেশখালীর কোথাও বাড়ি থেকে বের হয়নি আওয়ামীলীগ সমর্থিত নেতাকর্মীরা। তবে দুপুর ১২টার দিকে যুবলীগের আহ্বায়ক সাজেদুল করিমের নেতৃত্বে উপজেলার সামনে প্রতিবাদ মিছিল করা হয়। তবে যুবলীগ মিছিল করলেও হেফাজতের কর্মীদের সাথে কোন প্রকার সংঘর্ষ বাঁধেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামলীগের নেতাকর্মীরা আক্ষেপ করে জানান, মহেশখালী পৌরসভা ও বড়মহেশখালীতে কড়া হরতাল পালণ করেছে হেফাজত ইসলাম। কিন্তু এ দুই জায়গায় আওয়ামীলীগের বড় বড় নেতা থাকলেও কেউ প্রতিবাদ করেনি। মহেশখালী পৌরসভা ও বড়মহেশখালীতে প্রধান সড়কে হেফাজত কর্মীরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠি মিছিল, টায়ার পোড়ানো ও পথসভা করে। বিকেলে একই ব্যক্তিরা মহেশখালী পৌরসভা সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে নৌকার মিছিলে অংশ নেন।
ছাত্রলীগ কর্মী সাদিয়ার আলম রাসেল প্রতিবাদ করে তার ফেসবুকে লিখেন, “মহেশখালীতে কিছু আওয়ামী পদধারী বড় লোকের পৃষ্ঠপোষকতায় হেফাজতি, জামাতি, নুরু গংদের হরতালে দোকানপাট বন্ধ করেছে, গাড়ি চলাচল অচলাবস্থা তৈরী হয়েছে।”
অপরদিকে আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তফা আনোয়ার তার ফেসবুকে লিখেন, “মহেশখালীর রাজপথের সৈনিকদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। কেউ সন্ধান পেলে বাবুর দিঘীস্থ আওয়ামীলীগ অফিসে পৌঁছে দিন।”
হেফাজত ইসলামের পরবর্তী কোন কর্মসূচী আছে কিনা সেই বিষয়ে হেফাজত ইসলামের মহেশখালী শাখার সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা হেলাল উদ্দীন জানান, মহেশখালী উপজেলায় আপাতত তাদের কোন কর্মসূচী নেই। তবে আগামীকাল শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল রয়েছে।
ভয়েস/আআ