বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

তীব্র গরমেও কক্সবাজারে বেড়েছে পর্যটক

টানা তিনদিনের ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতে লাখো পর্যটকের আগমন।

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

তীব্র দাবদাহেও পর্যটক বেড়েছে কক্সবাজারে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণপিয়াসীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। শহরের পাঁচ তারকা হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস কমবেশি বুকিং হচ্ছে। ভর দুপুরেও লোকারণ্য বেলাভূমি ও সাগর তীর।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, গরমে তারকা হোটেলগুলো নিদিষ্ট ভাড়ায় ছাড় দিচ্ছে। গেস্ট হাউস, কটেজ বা নরমাল হোটেলগুলোর অধিকাংশ সহনীয় পর্যায়ে ভাড়া রাখায় গরমেও পর্যটক উপস্থিতি বাড়ছে। তাদের মতে, নিয়মিত রেলের পাশাপাশি দুটি স্পেশাল রেলও ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে চলাচল থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটক উপস্থিতি রয়েছে কক্সবাজারে।

ঢাকার মালিবাগ থেকে আসা পর্যটক দম্পতি আবরার নাঈম বলেন, এর আগে শীত মৌসুমে কক্সবাজারের বেড়াতে এসেছিলাম। এখন রেলে যাতায়াত করতে পারায় পরিবার নিয়ে গরমে চলে এসেছি। সারাদেশে তো গরম। এখানে সাগরের সান্নিধ্যে এসে গরম তাড়ানো যাচ্ছে। সঙ্গে হোটেল ভাড়াও তুলনামূলক কম পাচ্ছি। আমার বন্ধুদের এ সময়ে কক্সবাজার আসতে আহ্বান করেছি আমি।

ট্যুরস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ছাড়াও রেস্তোরাঁ, ওয়াটার ও বিচবাইক, শামুক-ঝিনুক, শুঁটকি, বার্মিজপণ্য বিক্রিসহ কয়েক লাখ মানুষ সরাসরি পর্যটন সেবা সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, আগে পর্যটকরা বুকিং দিয়ে কক্সবাজারে আসতেন। ট্রেন চালুর পর হতে কক্সবাজার পৌঁছে রুম দেখে বুকিং দিচ্ছেন। গত ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ভালোই ব্যবসা হয়েছে। কিন্তু ১৫ এপ্রিল থেকে ব্যবসায় অন্ধকার নামবে বলে ভেবেছিল ব্যবসায়ীরা। কিন্তু উল্লেখ করার মতো পর্যটক গরমেও কক্সবাজার আসছেন।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম ডালিম বলেন, পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আয়-ব্যয় সমান্তরাল। দুদিনের ব্যবসায় এখানে টিকে থাকা কষ্টকর। রমজানে কোনো ব্যবসা হয়নি। তবে, ঈদের পর দুদিন পর্যটকে ঠাসা ছিল কক্সবাজার। এরপর প্রায় প্রতিদিন কমবেশি পর্যটকের উপস্থিতি রয়েছে। এতে বিনিয়োগ পুরো না উঠলেও নিয়মিত খরচটা পোষানো সম্ভব হবে।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, ভ্রমণে সিদ্ধহস্ত পর্যটকরা নিরাপত্তা, সেবা, বুফে ব্রেকফাস্ট, ডিনারসহ অন্য সুযোগের কারণে তারকা হোটেল উঠেন। গরম ও ঈদের পর হতে, বিশেষ ছাড়ে রুম পাচ্ছেন পর্যটকরা। ঈদ ও বাংলা নববর্ষ মিলিয়ে হোটেলে আমরা বৈশাখী মেলা ও জলের গান শিল্পী গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছি। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার পাবার পর পর্যটকদের আগমন চলমান রয়েছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, জেলায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউসে ২৫ হাজারের মতো কক্ষ রয়েছে। ঈদে একদিনে আবাসন থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯-১০ কোটি টাকা। পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও অন্য পর্যটন অনুষঙ্গের সেবামূল্য এসেছে ২০-২৫ কোটি টাকার মতো।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদ বলেন, আগের মতো ঈদ ও নববর্ষ ছুটিতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম মাথায় রেখে সবধরনের প্রস্তুতি ছিল আমাদের। যা এখনো বিদ্যমান। সৈকতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেছি আমরা। বিপদাপন্ন পর্যটকরা একটি বাটন টিপেই সেবা নিশ্চিতের সুযোগ পাচ্ছেন। পর্যটকের নিরাপত্তা ও সেবায় সার্বক্ষণিক টহল রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. ইয়ামিন হোসেন জানান, ঈদ-নববর্ষের মতো না হলেও প্রতিদিন কমবেশি পর্যটক উপস্থিতি রয়েছে। হোটেলে-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত টাকা আদায় কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়রানি রদ এবং পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসন। ঈদেরপর হতে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ভয়েস/আআ/সূত্র: জাগো নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION