বুধবার, ১৯ Jun ২০২৪, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

কক্সবাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লবণ উৎপাদন

আবদুল আজিজ:
তীব্র তাপদাহে পুড়ছে সারাদেশ। একারণে বৃষ্টির জন্য দেশের কিছুকিছু এলাকায় এস্তেহার নামাজও আদায় করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে এই তাপদাহকে অনেকে অভিশাপ হিসাবে উল্লেখ করলেও কক্সবাজারের লবণচাষীরা বলছেন এটি তাদের জন্য আশীর্বাদ। লবণ চাষিদের ভাষ্যমতে, যত বেশী গরমের তীব্রতা বাড়বে, ততবেশী লবণ উৎপাদন বাড়বে। ফলে এ বছর তাপদাহ বাড়ার কারণে ৬৩ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লবণ উৎপাদন হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর দেয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৩ লাখ ১০ হাজার ৯১৮ মেট্রিকটন লবণ উৎপাদন হয়েছে। যা গত বছর পুরো মৌসুমে লবণ উৎপাদন হয়েছিল ২২ লাখ ৩২ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন। গত বছর প্রতি মণ লবণের মূল্য ছিল ৪২০টাকা। তবে চলতি বছর বর্তমান প্রতি মণ লবণের মুল্য ৩১০টাকা। যা আগামী আরও কয়েক সপ্তাহ তাপদাহ থাকলে লবণ উৎপাদন ৩০ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

লবণ চাষীদের ভাষ্যমতে, সারাদেশেই বৃষ্টির জন্য চলছে আহাজারি। কিন্তু দেশের একমাত্র লবন উৎপাদন এলাকা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাশখালী উপকুল এলাকায় তীব্র দাপদাহ যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। মাঠে গরমের তাপ আর বাতাসের লবনের উৎপাদন আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন লবন উৎপাদন হচ্ছে। গত বছর এই সময়ে যা ছিল গড়ে ৩০ থেকে ৩২ হাজার মেট্রিক টন।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশে লবণ উৎপাদন হয়েছিল ২২ লাখ ৩২ হাজার ৮৯০ টন। অথচ চলতি বছরে মৌসুম শেষ না হওয়ার আগেই অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদন হয় ২৩ লাখ ১০ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত বছরের বার্ষিক উৎপাদনকে ছাড়িয়ে গেছে। একদিনে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদনের ফলে প্রতি আড়াই দিনে প্রায় এক লাখ টনেরও বেশি লবণ উৎপাদন করছেন লবন চাষিরা। মাঠ পর্যায়ে প্রচুর লবন উৎপাদন হওয়ায় চাষি থেকে শুরু করে লবন ব্যবসায়ী ও লবনের উপর নির্ভরশীল কক্সবাজারের মানুষ খুশি। তবে মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে লবন দাম কমে যাওয়ায় হতাশ চাষিরা।

কক্সবাজারের চৌফলদন্ডী এলাকার লবণ চাষী মোজাফ্ফর আহমদ কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘তীব্র গরমে লবণের উৎপাদন অস্বাভাবিক বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর অনেক লবণ বেড়ে যাওয়ায় খুশি চাষীরা। তবে, গত বছর লবণের মুল্য প্রতিমণ ৪২০ টাকা ছিল। চলতি বছরের লবণের দাম কমে প্রতিমণ ৩১০টাকা হয়েছে।’

একই এলাকার লবণ চাষী শফিউল করিম কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘তীব্র তাপদাহ আমাদের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। যদি আরও কিছুদিন তাপদাহ থাকে, তাহলে লবণ উৎপাদন দ্বিগুন ছাড়িয়ে যাবে। এবছর গরম আর বাতাশের তীব্রতা থাকায় লবণ চাষের জন্য উপযুক্ত হয়েছে। এতে আমরা এবং আমাদের পরিবার খুশি।’

বাংলাদেশ লবন চাষি কল্যান পরিষদের সভাপতি মোস্তফা কামাল চৌধুরী কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘বর্তমানে মাঠে প্রচুর পরিমাণে লবন উৎপাদন হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে চাষিরা লবনের ভালো দাম পেলেও এখন লবনের দাম একটু কমের দিকে। রেকর্ড লবন উৎপাদন হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের চাষিরা খুশি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে লবন আমদানির কোন প্রয়োজন হবেনা বলে তি মনে করেন।

মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ বর্তমানে মাঠে এখন প্রচুর পরিমাণে লবন পড়ে আছে। বৃষ্টি কিংবা কালবৈশাখী ঝড়ে মাঠের লবন নষ্ট হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। মাঠের গর্তে কিংবা গোদাম বা মিল পর্যায়ে লবন মজুদ করে ফেলতে পারলে দেশের উৎপাদিত লবন সংরক্ষিত থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: জাফর ইকবাল ভুঁইয়া কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাশখালী উপজেলায় চলতি বছর লবণ উৎপাদন হচ্ছে ৬৮ হাজার ৩৫৭ একর জমিতে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৬৬ হাজার ৪২৪ একরে। জমির পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি চলতি মৌসুমে চাষির সংখ্যা ১ হাজার ২২৮ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ হাজার ৬৯৫ জনে।

জাফর ইকবাল বলেন, ‘বাড়তি লবণ উৎপাদনের কারণে মাঠ পর্যায়ে ক্রুড লবণের দাম কমে এসেছে। চাষিরা যদি ধীরে ধীরে লবন বিক্রি করে তবে তারা দাম বাড়তে পারে। গত ২০২২-২৩ মৌসুমের এই সময়ে মাঠ পর্যায়ে ক্রুড লবণের মণপ্রতি দাম ছিল সর্বনিম্ন ৪২০ টাকা।

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি মৌসুমে দেশে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ লাখ ২৮ হাজার টন। মৌসুমের শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝি বিরূপ আবহাওয়া, একাধিক ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লবন উৎপাদন ব্যহত হয়েছিল। ওই সময়ে কৃষক পর্যায়ে মাঠ থেকে অল্প অল্প লবণ উত্তোলন হলেও বর্তমানে তীব্র তাপদাহে ভালোমানের দানাদার লবণ উৎপাদন হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ৭-১০ দিনে মাঠে লবণ পুষ্ট হলেও বর্তমানে সেটি নেমে এসেছে ১ দিনে বা ২৪ ঘণ্টায়। সর্বশেষ কয়েক দিনে ১০-১২ ঘণ্টার মধ্যেও মাঠ থেকে লবণ সংগ্রহের রেকর্ড তৈরি হয়েছে’।

লবণ চাষীদের মতে বিসিকের কর্মকর্তারাও বলছেন, দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ কৃষি, মৎস্য, পোল্ট্রিসহ বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও লবণ উৎপাদনের জন্য আর্শীবাদ হয়ে এসেছে। আগামী এক সপ্তাহ কক্সবাজারে বৃষ্টি না হলে চলতি বছর লবন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION