বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যে ছায়াযুদ্ধ

সংগৃহীত ছবি

ভয়েস আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মধ্যপ্রাচ্য সবসময়ই কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অনেক অবস্থান থেকে গত পাঁচ বছরে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ডিসির বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য কৌশল শুধুমাত্র সন্ত্রাসী হামলা ঠেকিয়ে রাখা। আলকায়েদা, ইসলামিক স্টেটের মতো সন্ত্রাসী দলগুলো যাতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হামলা চালাতে না পারে, এটা নিশ্চিত করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ বছর ধরে চালানো ছায়াযুদ্ধে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে নিজেদের হয়ে লড়াইয়ের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন দলকে ক্ষমতায়ন করতে শুরু করেছে। প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য ছাড়াও অন্যান্য অনেক সুবিধা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থরক্ষা করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়ায় ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ছায়াযুদ্ধ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থসিদ্ধি করতে পারবে না। কিছুক্ষেত্রে উল্টো ফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে চাইছে। তারা এখন উন্নয়ন ও কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন চাইছে। যুদ্ধহীন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে টেকা মুশকিল বলেও মনে করেন তারা।

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদাররা এখন নিজেদের ছায়াযুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত। ২০১১ সালে আরব বসন্তের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতেও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে যা অঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে লিবিয়ার মতো অন্য কোনো দেশে অল্পদিনের মধ্যে বিজয় মডেল আর সম্ভব নয় যুক্তরাষ্ট্রের দিক দিয়ে। লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হত্যার পর ২০১৪ সালে খলিফা হাফতার রাশিয়া, আরব আমিরাত, মিসরসহ আরও কিছু দেশের সমর্থন নিয়ে জাতিসংঘ সমর্থিত ত্রিপোলি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণা করে। ত্রিপোলি সরকারের পক্ষে আছে তুরস্ক ও কাতার। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হাফতারের বাহিনী কিছুটা পিছু হটলেও ত্রিপোলি সরকারের মদদদাতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে রাজি নন জেনারেল হাফতার।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক শক্তি ইরানও তার জায়গা থেকে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরানও অন্য দেশে নিজের সেনাবাহিনী না পাঠিয়ে বিভিন্ন দলকে অর্থায়ন ও সামরিকায়ন করছে। সিরিয়ায় ছায়াযুদ্ধ কার্যত ইরানেরই জয় হয়েছে বলা যায়। যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়েছে সিরিয়ার কিছু অংশ থেকে নিজেদের সৈন্য প্রত্যাহার ও কয়েকটি দলকে অর্থায়ন বন্ধ করতে। এই প্রত্যাহারের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা পূরণে এগিয়ে আসে তুরস্ক। এখন সিরিয়ায় তুরস্ক ও রাশিয়ার হাতে ক্ষমতা। ইয়েমেনেও সৌদি জোটের অবস্থা ভালো না। সৌদির কাছে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখলেও জোটের অন্য দেশগুলো আগের মতো সৌদির পেছনে নেই। ইয়েমেনে তাই বাধ্য হয়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও যেতে হয়েছে রিয়াদকে। ইয়েমেনকেন্দ্রিক ছায়াযুদ্ধের অংশীদার বহুপক্ষ। ফ্রান্সও এর অন্যতম অংশীদার। সম্প্রতি লেবাননে ভয়াবহ জোড়া বিস্ফোরণের পর ফ্রান্স চাইছে তাদের সাবেক কলোনিতে নতুন করে প্রভাব বিস্তার করতে। সূত্র:দেশরূপান্তর।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION