বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ন
বিবিসি বাংলা:
যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের হুমকি মোকাবেলায় ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং আরেকটি সংঘাতের ক্ষেত্রে নতুন সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর আইআরজিসি। একই সময়ে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি জারি করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফরের নিন্দা জানিয়েছে এবং এ সফরের পরিণাম সম্পর্কে আঞ্চলিক দেশগুলোকে ‘সতর্ক’ করেছে।
এদিকে, আইআরজিসির তিনজন মহাকাশ প্রতিরক্ষা বিভাগের কমান্ডারের ব্যাপারে তথ্যের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরষ্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির একজন মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্রসম্ভার সমৃদ্ধ করা অব্যাহত রাখবে এবং ‘যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে নতুন অস্ত্র ব্যবহারের সূচনা করবে।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ এই সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছে যে, “ইরান তার প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ও গতিবিধি সম্পর্কে অজ্ঞ নয়, তারাও পর্যবেক্ষণ করছে।”
গত কয়েক দিনে ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্কতামূলক বক্তব্য দিয়ে বলেছিলেন যে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তারা সংঘাতের সীমানা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
তারা আরও দাবি করেছে যে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে সংঘাতের সময় তারা প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।
এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চলমান থাকায় এখনও কার্যত অচল হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। ফলে জ্বালানি আমদানির বিকল্প রুট হিসেবে সিরিয়ার একটি বন্দর থেকে ইরাক জ্বালানি স্থানান্তর শুরু করেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, শক্তি ও জ্বালানির তীব্র চাহিদা মেটাতে ইরাকি জ্বালানি ট্যাংকারগুলো সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরে পেট্রোল লোড করেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে, যার ফলে দেশগুলো বিকল্প পথ খুঁজে বের করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে এবং জ্বালানির দামও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুতকারী অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারার অধীনস্থ সিরিয়া এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছে।
ভিয়েস/আআ