সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও তথ্য গোপনের প্রতারণার অভিযোগে ফারুক ইকবালের মহেশখালী পৌরসভার ওএমএস ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। সে পুটিবিলার বাসিন্দা আলমগীর ফরিদ টেকনিক্যাল কলেজের ৩য় শ্রেণির কর্মচারী।
বিষয়টি ১৯ অক্টোবর নিশ্চিত করে মহেশখালী উপজেলা খাদ্য অফিসের কর্মকর্তা দিব্যেন্দু বড়ুয়া বলেন, লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ডিলারশিপ নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ওএমএস নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি বা লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তির ডিলার হওয়ার সুযোগ নেই। তবুও ফারুক তথ্য গোপন করে এবং রাজনৈতিক ও সংবাদকর্মী পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে ডিলারশিপ হাতিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের একটি অসাধু চক্রকে ম্যানেজ করে তিনি এই অনৈতিক সুবিধা পান।
বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর আগে বহিরাগত হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রভাব বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপপ্রচারসহ নানা অপরাধে ফারুক বিতর্কিত হয়ে ওঠেন। ২০১৮ সালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এক শিক্ষকের করা চাঁদাবাজি ও মানহানি মামলায়ও তিনি আসামি ছিলেন।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ সলিসিটর জানান, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা কোনো বাণিজ্যিক ডিলারশিপ বা লাভজনক পদে যুক্ত হতে পারেন না। এটি এমপিও নীতিমালা ও ওএমএস শর্তাবলির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মহেশখালী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আওয়াই মং চাক বলেন, ফারুক শর্ত গোপন করে ডিলার নেওয়ার কারণে সরকারি বিধি অনুযায়ী ডিলার বাতিল করা হয়েছে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, “তথ্য গোপন করে ডিলারশিপ নেওয়া শর্তভঙ্গ ও আইনত অপরাধ। নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে আসায় বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নিয়ে এই ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।”
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্র ডিলারশিপ বাতিলে করে স্বচ্ছতা ফেরাতে ওই কেন্দ্রে নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ভয়েস / জেইউ