শুক্রবার, ২৪ Jul ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
ইসির আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত:স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মামদানি জানালেন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা আইনশৃঙ্খলা সভায় আওয়ামী দোসর ফারুক, রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভ পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে বক্তব্য আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন বিএনপি জনগণের সরকার এবং সবসময় জনগণের পাশে থাকবে-সালাহউদ্দিন আহমদ  কক্সবাজার সৈকতে টর্নেডোর আঘাতে তছনছ আর্জেন্টিনা জিতলে কেন বিয়ে করবেন পরীমণি? মিয়ানমার উপকূলে ২ নৌকাডুবি : ৫৩০ রোহিঙ্গা নিহত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে অটোপাস নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুটনৈতিক ও করোনা জটিলতা: ৩ বছরেও শুরু হয়নি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

জিকির উল্লাহ জিকু:
আজ ২৫ আগস্ট। মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সেনাবাহিনীর গনহত্যা নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ঢলের আজ তৃতীয় বছর। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়াা শুরু করে রোহিঙ্গারা। প্রায় ১১ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা এখন উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় ৩৪ টি ক্যাম্পে বসবাস করছে। কিন্তু, দীর্ঘ তিন বছরেও কুটনৈতিক জটিলতা আর কোভিড ১৯ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন কখন শুরু হবে তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন স্ট্যাটের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার অভিযোগ এনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর শুরু করে গনহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগ। তাদের বর্বর অত্যাচার নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন স্ট্যাট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিতে শুরু করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। পর্যায়ক্রমে উখিয়া টেকনাফের প্রায় ১০ হাজার একর গভীর বনাঞ্চলে ৩৪ ক্যাম্পে বর্তমানে ১১ লাখ ১৮ হাজারেও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। বাংলাদেশ সরকার এবং ‘ইউএনএইচসিআর’-এর তত্ত¡াবধানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এসব রোহিঙ্গাদের খাদ্য চিকিৎসা সহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন অফিস ৩৪ টি শরনার্থী শিবির প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর বাংলাদেশ সরকার প্রথমে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়। ইতোমধ্যে দু’দফা তারিখ দিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টা চালিয়েও রোহিঙ্গাদের অনড় মনোভাবের কারণে প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি। রোহিঙ্গাদের দাবি তাদের অধিকার ফিরিয়ে না দিলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবেনা।

উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ার সংলগ্ন ৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি (রোহিঙ্গা নেতা) মোহাম্মদ ইদ্রিস কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘
‘আমার দেশ মিয়ানমার। আমরা মিয়ানমারের পূর্ণ নাগরিকত্ব চাই। চাই জীবনের নিরাপত্তা। নিজ দেশে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে চাই। সন্তানদের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চাই। এসব সুবিধা নিশ্চিত করলে আমরা দ্রæত মিয়ানমারে ফিরে যাব। না হয় বাংলাদেশেই জীবন দিয়ে দিব’।

উখিয়ার মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২ ব্লকের সিরাজ মিয়াকক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘ মিয়ানমারের কথা বিশ্বাস করতে নেই। তারা ধোকাবাজ। আজ এক কথা, আবার পরে আরেক কথা। মুহুর্তে তাদের রূপ পাল্টায়। আন্তর্জাতিক মহলের এত চাপের মুখেও তারা এখনও মাথা নত করেনি। আমার বিশ্বাস হয় না যে তারা আমাদের ফিরিয়ে নিবে। যদি আমাদের ফিরেও নেয়া হয়, তাহলে নাগরিকত্ব তো দূরের কথা, রাখাইনে ক্যাম্পের মধ্যেই বন্দি জীবন কাটাতে হবে আমাদের’।

উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা আবুল ফয়েজ মাঝি কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘আজ তিন বছর কেটে যাচ্ছে, আমাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন দেখছি না। রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এত মানুষ মারল অথচ তাদের কোন বিচার হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আজ অনেকটা নিরব’।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘বিশ্বব্যপী কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক কুটনীতিতে ভাটা পড়েছে। তার উপর মিয়ানমারের সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থমকে আছে। কুটনৈতিক জটিলতা থাকলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের একনম্বর এবং একমাত্র চাওয়া হলো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন। মিয়ানমার যখনই চাইবে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে প্রস্তুতি রয়েছে।

গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বসবাসের কারণে পরিবেশ প্রতিবেশগত নানা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সামাজিক অর্থনৈতিক কারণে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। তাই যত দ্রæত সম্ভব রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যাক এটাই কামনা স্থানীয়দের।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION