বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

লাইনে লাইনে অবৈধকাঠে বোট তৈরি, প্রশাসন নিরব ভূমিকায়!

সারিবদ্ধভাবে একটার পর একটা পেকুয়ায় চোরাইকাঠ দিয়ে ফিশিং বোট তৈরি করছে

মো. ফারুক পেকুয়া:

জেলার পেকুয়া উপজেলার টইটং-রাজাখালীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় চোরাই কাঠ দিয়ে অবৈধভাবে তৈরী হচ্ছে ১৫টি ফিশিং ট্রলার। সরকারী বনায়নের গাছ ও কাঠ ব্যবহার করে অবৈধভাবে এসব ফিশিং ট্রলার তৈরী হলেও ‘রহস্যজনক’ কারণে নিরব ভুমিকায় রয়েছে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে বন নিধনের সাথে জড়িত স্থানীয় একাধিক সিন্ডিকেট সরকারী বনাঞ্চল থেকে মাদার ট্রি গর্জন, বিভিন্ন প্রকার গাছ কাঠ কেটে এসব অবৈধ ফিশিং ট্রলার তৈরীর কাজে নির্বিচারে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৭/৮ কিলোমিটারের ভিতরেই এসব ফিশিং ট্রলার তৈরীর কাজ চলমান থাকলেও স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসন নিরব রয়েছে। ফলে বন নিধনকারী চক্র বেপরোয়াভাবে অবৈধ ফিশিং ট্রলার তৈরীর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই পেকুয়ার বনাঞ্চল বিরাণভ‚মিতে পরিণত হবে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।

অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ ও চট্টগ্রাম উপক‚লীয় বন বিভাগের অধিন পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জ এবং চনুয়া রেঞ্জে কর্মরত কতিপয় অসৎ কর্মচারীকে ম্যানেজ করে অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন ধরে পেকুয়া উপজেলা বিভিন্নস্থানে অবৈধভাবে ফিশিং ট্রলার তৈরীর ব্যবসা চালাচ্ছে। এক একটি ফিশিং ট্রলার তৈরী শেষে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। সারা বছরই পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর তীরে বন বিভাগের অনুমতি ব্যতিত অবৈধ ফিশিং ট্রলার তৈরীর রমরমা বানিজ্য চললেও তা বন্ধে স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসন কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে দুর্লভ ও মূল্যবান গর্জন গাছ (মাদার ট্রি) কেটে লম্বা তক্তা চিরাই করে ফিশিং ট্রলার তৈরীর কাজে ব্যবহার করছে। প্রতিটি ফিশিং ট্রলারেই বনাঞ্চলের গাছ ও কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পশ্চিম টইটং খালের বেড়িবাঁধের উপরে বড় আকারের ১১টি ফিশি ট্রলার অবৈধভাবে তৈরী করা হচ্ছে। রাজাখালীর আরবশাহ বাজার এলাকায় আরো ৪টি ট্রালার তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পেকুয়া উপজেলার পশ্চিম টইটং ও দক্ষিণ পুইছড়ি এলাকার অবৈধ স’মিল ব্যবসায়ী আলমগীর, মহিউদ্দিন ও মকছুদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট টইটং খালের বেড়িবাঁধে ওই ১১টি ফিশিং ট্রলার তৈরীর কাজ করছে। ফিশিং ট্রলার তৈরীতে বন বিভাগের লিখিত অনুমতির নেয়ার কথা থাকলেও তারা কেউ অনুমতি নেয়নি। স্থানীয় বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মচারীদের ম্যানেজ করে চোরাই পথে গাছ ও কাঠ এনে তারা অনেকটাই বাধা ছাড়াই নির্বিঘেœ এসব ফিশিং ট্রলার তৈরী করছেন।

ফিশিং ট্রলার তৈরীর সাথে জড়িত কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিনিধিকে জানান, প্রতিটি ফিশিং ট্রলার তৈরীর ক্ষেত্রে স্থানীয় বন বিভাগের কর্মচারীদের ১০ হাজার ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। বন বিভাগের কর্মচারীরা মাঝে মাঝে  এসে টাকা নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম উপক‚লীয় বন বিভাগের চনুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা জুয়েল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব ফিশিং ট্রলার তৈরীর সরকারী কোন অনুমতি নেই। বন বিভাগের কর্মচারীরা ফিশিং ট্রলার তৈরীর সাথে জড়িতদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে ট্রলার তৈরীর সুযোগ করে দিচ্ছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ও তার অফিসের কোন কর্মচারী এ ধরনের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নাই।

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম গোলাম মাওলার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অবৈধ ফিশিং ট্রলার তৈরী হচ্ছে কিনা তার কাছে কোন তথ্য নাই। এগুলো চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের কাজ। তারাই ভাল জানতে পারবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের আওতাধীন পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পেকুয়া উপজেলার যে সব স্থানে অবৈধ ফিশিং ট্রলার তৈরী করা হচ্ছে তা উপক‚লীয় বন বিভাগের আওতাধীন এরিয়ায় পড়ছে। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION