বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন
পুলিশ-ব্যবসায়ী মুখোমুখি সংঘর্ষে আটকের কয়েকজন জিকির উল্লাহ জিকু:
সুগন্ধা পয়েন্টে ব্যবসায়ীদের প্রতিবন্ধকতা, প্রতিরোধের মুখে দুইঘন্টা ব্যাপি রুদ্ধশ্বাস অভিযানে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে কক্সবাজার কলাতলী এলাকার সুগন্ধা পয়েন্টের ৫২টি অবৈধ স্থাপনা। যেখানে রয়েছে রেস্তোরাঁ, শুটকি মাছের দোকান, ট্যুরিজম অফিস, ফার্মেসি ইত্যাদির দোকান।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ।
তার আগে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুলসহ ৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় ব্যবসায়ী ও পুলিশের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিক, পুলিশ ও ব্যবসায়ী সহ ১০ জন আহত হয়েছে। এসময় পুলিশ ফাঁকা গুলি, রাবারবুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। উচ্ছেদ অভিযান চালায়।
আহতরা হলেন, কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনির উল গীয়াস, যমুনা টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি নুরুল করিম রাসেল, সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী সহ আহত ১০ জনকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করছে। গত ১ অক্টোবর আপীল বিভাগ কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় সৈকত সংলগ্ন ৫২ দোকান উচ্ছেদের আদেশ দিয়েছিলেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ, কক্সবাজার সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ শাহরিয়ার মোক্তার, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ সাংবাদিকদের জানান, উচ্ছেদ অভিযান শুরুর সাথে সাথে ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। বিক্ষোভ করে উচ্ছেদ কার্যক্রমে চরমভাবে বাধা দেয়। ক্ষোভ থামাতে ফাঁকা গুলি, রাবারবুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়ে পুলিশ। পুলিশের শক্ত অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিক্ষোভকারী দোকানদাররা পিছু হটে। তিিন জানান মহাাামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
এর পুর্বে ১৫ অক্টোবর দুপুরে প্রশাসনের লোকজন সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে যান। ব্যবসায়ীদের মালামাল সরাতে এক দিনের শর্ত দিয়ে সময় দেয়া হয়।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টে ৫২ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল উচ্ছেদের নোটিশ দেয়। পরে জসিম উদ্দিনসহ ৫২ জন একটি রিট আবেদন দায়ের করলে ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করে স্থগিতাদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত ১ অক্টোবর সমুদ্র সৈকতের কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টে ৫২ টি স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টের দেওয়া রুল ও স্থগিতাদেশ খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। ফলে ওই ৫২ টি স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো বাধা না থাকায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সুগন্ধা পয়েন্টের এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়।
ভয়েস/জেইউ।