বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ সম্মেলনে বাপ্পির সহোদর মো. মাসুদ হাসান এহসান ভয়েস প্রতিবেদক:
মহেশখালী কালামারছড়ায় গৃহবধূ আফরোজা হত্যাকারী রাকিবুল হাসান বাপ্পি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তার সহোদর মো. মাসুদ হাসান এহসান।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে শহরের অভিজাত এক হোটেলের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। ঘাতক বাপ্পির সহোদর মো. মাসুদ হাসান এহসান সাংবাদিকদের বলেন, বাপ্পি আমার ভাই হলেও সে একজন খুনী। তার পরিচয় সে একজন অপরাধী। তাই অপরাধীর সাথে কোন আপোষ নেই। আমিসহ আমার পরিবার আফরোজা হত্যার ন্যায় বিচার চাই। এই নৃশংস ঘটনার মূল ঘাতক বাপ্পীকে গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

নিহত আফরোজা বেগম, ঘাতক স্বামী রাকিব হাসান বাপ্পি(ডানে)
ঘাতক বাপ্পীর আপন সহোদর মো. মাসুদ হাসান এহসান আফরোজার পরিবারের প্রতি অনুরোধ জানান, কারও কথায় প্রলুব্ধ না হয়ে খুনী বাপ্পী ও তার সহযোগী ২য় স্ত্রী কঙ্কাসহ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যায় বিচারের দাবিতে অটল থাকার। অন্যের প্ররোচনায় যেন এই মামলায় নিরপরাধ ও নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা না হয়। কারও প্রলোভনে মামলার মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেলে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কেউ যেন মামলা নিয়ে বাণিজ্য করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখার।
এহসান দাবি করে বলেন, আমার পিতা হাসান বশির এলাকার একজন সম্মানিত ব্যক্তি। আমাদের দুই মায়ের ৫ জন সন্তান। তারমধ্যে আমি বাপ্পী ও আসিফ এক মায়ের। আমরা সবাই আলাদাভাবে নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। তারমধ্যে বাপ্পী ভবঘুরে। সে আমাদের পিতা-মাতার অবাধ্য। অনেকবার সে আমার বাবা-মাকে নাজেহাল ও নির্যাতন করেছে। তার ৩টি স্ত্রী। তারমধ্যে ২য় স্ত্রী প্ররোচনায় সে আফরোজাকে সময় অসময়ে নির্যাতন করতো। আমাদের কারও কথায় সে কোন কর্ণপাত করতো না। বিভিন্ন স্থান থেকে সে একাধিকবার চাকুরিচ্যুত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগসহ রয়েছে ৫টি মামলা। গত ১২ অক্টোবর বাপ্পী তার মেয়ে জারাকে আমার মায়ের কাছে পাঠায়। তখন আমার মা তার কাছ থেকে আফরোজার খোঁজ নিলে সে জানায় পালিয়ে গেছে। এতে আমার মা বিষয়টি তাৎক্ষণিক আফরোজার বাবাকে অবহিত করে। তারা থানায় গিয়ে আফরোজা নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ করেন।
ওইদিন রাত ১০টায় বাপ্পি আবারও কল দিয়ে আফরোজা তার সাথে রয়েছে বলে আমার মাকে জানান। এসময় সে খুব স্বাভাবিক ছিল। তারপর আমার পিতা তার ২য় স্ত্রী কঙ্কাকে কল দিলে সে জানায় বাপ্পী ঢাকায় আসার কথা ছিল মেয়েকে নিয়ে। তারপর থেকে বাপ্পী ও কঙ্কার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন গত ১৩ অক্টোবর আমার মা বাপ্পীর মেয়েকে নিয়ে থানায় যায়। পুলিশ বাপ্পীর বাড়িতে তল্লাশীকালে আমার পরিবার আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে। আফরোজার সাথে কি হয়েছে সে বিষয়ে জারাকে বুঝিয়ে আসল ঘটনা আমরাই বের করি। এই ঘটনায় আমার ছোট ভাই আসিফের কোন রকম সংশ্লিষ্টতা নেই। তাকে অহেতুক মামলার আসামী করা হয়েছে।
আফরোজা নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজে পেতে পুলিশকে সবরকম সহযোগিতা করি আমরা। আমরা এমন ঘটনা কারো সাথে ঘটুক তা চাই না। অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে এই জঘন্য হত্যাকান্ডের মূল কারিগর বাপ্পী ও তার স্ত্রীসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা।
উল্লেখ্য কক্সজারের মহেশখালীতে নিখোঁজের ৬ দিন পর গৃহবধূ আফরোজা বেগমের লাশ স্বামীর বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১৭ অক্টোবর শনিবার রাত ১১ টায় উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা গ্রাম থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত আফরোজা উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পূইছড়া গ্রামের মো ইসহাকের মেয়ে। নিহতের স্বামী রাকিবুল হাসান বাপ্পির ১ম স্ত্রীর ৫ বছরের কন্যা সন্তান লাশ গুমের বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়।
ভয়েস/জেইউ।