বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন
এস. এম. রুবেল, মহেশখালীঃ
কক্সবাজারের মহেশখালীতে জয়নাল নামের আরেক পরিমলের সন্ধান পাওয়া গেছে। যে দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষকতার আড়ালে যাত্রীদের যৌন হয়রানী করে আসছে। তবে ভয়ে ও লোক লজ্জায় কোন ছাত্রী অভিযোগ করতে সাহস পায়নি এতদিন। লম্পট এই শিক্ষকের নাম জয়নাল আবেদীন খাঁন। সে হোয়ানক ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আবদুল মাবুদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক। তার নিজ বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার কৃষ্ণপুরের খুরুইল গ্রামে।
মহেশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকাল ৮টায় উপজেলার হোয়ানক থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক জয়নাল আবেদীন খাঁনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা কালা খাতুন বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক জয়নাল ২০১৯ সনের ১৬ ও ১৭ অক্টোবর আমার ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েকে স্কুলে পড়ানোর অযুহাতে বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানী করে। বিষয়টি আমাকে বলার পর একই বছর ১৯ অক্টোবর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ করি। ঐ সময় অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় শিক্ষক জয়নালকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু সাময়িক বহিস্কারের অযুহাতে এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এদিকে ঐ শিক্ষক স্কুল খোলাকালীন সময় শ্রেণী কক্ষে পাঠদান করেন এবং বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ান। এদিকে ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ে মানসিক ভাবে প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষক জয়নালের অপকর্মের শেষ নেই। কিন্তু জয়নালের উপর স্থানীয় প্রভাবশালী একটি গ্রুপের আশির্বাদ থাকায়, অপকর্ম করে সে পার পেয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে কোন শিক্ষার্থী মুখ খুলতে সাহস পাননা। পূর্বে বহু ছাত্রী এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল। কিন্তু ঐ প্রভাবশালী মহলটি চাপ প্রয়োগ করে তা ধামাচাপা দিয়ে দেয়। এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এই লম্পট শিক্ষকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক ছাত্রী ছাড়পত্র নিয়ে স্কুল ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়।
এদিকে এই শিক্ষকের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে ঐ স্কুলের আরো ৩/৪ জন ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ নিয়ে থানায় আসছে বলেও জানা যায়।
আবদুল মাবুদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলাল ভট্টাচার্য জানান, সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন খাঁনের ব্যাপারে ছাত্রীর অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে পরবর্তী প্রক্রিয়া চলমান আছে বলেও জানান। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর শিক্ষক জানান, ম্যানেজিং কমিটির প্রভাবশালী কিছু সদস্য জয়নালের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাচ্ছে অন্যরা।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবুল হাশেম, কাদের বক্সু, জাগির হোসেন, স্কুলের শিক্ষক আনছার, অফিস সহকারী শাহাদত সিন্ডিকেট করে এই জয়নালের সব অপকর্ম ঢাকা দিতো। তারা এখন জয়নালকে বাচানোর চেষ্টা করছে। তবে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগের ব্যাপারে ইউপি সদস্য আবুল হাশেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জয়নাল ষড়যন্ত্রের শিকার। ঐ ছাত্রী তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করেছে। এদিকে ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে জয়নাল মাস্টারকে সাময়িক অব্যহতি দেয়ার সভার রেজুলেশন খাতায় সম্মতি জানিয়ে তিনি কেন স্বাক্ষর করেছেন তা জানতে চাইলে আবুল হাশেম মেম্বার উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে চলেন এবং ফোন কেটে দেন।
ভয়েস/আআ