মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক, চকরিয়া:
চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফগামী যাত্রীবাহী সৌদিয়া পরিবহনের নাইট কোচে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মহাসড়কে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সক্রিয় ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড রাইফেলের বুলেট ও একটি রাম দা। এ সময় উদ্ধার করা হয় ডাকাতির সময় লুট করা ২০টি মোবাইল, এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি হাতঘড়ি, ২৮৫০ টাকা, আমিরাতের ২৫৫ এবং ওমানের ৩০০ মুদ্রা।
দুর্ধর্ষ এই ডাকাতির ঘটনার পর পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ক্যাম্পের সদস্যরা। তাদের এই তদন্তে বেশ অগ্রগতিও হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ডাকাতিতে জড়িত সাতজনের মধ্যে ৬ জনকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রও এবং যাত্রীদের কাছ থেকে লুঠকৃত মালামালও।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র্যাব জানায়, গত ২৭ নভেম্বর শুক্রবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে যাত্রীবাহী নাইট কোচে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিল সাতজন। তন্মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একাধিক দল ৬ জনকে
গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, প্রথমে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় দুর্ধর্ষ এই ডাকাতিতে নেতৃত্ব দেওয়া কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী
ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংদিয়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে মো. ইয়াহিয়া ওরফে জয়নালকে (২৬)। এ সময় তার দেহ তল্লাশী করে পাওয়া যায় ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড গুলি ও একটি রাম দা। এর পর জয়নালের দেওয়া তথ্যমতে কক্সবাজার সদরের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় নাইক্ষ্যংদিয়া গ্রামের ফরিদুল আলমের ছেলে ছলিম উল্লাহ (৩৩), শিয়াপাড়ার
মো. শাহজাহানের ছেলে ছাবের আহমদ (২৯), দক্ষিণপাড়ার হাছন আলীর ছেলে আবুল কালাম (৩০), চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের খুটাখালী গ্রামের শাহ আলমের ছেলে
শাহ আমান ওরফে বাটু (২৮)। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যমতে ডাকাতির সময় বাসের নিয়ন্ত্রণকারী চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার দক্ষিণ পতেঙ্গা নাজিরপাড়ার মো. বদরুদ্দোজার ছেলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে (২৫) গ্রেপ্তার
করা হয় কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে।
র্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের কম্পানি কমাণ্ডার মো. আশরাফ হোসেন জানান, আলোচিত নাইট কোচে ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত সাতজনের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বাকী একজনও শনাক্ত হয়েছে। তাকেও সহসা গ্রেপ্তার
করা হবে। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত ৬ ডাকাতকে চকরিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ সময় হস্তান্তর করা হয় ডাকাতিতে ব্যবহৃত ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গুলি এবং ডাকাতির সময় লুঠকৃত মালামালও।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূরেখোদা সিদ্দিকী জানান, নাইট কোচে ডাকাতির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী
ও ভুক্তভোগী বাস যাত্রী বিল্লাহ হোসেন জনি এজাহারে ওই বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার এই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে মর্মে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সেই সন্দেহভাজন তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের
মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। একইসাথে ঘটনার আদ্যোপান্ত বের করতে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্দিগ্ধ
আসামীদের সাতদিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।
আদালতে সোপর্দকৃতরা হলেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পদুয়া গ্রামের মো. আমির হামজার ছেলে সৌদিয়া বাসচালক মো.
কামাল (৬০), কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁন্দেরপাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে সুপারভাইজার শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন
(৩৮) ও পদুয়া গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে হেলপার সাহাদুল ইসলাম (১৯)। এনিয়ে পুলিশ ও র্যাব কর্তৃক এই ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হলো ৯ জনকে।
ডাকাতির সময় দুইজন যাত্রী গুলিবিদ্ধ একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
ভয়েস/আআ