বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
জিকির উল্লাহ জিকু:
উখিয়া সোনাইছড়িতে আলোচিত রিদুয়ান হত্যা মামলার আসামী ও মুলহোতা মোহাম্মদ ইউছুপ ওরফে পুতিয়া বাহিনী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে উখিয়া জালিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পৃথক দুটি ঘটনা ঘটায়। এরমধ্যে আলোচিত রিদুয়ান হত্যা মামলার স্বাক্ষী নমি উদ্দিনের ছেলে আবুল মন্জুরের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর করে স্ত্রী রশিদা বেগম ও ছেলে রিহাদকে মারধর একইদিন জমি বিরোধ নিয়ে ওই এলাকার স্বামী পরিত্যাক্তা নারী বুলবুল আকতারকে প্রকাশ্যে ব্যাপক মারধর করেন। এ ইনানাী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অলিউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ জালিয়াপালং উপকূলীয় অঞ্চলের ‘পুতিয়া’ বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ ইউনুচ ওরফে পুতিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এঘটনায় বুলবুল আকতার বাদি হয়ে উখিয়া থানায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।

উখিয়ার থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী সত্যতা নিশ্চত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্থানীয় মৃত সৈয়দ কাসেমের ছেলে সন্ত্রাসী ইউনুচ ওরফে পুতিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। তার বিরুদ্ধেে হত্যা, নারী নির্যাতন সহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে গত ২০২১ সালের ২১ আগস্ট শনিবার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের মৃত সৈয়দ কাশেমের একটি সুপারি বাগানে একই এলাকার হোসেন আহমদের ছেলে মো:রিদুয়ান হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বৈদ্যুতিক তাঁরে জড়িয়ে অপমৃত্যু বলে চালিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পরের দিন রবিবার দুপুরে উখিয়া থানার আওতাধীন ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অলিউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্টের পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। পরে অভিযুক্ত আসামী ওই এলাকার মৃত সৈয়দ কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ ইউছুপ ওরফে পুতিয়া (৩৫), মো: ইউনুচ ওরফে বদাইয়া (৩৮) ও মৃত শামশুল আলমের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩২) কে আসামী করে উখিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। উক্ত মামলায় আসামীরা আদালতে জামিন চেয়ে আত্মসমর্পন করলে আদালত জামিন নামন্জুর করে আসামী মো: ইউনুচ ও মো: ইউছুপকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যজন জসিম উদ্দিন জামিনে রয়েছে।

এদিকে, নিহত রিদুয়ান হোসেনের পিতা হোসেন আহমদ অভিযোগ করেন- ‘‘পূর্বশক্রতার জের ধরে ওইদিন রাতের অন্ধকারে আসামী ইউছুপ ওরফে পুতিয়া এবং ইউনুচ ওরফে বদাইয়া পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার পর আমার ছেলেকে তাদের সুপারি বাগানে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে রাখে। পরে সকালে সেই বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে রিদোয়ান হোসেন মারা গেছে বলে অপপ্রচার চালিয়ে গা-ঢাকা দেয়। অনেকদিন আগে থেকে আমার পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে ছেলে রিদুয়ানকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার সঠিক বিচার চাই।’’
হোসেন আহমদ অভিযোগ করেন-‘রিদুয়ান হত্যা মামলার আসামী মোহাম্মদ ইউছুপ ও মো: ইউনুচ এর আগেও অসংখ্য অপরাধ করেছেন। তাদের নামে একাধিক মামলা বিচারাধিন রয়েছে। আসামি ইউছুপ এবং ইউনুচ সুপারি বাগান রক্ষার নামে কভার তার ছাড়া চুরি করে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ফাঁদ বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শুকর শিকার করে আসছিল। রাতে রিদুয়ানকে পিটিয়ে হত্যার পর ওই পাতানো তারে ফেলে রাখা হয়। পরে সকালে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা গেছে বলে অপপ্রচার চালায়। সকালে তারা ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পালিয়ে যায়। অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় টাকা দিয়ে হত্যা মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু, উখিয়া থানার পুলিশ প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রেকর্ড করেন। এঘটনায় মো: ইউনুচ ওরফে পুতিয়া এবং মো: ইউনুচ ওরফে বদাইয়াকে ৩দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও পুতিয়ার নেতৃত্বে বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তাদের বেপরোয়া আচরণে স্থানীয় সাধারন মানুষ আতংক ও শংকিত হয়ে উঠে।
ভয়েস/আআ