শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
ভয়েস বিনোদন ডেস্ক:
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মার্চের ২৬ তারিখ থেকে এফডিসি বন্ধ ছিল। শ্যুটিংসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। টানা দুই মাস সাধারণ ছুটি শেষে দাপ্তরিক কার্যক্রম ও শ্যুটিংয়ের অনুমতি মিললেও গত দুই মাসে এফডিসিতে কোনো সিনেমার শ্যুটিং হয়নি।
এবার দীর্ঘদিন পর আবারও এফডিসিতে শুরু হয়েছে চলচ্চিত্রের শ্যুটিং। জুলাই মাসের শেষ দিকে সৈকত নাসির তার নতুন সিনেমা ‘অ্যা জার্নি উইথ ইউ’-এর শ্যুটিং করেন। তার সিনেমায় ইনডোর শ্যুটিংয়ে অংশ নেন চিত্রনায়ক বাপ্পি। সৈকত নাসির বলেন, ‘করোনা কবে শেষ হবে জানি না। কিন্তু আমাদের তো বাঁচতে হবে। তাই কাজ শুরু করে দিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছি।’
ঈদের ছুটির পর ১০ আগস্ট থেকে এফডিসিতে শ্যুটিং শুরু হয়েছে। সেদিন এফডিসিতে দুটি সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে। এছাড়াও একটি সিনেমার ডাবিং চলছে। দুটি ফ্লোরকে শ্যুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত করতেও দেখা গেছে। ১০ আগস্ট এফডিসির ৮ নম্বর ফ্লোরে ‘আগস্ট ১৯৭৫’ সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে এই সিনেমা। শাপলা মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সেলিম খান। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, তৌকীর আহমেদ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মাসুমা রহমান নাবিলা, ফজলুর রহমান বাবু, তানভীন সুইটি, আনিসুর রহমান মিলন, তাসকিন রহমান ও মাজনুন মিজান প্রমুখ।
একই দিন মান্না ডিজিটাল স্টুডিওতে শ্যুটিং হয় ‘প্রেমের অনেক জ্বালা’ সিনেমার। মান্নান গাজী পরিচালিত এই সিনেমার কাজ শুরু হয়েছিল দেড় বছর আগে। বাকি কিছু অংশের শ্যুটিং হয়েছে এফডিসিতে।
‘ঢাকা অ্যাটাক’ খ্যাত নির্মাতা দীপংকর দীপনের তৃতীয় সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবন’-এর শ্যুটিং শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। এরপর দুই ধাপে প্রায় ৩২ দিন শ্যুটিং হয় ছবিটির। গত ১১ মার্চ মোংলার জয়মনি এলাকায় ছবিটির শ্যুটিংয়ের মধ্য দিয়ে খুলনা অঞ্চলের ছবির শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর পরিচালক জানিয়েছিলেন ঢাকায় মাত্র চার দিন শ্যুটিং করলেই ছবিটির শ্যুটিং শেষ হবে। এরপর বাকি থাকবে গান। কিন্তু এরপর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে থেমে যায় সিনেমাটির শ্যুটিং। পরিচালক দীপংকর দীপন জানালেন, শিগগিরই শ্যুটিং ইউনিট নিয়ে মাঠে নামবেন তিনি।
করোনার পর বেশকিছু নতুন সিনেমার ঘোষণাও এসেছে। পরিচালক প্রযোজকরা কাজে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘করোনার কারণে সিনে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। এখন আবারও শ্যুটিং শুরু করেছেন কেউ কেউ। আসলে বসে থাকা কারোই পক্ষে সম্ভব নয়। সমস্যা থাকবে, কিন্তু সমস্যার ভেতর দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।’
পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্রের কলাকুশলীরা বসে আছেন। লকডাউন শিথিল হওয়ার পরে নাটকের শ্যুটিং হলেও সিনেমার শ্যুটিং হয়নি। এখন ধীরে ধীরে আবার শ্যুটিং চালু হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমাদের পরিচালকরা শ্যুটিং করছেন। যদিও আগের মতো স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে না, তারপরও কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’ সূত্র:দেশরূপান্তর।
ভয়েস/জেইউ।