সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক:
কক্সবাজার শহরের চৌফলদন্ডী ও নুনিয়াছড়া থেকে ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনার পর মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নুনিয়াছড়ার ২১ জনকে সমাজচ্যুুত করা হয়েছে। এমন একটি অনুকরণীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছরার সমাজ কমিটি। এমন অনুকরণীয় সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি শহরের নুনিয়াছরা এলাকার ইয়াবাকারি ফারুক থেকে ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ।এরপর থেকে সবার কাছে নুনিয়াছরা ইয়াবা বাণিজ্যের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠে। নুনিয়াছরা থেকে ইয়াবা কলংকমুক্ত করতে স্থানীয় সমাজ নেতারা দ্রুত জেগে উঠে ইয়াবার বিরুদ্ধে। তারা ইয়াবার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে । তিন দিনের মাথায় দ্রুত বৈঠক বসে সিদ্ধান্ত নেয়। তারা নুনিয়াছরায় কোন ইয়াবা কারবারিকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেবেনা। সব ইয়াবা কারবারিকে সমাজতে বের করে দেয়া হবে। তাই তারা প্রথম ধাপে ২১ জন ইয়াবা কারবারিকে সমাজচ্যুত করে। আর যারা ইয়াবায় জড়িত রয়েছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।
নুনিয়াছরা এলাকার সন্তান জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মঈন উদ্দিন জানান, নুনিয়াছরা এলাকায় যে এত ইয়াবা কারবারি রয়েছে তা এলাকার সচেতন লোকজন আগে জানতেন না। নুনিয়াছরায় বসবাসকারি ফারুক ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়ার পর জেগে উঠেছে এলাকাবাসী। এলাকায় কোন ইয়াবা কারবারির স্থান হবেনা। এলাকাবাসাী নিজেরা খুঁজে খুঁজে বের করে তাদের আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে ধরিয়ে দেবে। ২১ জন ইয়াবা কারবারিকে সমাজচ্যুত করার পর আরো ২০ জনেক প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এলাকাবাসীর তদন্তে যাদের ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার সম্পৃক্তকা পাওয়া যাবে তাদের সমাজচ্যুত করা হবে।
কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের উত্তর নুনিয়া ছড়া সমাজ ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে ১২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে সভা আহ্বান করা হয়।
সমাজ কমিটির সভাপতি সেলিম উল্লাহ সেলিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দীনের পরিচালনায় সভায় এলাকার বিভিন্ন স্তরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন- সমাজ কমিটির সহ-সভাপতি মাহমুদুল হক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সহ-অর্থ সম্পাদক শাহ আলম, সদস্য কামাল উদ্দীন, শাহাব উদ্দীন শাহেদ, আজিমুল হক, এনামুল হক।
এতে বক্তব্য রাখেন- ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মইন উদ্দীন, স্থানীয় মালেক কোম্পানি, আব্দুল খালেক, মোহাম্মদ লালু, নুর আহমেদ, এসএম ইলিয়াছ, রেজাউল করিম নয়ন, জসিম মাহমুদ, কামাল উদ্দীন, হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর, মাসুদ পারভেজ, মনসুর উদ্দীন, ফেরদৌস, তানভীর, মুজিব, লুতফর রহমান, সরোয়ার, আলাউদ্দীন, ওবায়দুল হকসহ প্রমুখ।
সকলের যৌথ মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।এই সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এলাকার মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে সমাজচ্যুত করা, মাদক প্রতিরোধে যুব সমাজ কমিটি গঠন, পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা, কর্ণফূলী শীপে পুলিশের চেকপোস্ট স্থাপনের দাবী, এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ ও অবস্থানের উপর নজরদারি বাড়ানো, এলাকার নিরাপত্তায় নৈশপ্রহরী নিয়োগ করা।এছাড়াও ২১ জনকে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সমাজচ্যুত করা হয়।
সমাজচ্যুত করা ২১ জন ইয়াবা কারবারি হচ্ছে , উত্তর নুনিয়া ছড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে জহিরুল ইসলাম ফারুক, আবুল হোসেনের ছেলে আবুল কালাম, আবু শামার ছেলে নবী হোসেন, আবুল বশরের ছেলে মমতাজ মিয়া, আলী হোসেন মাঝির ছেলে আবুল বশর ও নুরুল বশর, আবু মাঝির ছেলে ফয়েজ, বদরুজ্জামান মিস্ত্রির ছেলে শামসু, আব্দুল করিমের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম, মৃত আবুল হোসেনের ছেলে হারুন বাদশা, নুরুল হক ফকিরের ছেলে দলু, আব্দুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ, তিন রাস্তার মোড় কবরস্থানের পাশে ওসমানের স্ত্রী আমেনা, শামসুল আলমের ছেলে মোবারক, শাহ আলমের ছেলে সোহেল, আবুল বশরের ছেলে আমির হোসেন, মল্লার ছেলে জাহাঙ্গীর, আবুল হোসেনের ছেলে খোরশেদ আলম, মনির আহমেদের ছেলে ফিরোজ, নুর আহম্মদের ছেলে হাবিব উল্লাহ, বিমান বন্দর গেইটের মুন্নীর ছেলে মিজান।
ভয়েস/আআ