শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

মহেশখালী মেয়রের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

ভয়েস প্রতিবেদক:

মহেশখালীতে সংখ্যালঘুদের জমি দখলের অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী পরিবার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া দীর্ঘদিনের ভিটায় ঘর করতে গিয়ে মহেশখালী পৌর মেয়র মকছুদ মিয়ার বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার। তাদের নির্মাণাধীন ঘর ভেঙে দিয়ে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছেন পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক সহোদর প্রবীর দাশ ও সমীর কান্তি দাশ।

বুধবার ( ৯ জুন) বিকেলে শহরের আছাদ কমপ্লেক্সস্থ কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহেশখালী শাপলাপুরের দিনেশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর দাশ বলেন, জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, অভাব, অনটন ও দারিদ্রতাকে মোকাবেলা করে এসে বর্তমানে ভূমিদস্যুদের আক্রোসের শিকার হতে হচ্ছে। আমরা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও প্রান্তিক পরিবারের সন্তান।

পরিবারটি দাবি করেন, কোটি টাকামূল্যের ব্যাক্তিমালিকাধীন জমি দখলে নিতে পৌর মেয়রের উপস্থিতিতে তাদের ঘর ভেঙে দেয়া হয়। ঘর ভাঙ্গার পর সংখ্যালঘু পরিবারটিকে প্রাণের মারা হুমকিও দিয়েছেন মেয়র মকছুদ মিয়ার সশস্ত্র লোকজন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা বাজার সংলগ্ন দক্ষিণ হিন্দুপাড়ায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ভিটায় আমরা যুগ যুগ ধরে বাস করে আসছি। ভিটাটি একটু নীচু হওয়ায় তিনমাস আগে ভরাট করে কাঁচা ঘর তৈরি করার সময় ১ জুন সকালে মহেশখালী পৌরমেয়র মকসুদ মিয়ার উপস্থিতিতে তার লোকজন আমাদের জমিতে এসে আকস্মিকভাবে ভাংচুর চালায়। কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। অথচ এ জমির বিপরীতে আমরা নিয়মিত ভূমিকর এবং পৌরকরও পরিশোধ করে আসছি।

শিক্ষক সমীর দাশ আরো বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে মেয়রের কাছে জানতে চাইলে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুঙ্কার দিয়ে বলেন, পুনরায় ঘর তৈরি করলে মাটিতে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হবে। মামলায় জড়িয়ে এলাকা ছাড়া করা হবে।

এরপর থেকে মেয়র ও তার লোকজন নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। মহেশখালী গোরকঘাটাস্থ জেটিঘাটে অবস্থিত সংখ্যালঘু পরিবারের প্রতিষ্টানগুলো এবং গোরকঘাটা বাজারের দোকানগুলো বন্ধ করার এমনকি তালা লাগিয়ে দেয়ারও হুমকি দেন তারা।

মেয়র মকসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত জিডি নিয়ে মহেশখালী থানায় গেলেও পুলিশ জিডিটি এন্ট্রি করেননি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক সমীর দাশ।

জানমাল-সহায় সম্পত্তির নিরাপত্তা চেয়ে প্রধান শিক্ষক প্রবীর দাশ বলেন, আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরীহ মানুষ। কোনোরকম ঝক্কিঝামেলা, ফ্যাসাদ-বিবাদে কারো সঙ্গে জড়াতে চাই না এবং শান্তিপূর্ণভাবে সকলের সঙ্গে সহাবস্থান করতে চাই। মেয়রের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীদের হুমকিতে বর্তমানে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এসব জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশখারীর পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া তার বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগই মিথ্যা বলে দাবি করেন। ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে আসল ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গা-জমির সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার আসলে পুলিশের নেই। শিক্ষক সমীর দাশ ও মহেশখালীর পৌরমেয়র দুজনই জমিটা তাদের বলে দাবি করছে। তাই জিডি নথিভুক্ত না করে উভয় পক্ষকে আদালতের দারস্থ হয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION