বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

সৈকতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে পর্যটকদের অনীহা

বিশেষ প্রতিবেদক:

পর্যটন খুলে দেয়ায় শুক্রবার ছুটির দিনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত যেন লোকে লোকারণ্য। যেন নীরবতা ভেঙ্গে সরব সমুদ্র সৈকত। করোনার ভীতি উপেক্ষা করে সৈকতের নোনা জলে গা ভাসাচ্ছেন অধিকাংশ পর্যটক। কিন্তু, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। সরকারের বেধে দেয়া বিধি-নিষেধ মানছেন কেউ। বাধা দেয়ারও কেউ নেই। কিছু কিছু পর্যটক মাস্ক পড়লেও জুতার ভেতর মাস্ক রেখে গোসল করতে নেমে পড়েছে সৈকতে। অবশ্য, জেলা প্রশাসন বলছেন, স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে খুব সতর্কবস্থায় রয়েছে।

করোনা সংক্রামণরোধে দীর্ঘ সাড়ে ৪মাস কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও বিনোদনকেন্দ্র গুলো বন্ধ থাকার পর অবশেষে প্রাণ ফিরেছে সৈকতে। গত ১৯ আগস্ট পর্যটন খুলে দেয়ায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে সৈকতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। পর্যটকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এক ঘরে বন্দি থেকে এবং শহরে যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি পেতে কক্সবাজার ভ্রমনে ছুটে এসেছেন। বিশেষ করে শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় বেশিরভাগ মানুষ কক্সবাজার ভ্রমনে এসেছে।

শুক্রবার ও শনিবার পর্যটক মুখর সৈকতে সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি কাউকে। একইভাবে সরকারের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নেও তেমন কারও আগ্রহ নেই। যে যার মতো করে সৈকতে ঘোরাফেরা করছেন। দূরত্ব যেমন মানা হচ্ছে না, তেমনি কারও মুখে নেই মাস্ক। হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহার তো সৈকতে দুস্কর।

সৈকতে জুতা খুলে রেখে জুতার উপর মুখের ব্যবহৃত মাস্ক ঢুকিয়ে রেখে গোসল করতে নামেন রিতা সরকার নামের এক পর্যটক। তিনি বলেন, প্রশাসনের ভয়ে ১০ টাকায় কিনে মাস্ক নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু, সৈকতে কেউ মাস্ক ব্যবহার না করায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোন সাড়া না পাওয়ায় মাস্ক ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছে।’

নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থী পরিচয়দানকারি শামীম রেজা বলেন, ‘সৈকতে কোন ধরণের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এতে করে করোনার সংক্রামন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, কোন ধরণের দুরত্ব বজায় না রেখে একই পানিতে লাখো মানুষের গোসল। এতে করোনা সংক্রামণ না বেড়ে কোথায় বাড়বে? প্রশ্ন রাখেন তিনি। একারণে খুব দ্রæত ঢাকা ফিরতে চান তিনি।’

তৌহিদ ও মীম পর্যটক দম্পতি বলেন, ‘দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ। তাই, সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজার সৈকতে আসা। কিন্তু, মুখে মাস্ক পড়তে পড়তে ক্লান্ত তারা। এ গুলো আর ভাল লাগে না। সৈকতে এসেও যদি মাস্ক পড়তে হয় তাহলে ভ্রমন করার কি দরকার?

সরকারি নির্দেশনা মতে, বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকে খুলে দেওয়া হয় কক্সবাজারের সব পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র। কিন্তু কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী খুশি হলেও সরকারের বেধে দেয়া শর্ত হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট মানছেন না। অধিকাংশ হোটেল-মোটেল শতকরা ৫০ শতাংশ রুম বুকিংয়ের ব্যাপারে অখুশি। তারা যেনতেন ভাবে রুম বুকিং দিচ্ছে।

পর্যটন খুলে দেয়ায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে গত বছর পাঁচ মাস বন্ধ ছিল রিসোর্ট। এ বছরও চার মাস বন্ধ। গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার সুযোগ না পেতেই আবার চলতি লকডাউনে আমাদের ক্ষতি পাহাড় সমান। ক্ষতি পোষাতে না পেরে কর্মচারীদের ছাঁটাই করতে হয়েছে। আশা করছি এবার সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবো। তবে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে আমরা সচেতন।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: আবুল কাসেম জানান, ‘সরকারের দেয়া সব শর্ত মানা হচ্ছে। সৈকতে পর্যটকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছে কিনা সেই দায়িত্ব আমাদের নয়। কক্সবাজারে পর্যটন জোনে যেসমস্ত হোটেল মোটেল রয়েছে সবকটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের রুম বুকিং দিচ্ছে।’

হোটেল কক্স-টুডের ব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর পর্যটন খাত খুলে দেয়ার কারনে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাঝে ঈদ উৎসবের আমেজ বিরাজমান। এখনো পযর্ন্ত জনমনে ভীতি কাজ করায় পর্যটকদের সাড়া কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে আশা করা যাচ্ছে দিন দিন পর্যটক আগমন বৃদ্ধি পাবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহি উদ্দিন আহমদ বলেন, হোটেলে ৫০ শতাংশের অধিক কক্ষ ভাড়া দেয়া যাবেনা। রেস্টুরেন্ট সহ সবখানে পর্যটকদের শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি সহ সরকারের বেধেঁ দেয়া নির্দেশনা মানা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পর্যটকরা যাতে আবাসন নিশ্চিত করে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ বলেন, পর্যটন খোলা হলেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এজন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সতর্ক দৃষ্টিতে থাকবে। আর যারা পর্যটকরা আসবে তাদেরও দেশের নাগরিক হিসাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা প্রয়োজন। সামাজিক দুরত্বের পাশাপাশি স্যানিটাইজার ও মুখে মাস্কপড়া অবশ্য দরকার। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১৯ আগস্ট থেকে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকার। এনিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র আসন সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ ব্যবহার করে চালু করতে পারবে। এর আগে সর্বাত্মক লকডাউন তুলে নিয়ে ১১ আগস্ট থেকে আসনের সমান যাত্রী নিয়ে অর্ধেক গণপরিবহণ চালুর সিদ্ধান্ত জানায় সরকার। খুলে দেওয়া হয় অফিস-আদালত, দোকানপাট ও বিপণি বিতান।

ভয়েস/ জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION