বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক:
ইকবাল, একজন মেম্বার প্রার্থী। ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ার পর জানা গেল ভোটে তার নেশা, কিন্তু ইয়াবাই মুল পেশা। সাধারণ মানুষের মন্তব্য না হলে কি একজন জনপ্রতিনিধি ভোটের কয়েকদিন আগে এভাবে হাতে নাতে ইয়াবা নিয়ে বিজিবির হাতে ধরা পড়ে?
জানাযায়, এলাকা থেকে ইয়াবা কারবার নির্মুল করার কথা বলে রাতের বেলায় তিনি ভোটের জন্য যান ঘরে ঘরে আর দিনের বেলায় তিনি থাকেন ইয়াবা কারবারে। ইয়াবা কারবারের টাকায় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার পদে ভোটে নেমেছেন তিনি। ভোটের ক্যাম্পেইনে যাবতীয় খরচও করছেন ইয়াবা কারবারের টাকায়। মরিচ্যা বিজিবি চেক পোষ্টে শুক্রবার দুই হাজার পিচ ইয়াবা সহ হাতেনাতে আটক হবার পর বিজিবি সদস্যদের নিকট মেম্বার প্রার্থী এসব জানান।
আটক হওয়া ইয়াবা কারবারির নাম মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখারকুল ইউনিয়নের মধ্যম মেরুংলোয়া গ্রামের মৃত হাজী মোহাম্মদ শফির পুত্র। উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একজন মেম্বার প্রার্থী। আগামী ১১ নভেম্বর ইউনিয়নের ভোট অনুষ্টিত হবে।
কক্সবাজার—টেকনাফ মহাসড়কের মরিচ্যা যৌথ চেক পোষ্টে শুক্রবার একটি সিএনজি সহ উক্ত মেম্বার প্রার্থী বিজিবি সদস্যদের তল্লাশীকালে দুই হাজার পিচ ইয়াবা সহ ধরা পড়েন। রামু ৩০ বিজিবি জেসিও সুবেদার মাহমুদুল হাসান জানান,বালুখালী থেকে এ পরিমাণ ইয়াবা তিনি বহন করে আনছিলেন। রামুতেই ক্রেতারা অপেক্ষায় থাকেন ইয়াবার চালান নেয়ার জন্য।
কিস্তিতে তিনি একটি সিএনজি ট্যাক্সি কিনেছেন। সেই ট্যাক্সি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন ইয়াবার কারবার। ইয়াবা জগতের সাথে থেকে প্রচুর টাকার মালিকও হয়েছেন ইতিমধ্যে। তাই জনপ্রতিনিধি হবার খায়েশও জাগে তার। তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী। তার প্রতীক ফুটবল। দিনের বেলায় তিনি ভোটের ক্যাম্পেইন করার সময় পান না। কেননা দিনে তিনি ব্যস্ত সময় কাটান ইয়াবার চালান পরিবহনে।
রোহিঙ্গা শিবির থেকে চালানে চালানে আনেন ইয়াবা। রামুতে অপেক্ষায় থাকা কারবারিদের কাছে বিক্রি করে রাতের বেলায় তিনি ভোটারদের ঘরে ঘরে একটি ভোটের জন্য ছুটেন। তার প্রতিশ্রম্নতি হচ্ছে—তিনি মেম্বার নির্বাচিত হলে এলাকা থেকে ইয়াবা কারবারিদের নির্মুল করবেন। সেই ইয়াবা কারবারি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ভোটের মাঠে শুরু হয়েছে তুমুল হাসাহাসি। এ ব্যাপারে রামু থানায় রাতে মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে।
ভয়েস/আআ