মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী, পরিদর্শন করবেন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত আন্তর্জাতিক এ্যামোনেষ্টির হিউম্যান রাইটস একাডেমি থেকে বিরল সম্মাননা অর্জন করলেন ফারুক ইকবাল  টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল প্যারাসেইলিং মালিক ফরিদ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের উঁকিঝুঁকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈকতে পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নারী পর্যটক ধর্ষণ: সৈকতে চালু হলো ‘বিশেষ এলাকা’

আবদুল আজিজ:
স্বামী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে নারী পর্যটক ধর্ষিত হওয়ার পর সমুদ্র সৈকতে নারী পর্যটকদের জন্য আলাদাভাবে চালু হলো ‘বিশেষ এলাকা’। বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে সংরক্ষিত এ ‘বিশেষ এলাকা’টি উদ্বোধন করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: মামুুনুর রশীদ।

উক্ত ‘বিশেষ এলাকা’টিতে নারী পর্যটকদের জন্য রয়েছে আলাদা ড্রেসিং রুম ও লকার রুম। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা নারী পর্যটকদের যাদের ইচ্ছা বা স্বেচ্ছায় ওই ‘বিশেষ এলাকা’য় প্রবেশ করতে পারবেন। এজন্য ১০০ থেকে ১৫০ গজ এলাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

উদ্বোধন শেষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ জানান, ‘কক্সবাজার পর্যটন এলাকা নারী-বান্ধব করার জন্য সৈকতে নারীদের জন্য ‘বিশেষ এলাকা’ ঘোষনা করা হল। এতে নারী পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে সৈকত ভ্রমণ করতে পারবেন। সৈকতে নারীদের নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের বড় একটি অংশে নারীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের মধ্যেও নারী পুলিশ রয়েছেন।

মো: মামুনুর রশীদ আরও জানান, ‘হোটেল বা গেস্ট হাউজে যেন পর্যটকরা নিরাপদে থাকতে পারেন, এ ব্যাপারেও তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন। মালিক ও পরিচালকদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেছেন। হোটেল কর্মীদের এসব ব্যাপারে প্রশিক্ষণ ও সচেতন হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এসময় নারী পর্যটকদের জন্য আলাদা বিশেষ জোন করার বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সৈকতে বেশি ঝুঁকিতে থাকে নারী ও শিশুরা। এবার সেই ঝুঁকি কমবে। পর্যটকদের জন্য আগে থেকেই কাজ করছি। জনবল কম হলেও আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ কর যাব।’

ট্যুর অপারেটর অ্যাসেসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তা যেমন প্রয়োজন তেমনি আলাদা জোনেরও দরকার আছে। কারণ অনেকেই একটু আলাদা করে সমুদ্র স্নান করতে চায় তাদের জন্য এ জোন। নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিরাপত্তা দুটিই এখানে বাস্তবায়ন করা হতে পারে।’

গত ২২ ডিসেম্বর রাতে স্বামী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে আসা ধর্ষণের শিকার হন নারী পর্যটক। ধর্ষণের শিকার নারীর ভাষ্য, ‘স্বামী-সন্তান নিয়ে ওইদিন সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছেন। উঠেন শহরের হলিডে সী-ল্যান্ডের ২০১নং কক্ষে। ওই দিন বিকালে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে লাবণি বিচে যান। রাতে হোটেলে ফেরার পথে এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগে। এতে স্বামীর সঙ্গে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে ওই যুবক। বাধা দিলে তার সঙ্গেও তর্কে জড়ায় যুবক। ওই সময় আরও দুই যুবক ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। তারা স্বামী-সন্তানকে ইজিবাইকে তুলে দিয়ে ওই নারীকে আলাদা করে ফেলে। পরে ওই এলাকার একটি ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে তিন জনে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর স্বামী-সন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে শহরের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ধর্ষিতা নারীর স্বামী মামুন মিয়া বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় আশিকুল ইসলাম আশিক, বাবু, জয় ও রিয়াজ উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে আরো দুই তিন জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশ ও র‌্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে ৬জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। কক্সবাজারে স্বামী-সন্তান নিয়ে বেড়াতে আসা নারী পর্যটক ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে নারী পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর হয়ে উঠেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে বেধে দেয়া নির্দেশনায় রয়েছে-
১। সকল আবাসিক হোটেলে রুম বুকিং করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন ও জমা দিতে হবে।
২। আবাসিক হোটেলগুলোয় একটি অভিন্ন আদর্শ কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করতে হবে।
৩। প্রতিটি হোটেলে কক্ষ সংখ্যা, মূল্য তালিকা ও খালি কক্ষের সংখ্যা, রেস্তোরায় খাবারের মূল্য তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে হবে।
৪। প্রতিটি আবাসিক হোটেলে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে অথবা জোরদার করতে হবে।
৫। শহর এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের কক্ষ ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
৬। হোটেল-মোটেল বা গেস্ট হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষিত হতে হবে।
৭। সকল হোটেল-রেস্তোরাঁর নিবন্ধন করতে হবে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION