মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন
আবদুল আজিজ:
কোন ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত হলে আদালতের নিয়ম অনুযায়ী মামলার রায় হওয়ার ৭দিনের মধ্যে সমস্ত নথি, কেস ডায়েরী, স্বাক্ষীপ্রমাণাধীসহ কাগজপত্র হাইকোর্টে প্রেরণ করতে হয়। এসময় ‘লালসালু’ দিয়ে বিশেষ ধরণের প্যাকেজ করে এসব কাগজ পত্র হাইকোর্টে পাঠাতে হবে। একারণে নিয়মানুযায়ী মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীর মামলার রায়ের কপিও সেভাবে হাইকোর্টে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের সিনিয়র আইনজীবী ও সিনহা হত্যা মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
এডভোকেট জাহাঙ্গীর বলেন, ‘মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের ফাঁসির আদেশ হাইকোর্টকে অবহিত করতে হয়। হাইকোর্টকে অবহিত না করা পর্যন্ত কার্যকর হবে না। এছাড়াও আসামী পক্ষ তো আপিল করতে পারে। মামলায় সন্তুষ্ট না হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার এখতিয়ার সবার রয়েছে।’
এদিকে, ৩১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বরখাস্ত পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে কনডেম সেলে রাখা হচ্ছে। খাবার থেকে শুরু করে সকল সুযোগ-সুবিধা জেল কোড অনুযায়ী হবে বলে জানিয়েছে কক্সবাজার জেল সুপার নেছার আলম।
জেল সুপার নেছার আলম বলেন, ‘ মামলার রায়ের পর সন্ধ্যায় দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের নিয়ে পুলিশ ভ্যান কারাগারে পৌছলে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত আসামী প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীকে অন্য আসামীদের কাছ থেকে আলাদা করা হয় এবং তাদেরকে কারাগারে একটি কক্ষকে কনডেম সেল ঘোষনা দিয়ে তাদের রাখা হয়।’
সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়। এছাড়াও ৬জন আসামী মামলার অন্যান্য আসামী এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দীনকে যাবতজীবন কারাদন্ড ও চারজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেয়া হয়। অনাদায়ে ৬ মাসের জেল দেয়া হয়। তারা হচ্ছেন, কনষ্টেবল সাগর দেব, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন। এছাড়াও ‘এপিবিএন’র এসআই শাহজাহান আলী, কনস্টেবল মোঃ রাজীব ও মোঃ আব্দুল্লাহ, পুলিশের কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, লিটন মিয়া ও পুলিশের কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুনকে খালাস প্রদান করেন আদালত। সন্ধ্যায় পুলিশ ভ্যানে করে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে ৩১ জানুয়ারি সোমবার দুপুর ২টার দিকে ৯ পুলিশ, তিন এপিবিএন সদস্য ও পুলিশের তিন সোর্স সহ ১৫ অভিযুক্তকে আদালতে আনা হয়। এর পর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল মামলার রায় পড়া শুরু করেন। এসময় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ আসামির উপস্থিতি ছিলেন এবং এজলাসের এক কোণায় চিন্তিত ও বিমর্ষ অবস্থায় ওসি প্রদীপকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
গত ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এঘটনা আড়াল করতে পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করেছিল। ঘটনার ৪দিন পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। মামলা কক্সবাজার র্যাব-১৫ তদন্তের দায়িত্বপান। র্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা মো: খাইরুল ইসলাম এ মামলায় চার মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষীসহ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকান্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ভয়েস/আআ