নাফ নদী আর সাগরের মিলনে টেকনাফের ঐতিহ্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে মাছ শিকার ও শুঁটকি ঊৎপাদন। এই শুষ্ক মৌসুমে টেকনাফে চলছে শুঁটকি ঊৎপাদনে ধুম। ব্যস্ত সময় পার করছে টেকনাফ উপজেলার জেলে পল্লীর মৎস্যজীবীরা। আর ওইসব শুঁটকি যাচ্ছে সারাদেশে । বিদেশ পেরিয়ে এখন বিদেশেও যাচ্ছে এই শুঁটকি সুনামের সাথে । বিদেশে এসব শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎসজীবীরা ।বিদেশের চাহিদা থাকায় প্রচুর লাভবান হচ্ছেন তারা ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, টেকনাফ উপকূলের ফিশিং ট্রলার গুলোর জালে ধরা পড়ছে চুরি, কোরাল,চাপা, রূপচাঁদা, পোপা,মাইট্যা, সুরমাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় অনেক মাছ। উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া, দক্ষিণ পাড়া, পশ্চিম পাড়া, মিস্ত্রী পাড়া এলাকায় দেখা যায় বাঁশের মাঁচায় সূর্যের তাপে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সাগর থেকে আহরিত কাঁচা মাছের জলীয় অংশ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছে।প্রতিটি মাছের ওজন ৭ থেকে ১০ কেজির উপরে আর সাথে রয়েছে ছোট ছোট প্রজাতির অনেক মাছ।
সারা বছর শুঁটকি মাছের চাহিদা থাকলেও পর্যটন মৌসুমে এসবের চাহিদা দ্বিগুন বেড়ে যায়। পর্যটন কেন্দি্রক ব্যবসা হলেও মৎসজীবীরা স্থানীয় চাহিদা পূরণে র কথা মাথায় রেখেই শুটকি উৎপাদন করে থাকে তারা। তবে সাগরে মাছের যোগান এবং আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে শুটকি উৎপাদন করা হয় বলে জানালেন জেলে পল্লীর মৎস্যজীবীরা।
এই সব শুঁটকিতে কোন বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় কিনা উত্তরে শুটকি মহালের মালিক হেলাল উদ্দিন জানান, এই সব শুঁটকি মাছ পর্যাপ্ত আলো বাতাস এবং রোদে শুকালে কোন কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে রোদের প্রচন্ডতাপ রয়েছে। এছাড়া বায়ু চলাচলেও নেই কোনো প্রতিবন্ধকতা। তাই রোদ ও বাতাসের সংমিশ্রণে দ্রুত কাঁচা মাছ শুঁটকি হিসেবে রূপানন্তরিত হয়।আর মাছে কীটনাশক না মেশালে শুঁটকির প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না বলেও জানান হেলাল উদ্দীন।
স্থানীয় শুটকি ব্যবসায়ি মোহাম্মদ আলম বলেন,তাঁর একটি মহালে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ টাকার শুঁটকি উৎপাদন হয়েছে। মাইট্যা, সুরমা,কোরাল,লাক্ষ্যা মাছে কেজি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা মতো বিক্রি হচ্ছে। বড় বড় শুঁটকিগুলোর বেশি চাহিদা রয়েছে বিদেশে। এলাকার প্রায় মানুষ প্রবাসে থাকা তাদের আত্মীয় স্বজনদের জন্যও পাঠাচ্ছে এই সব শুঁটকি।
ভয়েস/ জেইউ।