শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন
সাইফুদ্দীন আল মোবারক, টেকনাফ:
কক্সবাজার টেকনাফে চলছে ১২টি ইট ভাড়া । এসব ইটভাটার কয়েকটিতে রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তররের ছাড়পত্র । আবার একাধিক ইটভাটায় নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও । যেসব ইটভাটায় ছাড়পত্র রয়েছে সেগুলোতে মানছে না ছাড়পত্রের কোনো নিয়মনীতি । অনেক ইটভাটার ছাড়পত্র নিলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে সেগুলো নবায়ন করেনি ।
উপজেলার হোয়াইক্যং ইউপির দৈঙ্গাকাটা এলাকার দুটি অবৈধ ইটভাটা অপসারণে দিল মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট মামালা দায়ের করেন । এরপরে জেলা প্রশাসক,পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ১০জনের প্রতি গেল বছরের ৮ নভেম্বর রুল জারি করেন হাইকোর্ট । বিচারপতি মোঃ খসরুজ্জামান ও বিটারপতি মোঃ মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন । এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ইটভাটা দুটো অপসারণের নির্দেশ দেন। ইটভাটা দুটি হলো মীর কাশেমের মালিকানাধীন এম কে বি ও মোঃ আবুল হাসেম এর মালিকানাধীন এ এইচ বি ব্রিকস্ । এই দুটি ইটভাড়া অপসারণের করতে হাইকোর্ট রুল জারির পরেও এখনো পর্যন্ত অপসারণ করা হয়নি।
যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইটভাটার মালিকরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । স্থানীয়রা জানায় যুগযুগ ধরে অভৈধভাবে ইটভাটাগুলো চালিয়ে যাচ্ছে মীর কাশেম ও আবুল হাসেম । তাদের পাশাপাশি একই ওয়ার্ডে ভিন্ন মালিকানাধীন আরো চারটি ইটভাটা রয়েছে । সেসব ইটভাটাগুলোও একই কায়দায় নিয়ম বহির্ভূকভাবে চলছে । স্থানীয়রা আরো জানায় ,পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে এসব ইটভাটা । পাহাড়ী মাটি দিয়ে তৈরি করছে ইট । ইটভাটার পাশের পাহাড়গুলো কেটে সাবাড় করছে তারা । ইটভাটা কয়লা দিয়ে চালানোর নিয়ম থাকলেও ইটভাটার মালিকেরা অবৈধভাবে সরকারি বনের গাছ জ্বালিয়ে ইট তৈরি করছে । ইটভাটাগুলো ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে হওয়ায় ফসলি জমির চাষে প্রভাব ফেলছে ও শিক্ষাঙ্গণের ব্যাপক ক্ষতি করছে ।
এদিকে উপজেলার হ্নীলা ইউপির আলীখালী,লেদা ও মোছনী এলাকায় আরো ছয়টি ইটভাটা রয়েছে । সেসব ইটভাটায়ও পাহাড়ী মাটি,বনের গাছ দিয়ে ইট তৈরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে । এগুলো ঘনবসতি ও সরকারি বাগানের পাশে হওয়ায় ওই এলাকায় বসবাসকারী মানুষগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে বনও ধ্বংস হচ্ছে । তাদের কাছে সামান্য কয়লা মজুদ থাকে যা প্রশাসনের অভিযান থেকে বাঁচার জন্য রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে । তবে এসব ইটভাটার মালিকেরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এলাকার লোকেরা সহজেই মুখ খুলতে রাজি নয় ।
পরিবেশ বাদী সংগঠন গ্রীণ এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি এমপি পুত্র তারেক মাহমুদ রনি বলেন,পরিবেশের যে আইন কানুন রয়েছে সেগুলি কে বৃদ্দা আঙ্গুলি দেখিয়ে ইটভাটার মালিকরা এসস্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে । ইটভাটা যারা পরিচালনা করছেন তারা পাহাড় কেটে, গাছপালা কেটে সাবাড় করে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এগুলি পরিবেশ ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা )এর কক্সবাজার জেলার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন,যারা ইটভাটা চালায় তারা তো আইন মানবে না ,তবে যারা আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থা রয়েছে তাদের কোনো তৎপরতা আমরা দেখছি না । ইটভাটার যে নীতমালা রয়েছে বিভিন্ন জায়গা আমরা দেখতেছি যে, সব লঙল হচ্ছে । যে ডিপারমেন্ট কে এসব বিষয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা তাদের দায়িত্ব মুঠেও পালন করছে না । এখন তারা উচ্চ আদালতের আদেশ পালনে উদাসীন।
জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলার নিবার্হী অফিসার খায়সার খসরু মুঠোফোনে জানান, যদি কোর্টের কোনো নির্দেশনা থাকে তাতো আমাদের মানতেই হবে । ব্যবস্থাতো নিতেই হবে । তবে ব্যস্ততার কারণে একটু সময় লাগতেছে ।