শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল প্যারাসেইলিং মালিক ফরিদ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের উঁকিঝুঁকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈকতে পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু সৌদিতে এরদোগান-সালমান-শাহবাজ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, হতে যাচ্ছে কি প্রতিরক্ষা চুক্তি? যে কারণে ইসলামে চুপচাপ থাকাও ফজিলতপূর্ণ নতুন তালিকা হবে ইয়াবা কারবারিদের, অপহরণ রোধে বসবে দুই সেনা ক্যাম্প: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাইক্ষ্যংছড়িতে মালিকবিহীন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ার মগনামায় ওযু করতে গিয়ে মসজিদের ইমামের মৃত্যু তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ফারুকের ডিলার ব্যবসা, উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ

উপহারের ঘরে অভাবে দিন কাটছে তাদের,নেই কর্মসংস্থান!

সাইফুদ্দীন আল মোবারক, টেকনাফ:
কক্সবাজারের টেকনাফে দু’দফায় মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন ৩শ পরিবার। এতে ছিন্নমূল এসব পরিবার গুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দে বিভোর। জীবনের প্রথম নিজস্ব ঘরে ঈদ করতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

ভূমিহীন মানুষকে ঠাঁই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মায়ের ভূমিকা পালন করছেন বলে জানান এসব অসহায় পরিবারগুলো। তবে পিঠ রাখার জায়গা হলেও পেট ভর্তি ক্ষুধা নিয়ে দিন কাঁটছে তাদের। এসব পরিবার গুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে একত্রিত হওয়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের সাথে পরিচিতি না থাকায় কাজ-কর্ম পাচ্ছে না। তাদের নেই কোনো কর্মসংস্থান । যার ফলে অনাহার-অর্ধাহারে তাদের দিন কাটছে বলে জানান প্রায় অর্ধশত পরিবার।

উপজেলার হোয়াইক্যং ইউপির ৬নং ওয়ার্ড মিনাবাজার এলাকায় মুজিববর্ষের ঘর পেয়েছেন ৭২টি পরিবার। এই ৭২ পরিবারের মধ্যে ৪০-৪৫টি পরিবার একেবারে হতদরিদ্র। তাদের আয়-রোজগারের কোন ধরণের পথ নেই। কর্মসংস্থান না থাকায় কোনমতে চলছে তাদের সংসার। সামনে বর্ষাকাল আসায় আরো চিন্তা পড়ে গেছেন অসহায় পরিবারগুলো।

সরেজমিনে গেলে আব্দুর রশিদ নামে এক ব্যক্তির সাথে দেখা হয়। কথাও হয় প্রতিবেদকের সাথে। তিনি মুজিববর্ষের ঘরের কথা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের পানি ছেড়ে বলেন,প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য বটবৃক্ষের ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছেন।অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি জানান,আমি একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মানুষ। বয়স প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। বয়সের ভারে শরীর বেশ ক্লান্ত। কাজ করার মত শরীরে শক্তি এখন আর নেই। এক চোখে দেখিওনা। এ বয়সে সহধর্মিনী রাশেদা, চার মেয়ে ও ছোট এক ছেলেকে নিয়ে বেশ কষ্টে চলছে ৭জনের সাংসারিক জীবন। মুজিববর্ষের ঘর পাওয়ায় কোন দাতা সংস্থা আমাদের দিকে সুনজরে তাকাচ্ছেন না।

উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এলাকা হওয়ায় প্রায় দুই শতাধিক দেশি-বিদেশি এনজিও সংস্থা কাজ করছেন। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতাও করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়ায় এসব এনজিও গুলো আমাদের দিকে তাকায় না। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সহযোগিতাও আসেনি। অতি কষ্টে চলছে সাংসারিক জীবন।

এদিকে ‎‎‎‎হ্নীলা ইউপির মৌলভী বাজার ২৮ পরিবারের একই অবস্থা বলে জানা গেছে। সেখানে গিয়ে এক বয়স্ক মহিলার সাথে কথা হয়। জীবনের শেষ বয়সে নিজ ঘরে ঈদ করতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তিনিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় তিনি বলেন, রমজানে অনেক সময় ভালমত সাহরী ও ইফতারী জুটেনি। ছিড়া, মুড়ি ও পানি খেয়ে কেটেছে রমজান মাস।

তিনি আরো বলেন, অনেকে মনে করেন যে, রোহিঙ্গাদের মত আমাদেরকেও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা রেশন দিয়ে চালাচ্ছে। তবে আদৌ এনজিও বা অন্য কোন সংস্থার নজর আমাদের উপর পড়েনি। সরকারি কোন সংস্থার সহায়তা পেলে হয়তো আমাদের এই দূরাবস্থা একটু লাগব হতো আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারতাম। উপজেলার হ্নীলা ইউপির হোয়াব্রাং, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া ও সাবরাং ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে,একই অবস্থায় কষ্টে দিনাতিপাত করছে মুজিববর্ষে ঠাঁই পাওয়া প্রায় পরিবার। তাই মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছেন এসব পরিবারগুলো। তারার বলেন,ঘরতো দিয়েছেন যদি কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো তাহলে আজীবন ঋণী হয়ে থাকতাম।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান,এসব পরিবার গুলো আমাদের নজরে রয়েছে। কোন বরাদ্ধ পেলে তারাই আগে পাবে।
হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন,ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমাদের সুনজর আছে। পাশাপাশি এনজিও গুলোকেও এসব পরিবারের প্রতি দৃষ্টি রাখার আহবান জানাচ্ছি।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION