রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে’ রেজুখালে গোসলে নেমে কিশোরের মৃত্যু সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে মৌসুমের প্রথম যাত্রা: ৮ শতাধিক পর্যটকের উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পেল প্রবাল দ্বীপ টেকনাফে ১১ লাখ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার হরমুজের কাছে ২টি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের ঝলমলে ত্বকের জন্য ঐশ্বরিয়ার ভরসা মাত্র তিন অভ্যাস যে মোরগের লেজের পালকের দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট ঘুরতে যাবেন? জেনে নিন ২০২৭ সালে লম্বা ছুটি পড়বে কোন কোন মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে, জানালো ইরান

পরের জমিতে আলোচিত সাহেদের ছবি: সর্বত্র আলোচনার ঝড়

ইমাম খাইর:
নিজের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালে অনুমোদনহীন টেস্ট কিট এবং করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্ট ব্যবসা করে বিশ্বব্যাপী আলোচিত সাহেদের আরেকট বাটপারি ধরা পড়েছে।

সম্প্রতি তাকে নিয়ে দেশীয় মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় উঠে। এরপর থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে তার নেপথ্যের অনেক অজানা কাহিনী।

সরকারের মন্ত্রী, এমপি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সরকারি আমলাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা অসংখ্য সেলফি তার ফেইসবুক পেইজের শোভা বর্ধন করে চলেছে।

শুধু নেতা বা আমলা নয়, পরের জমিতে ছবি তুলে সাহেদের বাটপারির কথাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রচারিত হচ্ছে।

কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রোডের ইমামের ডেইল এলাকার “রিজেন্ট গ্রুপ ” সাইনবোর্ড লাগানো একটি জায়গার সামনে দাঁড়িয়ে পোজ দেন সাহেদ। যে ছবিটি এখন নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

‘রিজেন্ট’ নামের মিল থাকলেও এই ‘রিজেন্ট’ সেই ‘রিজেন্ট’ নয়।

সাইনবোর্ডের “রিজেন্ট গ্রুপের “এর মালিক সাবেক রাষ্ট্রদূত চট্রগ্রাম এর গোলাম আকবর খন্দকার। তিনি জমিগুলোর প্রকৃত মালিক।

কিন্তু এখানে শাহেদের ছবি তোলাও একটা বড় বাটপারি বলে মনে করছে স্থানীয়রা।

উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী নিজের ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন- মেরিন ড্রাইভ রোডের ইমামের ডেইল এলাকায় বাটপার শাহেদের তোলা ছবিটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে ।এটাও একটা বড় বাটপারি। এই জমিগুলোর প্রকৃত মালিক আসল “রিজেন্ট গ্রুপ ” যার অফিস ঠিকানা- ডেল্টা ডালিয়া, কামাল আতা তুর্ক রোড, বনানী,ঢাকা। শাহেেদের “রিজেন্ট” ২ নং রিজেন্ট। অফিস ঠিকানা -উত্তরা, ঢাকা। আসল “রিজেন্ট গ্রুপের “এর মালিক সাবেক রাষ্ট্রদূত চট্রগ্রাম এর গোলাম আকবর খন্দকার।আমার জানামতে, গোলাম আকবর খোন্দকার সাহেবের “রিজেন্ট গ্রুপ ” নামের কোম্পানিটি ১৯৮৮ইং সালে রেজিষ্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে নিবন্ধন কৃত। দীর্ঘ দিন এই কোম্পানি সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ২০১৪/২০১৫ইং দিকে হঠাৎজনৈক শাহেদ “রিজেন্ট গ্রুপ” নামে আর একটি কোম্পানির জন্মদান করে।যা বেআইনী ও ফৌজদারি আপরাধ।এই প্রক্ষাপটে ২০১৫ইং সালের অক্টোবর মাসে গোলাম আকবর খোন্দকার আইনজীবির মাধ্যমে রেজিঃ ডাকযোগে শাহেদের ২ নম্বর “রিজেন্ট গ্রুপের ” বরাবরে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। কিন্তু শাহেদ ক্ষমতাশালীদের কাছের মানুষ হওয়ায় আইনের তোয়াক্কা না করে” রিজেন্ট গ্রুপ “নাম দিয়েই অদ্যবদি তার কুকর্মগুলো চালিয়ে আসছিল। বেটা শাহেদ যে কত বড় বাটপার ও ২ নম্বর আদম ,তা ইমামের ডেইলে গোলাম আকবর খোন্দকারের আাসল “রিজেন্ট গ্রুপের ” জমির সাইন বোর্ড ব্যাগগ্রান্ড রেখে তোলা ছবি খানায় তার প্রমান।পাঠকের কাছে প্রশ্ন রইল, আপনার বাড়িকে ব্যাকগ্রান্ড রেখে ছবি তোলে আমি কি বাড়ির মালিক হতে পারি?

এখন জানা যাচ্ছে, প্রতারণার অভিযোগে এক সময় জেলেও যেতে হয়েছিল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম নেওয়া সাহেদকে। কিন্তু ‘প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যের’ জোরে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতেও পদ পেয়ে গিয়েছিলেন।

সাহেদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের ছবি যেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে, তেমনি বিএনপি আমলের কয়েকজন হোমড়া চোমড়ার সঙ্গে তার ছবি আর পেপার ক্লিপিং বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

বলা হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধে ফাঁসিতে ঝোলা জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলী এবং দুর্নীতির দায়ে জেলে থাকা গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা ছিল সাহেদের।

তাকে হরহামেশাই অতিথি করে আনা হত টেলিভিশনের টক শোতে। অনেক সাংবাদিক তার প্রশংসায় ফেইসবুকে পোস্ট দিতেন। তার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য কয়েকজন সাংবাদিককেও এখন সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এদিকে, মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও তলব করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে নমুনা টেস্ট না করেই রোগীদের করোনার রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ পায় তারা। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ, এমডি মাসুদ পারভেজসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ ঘটনায় ৯ জন গ্রেফতার হয়। তবে সাহেদ এখনও পলাতক। হাসপাতাল দুটি ও রিজেন্ট গ্রুপের অফিস সিলগালা করে দিয়েছে র‌্যাব।

এমএলএম ব্যবসা থেকে শুরু করে নানারকম জালিয়াতি-প্রতারণার ডজন ডজন মামলার খবর ঢেকে রেখেছেন সাহেদ।

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম; করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন তাকে খুঁজছে।

জানা গেছে, সাহেদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। তার পিতার নাম সিরাজুল ইসলাম। যিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে ৯ জুলাই রাত ৯টার দিকে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে (সাবেক আয়েশা মেমোরিয়াল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা সাহেদ অল্পদিনেই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তাকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২টি মামলার সন্ধান মিলেছে।

সাহেদ ফেইসবুক পেইজে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছেন।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION