রবিবার, ২১ Jul ২০২৪, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

হিজরি সন ইমানি চেতনার উৎস

হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর:
হজরত রাসুল (সা.)-এর ঐতিহাসিক হিজরতের উজ্জ্বল স্মারক পবিত্র হিজরি সন। জীবনধারায় সন-তারিখের প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি থেকে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) তার শাসনামলে হিজরি সনের প্রবর্তন করেন।

হিজরি সনের সূচনা : ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) তার শাসনকালে লক্ষ করলেন, সরকারি নথিপত্রে মাস লেখার নিয়ম থাকলেও বর্ষ লেখার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ও জনসাধারণের জীবনধারায় ব্যাপক বিড়ম্বনা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল। এ ব্যাপারে প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু মুসা আশআরিও হজরত ওমর (রা.)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফলে তিনি হজরত ওসমান (রা.), আলি (রা.) প্রমুখ শীর্ষ সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শক্রমে হজরত রাসুল (সা.)-এর ঐতিহাসিক হিজরতের স্মৃতিকে ধারণ করে ৬৩৯ ইসায়ি সনে হিজরি সন নামে স্বতন্ত্র এই সনের ধারা প্রবর্তন করেন।

আমলের সঙ্গে হিজরি সনের সম্পর্ক : সমগ্র বিশ্বের সব মুমিন মুসলমানের অন্তরজুড়ে রয়েছে হিজরি সনের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। মুসলিম উম্মাহর কাছে এই সন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সমাদৃত। মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগি, আমল ও অনুশাসনের সঙ্গে হিজরি সনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। যেমন : নামাজের নির্ধারিত সময়, রোজা, হজ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, আশুরা, আইয়ামে বিজসহ প্রভৃতি ইবাদত ও আমলের উপলক্ষের সঙ্গে হিজরি বর্ষ তথা চাঁদের তারিখের সম্পৃক্ততা অনস্বীকার্য।

ফরজে কেফায়া : শরিয়তের বিধানাবলির সময় নিরূপণের ভিত্তি যেহেতু চাঁদের তারিখ সেহেতু এই তারিখ তথা হিজরি বর্ষের হিসাব সংরক্ষণ করা ফরজে কেফায়া। হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলি থানভি (রহ.)-সহ প্রখ্যাত ফকিহরা এই মর্মে ফতোয়া প্রদান করেছেন। হিজরি বর্ষের হিসাব রাখার সহজ পদ্ধতি হলো প্রাত্যহিক কাজকর্মের রেকর্ড সংরক্ষণ ও লেখালেখিতে চাঁদের তারিখ ব্যবহার করা।

বাংলাদেশে হিজরি সন : বাংলাদেশে প্রচলিত সর্বাধিক প্রাচীন সন হলো হিজরি সন। এদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে হিজরি সনেরও ক্রমবিকাশ ঘটে। ফলে হিজরি সন এদেশের রাষ্ট্রীয় সন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল। এখনো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রাত্যহিক জীবনকর্মে হিজরি সনের প্রভাব ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তাই অন্যান্য সনের পাশাপাশি হিজরি সনকেও দাপ্তরিক সন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রাণের দাবি।

ইমানি চেতনার উৎস : শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাওহিদ ও রেসালাতের পতাকাতলে মানবজাতিকে আহ্বান করার কারণে মক্কার কাফেরদের দ্বারা যখন চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন এমনি ক্রান্তিকালে মহান আল্লাহ প্রিয় হাবিবকে হুকুম করলেন, মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করার জন্য। যে মক্কার সঙ্গে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আত্মা ও নাড়ির সম্পর্ক সে প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে মহান আল্লাহর নির্দেশে তিনি ৬২২ ইসায়ি সনে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। এ সময় তিনি মদিনার দিকে রওনা হয়ে কাবার দিকে তাকিয়ে বারবার বলছিলেন, ‘তোমাকে বড় ভালোবাসি, তোমাকে বড় ভালোবাসি। কিন্তু তোমার প্রতিবেশীরা আমাকে তোমার কাছে থাকতে দিল না।’ এভাবে আল্লাহর নির্দেশ পালনে নিজের মাতৃভূমি ত্যাগ করার আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক ঘটনাকে সূত্র করেই হিজরি সনের সূচনা। মূলত বছর শেষে মুহররমের এক ফালি বাঁকা চাঁদ উদিত হয় হিজরতের সেই শাশ্বত চেতনা ও ইমানদীপ্ত আহ্বান নিয়ে। এভাবে যুগ-যুগান্তরে মুমিনের অন্তরে হিজরি সন সঞ্চার করবে অনন্ত ইমানি চেতনা। আসুন, হিজরি নতুন বর্ষের শুভাগমনের এই মহতি সন্ধিক্ষণে অতীতের গুনাহ থেকে তওবা করে নিই এবং ভবিষ্যতে মহান আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.)-এর তরিকা মুতাবেক আদর্শিক জীবনধারার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করি।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION