মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে পৃথক দুইটি অভিযানে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় চারজন কথিত মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত একটি ডাবল কেবিন পিকআপ এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
বিজিবি জানায়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশিকালে মৌলভীবাজার থেকে টেকনাফ হয়ে চট্টগ্রামগামী একটি ডাবল কেবিন পিকআপ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: চট্ট মেট্রো-ঠ-১১-০৩০৯) থামানো হয়। সন্দেহের ভিত্তিতে গাড়িটি তল্লাশি করে পেছনের সিট কভারের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।
এ সময় পিকআপের চালক মো. সাইফুল ইসলাম (৩১)-কে আটক করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার গোসাইলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। একই সঙ্গে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
একই রাতে রাত ৯টার দিকে উখিয়ার পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী উলুবুনিয়া মাঝেরকাঠি এলাকায় অভিযান চালায়। টহল দল মিয়ানমার সীমান্ত থেকে তিন ব্যক্তিকে পোটলা হাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে তাদের থামার নির্দেশ দেয়। এ সময় তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উখিয়ার কাটাখাল এলাকার রাসেল (২৩), একই এলাকার শাকিল (২২) এবং এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) সদস্য খাইরুল আমিন (২৪)। পরে তাদের বহন করা পোটলা তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ৩৪ কার্টনে মোট ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
দুই অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মোট পরিমাণ ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সীমান্ত ব্যবহার করে যত বড় সিন্ডিকেটই মাদক পাচারের চেষ্টা করুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও পেশাদার দক্ষতার সমন্বয়ে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ রোধে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি টেকনাফ ও উখিয়া এলাকার বাসিন্দাদের মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সহায়তায় সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান নির্মূলে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
বিজিবি জানায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যাটালিয়নটি ধারাবাহিকভাবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছে।
ভয়েস/আআ