রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
সেন্টমার্টিন ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খোলা প্রতিপক্ষ ফুটবলারের ওপর রাগ কমছে না নেইমারের, পাল্টা বক্তব্য নেস্তরের রামুর রশিদ নগর ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার: চুরির ৯৬ লাখ টাকা ভাগ নেওয়ার অভিযোগ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে নিম্নচাপটি, কবে কোথায় আঘাত হিমছড়ি সমুদ্রে গোসলে নেমে তিন পর্যটক নিহতের ঘটনায় নিখোঁজ আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার কৈলাশে ফিরে গেলেন মা দুর্গা: সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে লাখো মানুষের ঢল হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ সৌদি আরবের মদিনা-পূর্বাঞ্চলে ৫টি ড্রোন ছুড়ল হুথিরা স্থানীয় নির্বাচন: বিদ্যমান আইনেই তফসিল, সুযোগ থাকছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উখিয়া ও টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৪

সুন্নতে নববির পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ

মুহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাত:

নবম হিজরি। রমজান মাস। প্রচন্ড দাবদাহে মদিনাবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। সূর্য অগ্নিরূপ ধারণ করেছে। মদিনার অলিগলিতে বয়ে যাচ্ছে লুহাওয়া। বাগানে থোকায় থোকায় খেজুর হলুদাভ হয়ে উঠেছে। একদিকে খাদ্য সংকট, অন্যদিকে নতুন ফসলের হাতছানি। এমন সময় ডাক এলো তৎকালীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ পরাশক্তি রোম সাম্রাজ্যের সঙ্গে জিহাদের। মদিনা থেকে প্রায় ৭০০ কিমি দূরের পথে যাত্রা শুরু করলেন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার কাফেলা। মাথার ওপর সূর্যের তীব্র প্রখরতা আর পায়ের নিচে পাথুরে মাটি যেন অগ্নিগোলা! খাদ্য সংকট, যুদ্ধ সরঞ্জাম ও রসদের তীব্র অভাব আর সমস্ত প্রতিকূলতাকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেমে ভাসিয়ে দিয়ে ছুটে চলল কাফেলা। মদিনা প্রায় খালি হয়ে গেল। শুধু মুনাফিক আর মুষ্টিমেয় কয়েকজন সাহাবি ছাড়া বাকি সবাই তাবুকের পথে। যে মুষ্টিমেয় কয়েকজন মদিনায় রয়ে গেলেন তাদের মধ্যে একজন হজরত আবু খায়সামা (রা.)।

কাফেলায় যোগ না দেওয়ায় তার মনে শান্তি নেই, তাই তিনি বাগানে গিয়ে পায়চারি করছেন। নয়নাভিরাম খেজুর বাগান, পাকা খেজুরের হাতছানি, বাগানের শীতল ছায়া কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ছটফট করছে আবু খায়সামা (রা.)। তিনি ভাবতে লাগলেন মানবতার মুক্তির দূত, শাফায়াতের কান্ডারি, আল্লাহর প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তপ্ত পাথুরে পথ পাড়ি দিচ্ছে আর আমি আরামদায়ক বিছানায় বিশ্রামে থাকব! না, তা কখনো হতে পারে না। তার রক্তপ্রবাহে নবীপ্রেমের ঢেউ বয়ে গেল। অন্তরাত্মায় প্রচন্ড এক ঝড় উঠল। সঙ্গে সঙ্গে পার্থিব সুখের সব আয়োজনকে দুমড়ে-মুচড়ে রওনা হলেন যুদ্ধের জন্য, নিজেকে বিলীন করে দিলেন নবীর প্রেমের সুগভীর সমুদ্রে। আবু খায়সামা ময়দানে পৌঁছালে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাকে সম্বোধন করে বললেন, ‘ধ্বংসের উপত্যকা থেকে তুমি বের হয়ে এসেছো, তোমাকে স্বাগতম।’

এমন অসংখ্য ত্যাগের সমুজ্জ্বল সাধনায় ভাস্বর ছিল নবী করিম (সা.)-এর সাহাবাদের জীবন। কারণ তারা আল্লাহর নির্দেশ ও নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীকে বুকে ধারণ করেছিলেন এবং যথার্থ বাস্তবায়ন করেছিলেন। মহান রবের ঘোষণা হলো, কেউ যদি আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চায়, সে যেন প্রিয়নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্য করে। আর আল্লাহর হাবিবের বাণী হলো, ‘ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ পরিপূর্ণ ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে বেশি প্রিয় হব না তার মাতা-পিতা, সন্তান-সন্ততি, সব মানুষ ও সবকিছুর চেয়ে।’ সহিহ বোখারি

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার এই মানদন্ড দ্বারা প্রত্যেকে নিজ নিজ ইমান যাচাই করে নিতে পারেন। অন্যথায় নিজের ব্যাপারে সতর্ক হন; এখনো সংশোধন হওয়ার সময় আছে। এখন তো রবিউল আউয়াল এলে শুধু আমরা নবীপ্রেমের চর্চা করি। অন্যান্য পার্থিব বিষয়ের মতো দ্বীনের বিষয়কেও যেন আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি! এ মাস এলে মনে পড়ে রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনে আইয়্যামের জাহেলিয়াতের অমানিশার কালো মেঘ সরে গিয়ে পৃথিবী আলোর মুখ দেখেছিল। পাপাচার আর মূর্খতার অভিশপ্ত রাত পেরিয়ে সৌভাগ্যের আলো ঝলমল প্রভাত এসেছিল। এ মাসেই আমাদের মনে পড়ে মানবাধিকার বঞ্চিত সমাজে প্রিয়নবী এসেই মানবাধিকারের বীজ বপন করেছিলেন, ফিরিয়ে দিয়েছেন নারীর অধিকার এবং বসিয়েছেন সম্মানের এক অনন্য উচ্চতায়। অত্যাচার, অনাচার আর সব অনৈতিকতা প্রতিকারের মহৌষধ নিয়ে তিনি পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, মানবতাকে ধ্বংসের উপত্যকা থেকে টেনে তুলে সত্যিকারের এক মানবিক সমাজ উপহার দিয়েছিলেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

কিন্তু কীভাবে তিনি এসব করেছিলেন তার কথা আমাদের স্মরণে আসে খুব কম। আমরা ভুলে গেছি প্রিয় রাসুলের সংগ্রামী জীবনের কথা, তার ওপর কাফের-মুশরিকদের অত্যাচারের কথা। আমরা ভুলে গেছি তার শিক্ষানীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি ও সমরনীতির কথা। দুজাহানের বাদশাহ হওয়ার পরও অতি সাধারণ জীবনযাপনের কথা আমরা ভুলে গেছি। ভুলে গেছি তায়েফের ময়দানে পাথরে পাথরে জর্জরিত হওয়ার রক্তাক্ত ইতিহাসের কথা। ভুলে গেছি বদরের ময়দানে অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ, উহুদের রক্তের স্রোতোধারা, খন্দকের ভয়াল রাতের কঠিন পরীক্ষা, হুনায়নের যুদ্ধে শত্রুদের তীরবৃষ্টি, তাবুকের চামড়া ঝলসে দেওয়া সূর্যতাপ! প্রিয়নবীর হিজরতের কথা, প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যাওয়ার সে কী বেদনা, প্রিয়নবীর প্রিয় সাহাবিদের জ্বলন্ত কয়লার ওপর টানাহেঁচড়া করা, গলায় রশি পেঁচিয়ে মক্কার গলিতে ঘোরানোর নির্মমতা আমরা ভুলে গেছি। আমরা ভুলে গেছি আল-আরওয়া থেকে তাবুক পর্যন্ত ২৭টি যুদ্ধে প্রিয়নবীর সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা।

আজকে আমরা রাসুল-প্রেমের কথা বলি, অথচ নিজেদের কথা-কাজে, চিন্তা-চেতনায়, শিক্ষা-দীক্ষায় কতটুকু তা লালন করি বিরাট প্রশ্নসাপেক্ষ। যে রাসুল (সা.) সারাজীবন উম্মতের জন্য কেঁদেছেন সেই উম্মত হয়ে আমরা কতটুকু কী করছি তা ভাবার বিষয়। আল্লাহর জমিনে দ্বীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠার জন্য রাসুল (সা.) সারাজীবন যে সাধনা ও ত্যাগ দিয়েছেন তা নিজেদের জীবনে কতটুকু ধারণ করি বা রাসুল (সা.)-এর প্রেমে নিজেদের সঁপে দেওয়ার জন্য আমরা কতটুকু প্রস্তুত তা গভীরভাবে ভাবতে হবে।

সময় এসেছে চিন্তার পরিধিকে প্রসারিত করে আনুষ্ঠানিকতার বাহুল্যকে প্রাধান্য না দিয়ে মৌলিকত্বের দিকে বেশি বেশি ফোকাস করা। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রিয়নবীর (সা.) দর্শনচর্চা করে ইসলামের সুমহান ও কালজয়ী আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করা।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION